ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

“বই”। একটা সময় ছিল যখন বই নিয়ে  মানুষ চিন্তা করতো। বই কে ঘিরে থাকতো মানুষের আনন্দ বিনোদন,সুখ, দুঃখ আর ভালবাসার গল্প। মানুষের সাথে মানুষের কথোপকথনের বিষয় থাকতো বই সমর্পকিত। বই ছিল মানুষের জীবন দর্শন। মানুষ তার সূক্ষ্ম অনুভূতির প্রকাশ দেখতে পেতো বইয়ের মধ্যে। বই পাগল মানুষের মনোযোগ পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা কেড়ে নিয়েছে। মানুষের জীবনে আজকাল অনেক বেশী অর্থহীন ব্যস্ততা। বই প্রেমীদের মনে বই প্রেম নেই।

IMG_20160405_202713

একটা সময় প্রেমিকটি তার প্রেমিকাকে উপহার হিসেবে দিতো তার কোন প্রিয় লেখকের বই। তাদের একান্ত আলোচনার বিষয় থাকতো প্রিয় বইয়ের চরিত্রকে কেন্দ্র করে। আজকাল বইয়ের বদলে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় দামি মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ইত্যাদি। প্রেমিক প্রেমিকাকে চিঠি লিখতো তার প্রিয় কোন লেখকের বই অনুসরণ করে। এখন চলে ম্যাসেজ, স্কাইপিতে ভাবের বিনিময়। একটা সময় প্রেমিকের লেখা চিঠি গুলো ছিল প্রেমিকার কাছে জমানো শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কতো কতো রাত প্রেমিকা তাকে লেখা চিঠি গুলো পড়ে রাত পার করতো। তাই মানুষের অনুভুতির তীব্রতাও অনেক বেশী ছিল।

NN 1

একটা সমাজকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা অত্যাবশ্যক। পুঁজিবাদী  শিক্ষিত সমাজ সাহিত্য বিদ্বেষী হয়ে উঠেছে। বই মানুষের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামে গ্রামে তথ্য প্রযুক্তি বিস্তারের সাথে পাঠাগার স্থাপন  করার প্রতি গুরুত্ব  দেওয়া দরকার। মানুষের ভিতরের সৃজনশীলতা এবং মননশীলতাকে তুলে ধরতে হলে বই পড়ার ব্যাপারে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে হবে।

বই পড়ার মতো নির্মল বিনোদন আর কিছু নেই। বছর জুড়ে বই মেলাকে কেন্দ্র  করে গড়ে উঠতে পারে বৃহৎ বিনোদন ইনডাসট্রি। তা সরকারি আয় অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে। তার জন্য চাই জনগণের সচেতনতা, দেশপ্রেম এবং নিজ সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা। তবেই আমরা একটি  সুন্দর দেশ পাবো ঠিক একটি সুন্দর কবিতার মতো।