ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোর একটি  হলো কমলাপুর রেল  স্টেশন। অথচ কতোটা করুণ অবস্থা  একমাত্র তারাই জানে যারা এই রুটে নিয়মিতভাবে যাতায়াত করে।ট্রেন  স্টেশনে পৌঁছানো মাত্র কিছু টোকাই চলে আসবে। আপনার ব্যাগ নিয়ে টানাটানি শুরু হবে। এরপর আসবে নানা রকম রঙিন ভিক্ষুক যাদের কারো চোখ নেই, কারো পা নেই, কারো হাত নেই কিন্তু মুখে আছে কঠিন কথা বলার প্রচনড মেধা। তারা জোর করতে থাকবে তাদের কে টাকা দেওয়ার জন্য।  তাদের সাথে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর ঘাম মুছতে মুছতে যখন টিকিট কাউন্টারে টিকিট কাটতে যাবেন আপনি কাউনটারে পৌছাতে পারবেন না দালালদের কারনে। তারা বলতে থাকবে প্রথম শ্রেণীর টিকিট নেই বিক্রি শেষ। অথচ টিকিট কাউন্টারে লেখা ’কাউনটার ছাড়া টিকিট ক্রয় করবেন না। দালাল হতে সাবধান।’

IMG_20160423_134938

কাউন্টারের সামনেই দালালরা বুক ফুলিয়ে দাপটের সাথে টিকিট বিক্রি করছে। রেলষ্টেশনের যেসব প্রতারণামূলক নাটক চলে তা যে কোন মানুষের চিন্তাকে নাড়া দিবে। আমরা সেই দেশে বসবাস করি যেখানে বুক ফুলিয়ে অন্যায়গুলো করা যায়। তারপর অনেক কষ্টেসৃষ্টে যখন একটা ৭০০টাকার টিকিট ১৪০০ টাকা দিয়ে কিনে ট্রেনে উঠবেন তখন দেখবেন আপনার সিটের ফার্স্ট ক্লাস সিটে কলার খোসা, চিপসের প্যাকেট বীরদর্পে বসে আছে। তারপর ধীরে বহে তিতাস দেখতে দেখতে ট্রেন যখন গন্তব্যে পৌঁছাবে আপনি আরো একবার চোখে অন্ধ দেখবেন। ট্রেন থেকে নামার পর আবার ভিক্ষুকের কবলে পরবেন। এরপর সিএনজির জন্য অপেক্ষা করবেন তা দেখে ইচ্ছা করে ড্রাইভাররা ডাবল ভাড়া বলবে। যদি মিটারের কথা বলেন, এতো ভাড়া বেশি চান কেন বলেন তখন অনেক বাজে ভাষায় কিছু কথা শুনিয়ে দিবে। সিএনজি ড্রাইভারদের সিন্ডিকেটের কাছে সাধারন জনগন জিম্মি। মিটারে চালানোর নিয়ম থাকলেও কেউ মিটারে চালায় না। জনগনকে জিম্মি করে বেশি ভাড়া আদায় করে। তারমানে এখন ঘর থেকে বের হলেই আপনি বাস,ট্রেন, সিএনজি, রিকসা সব ড্রাইভারদের কাছে আপনি অসহায়। সব কিছু মহা আনন্দ নিয়ে চলছে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।