ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দৃশ্য ০১:
গত ৫ জুন চিটাগাং নিজের ছেলে মাহির কে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়ে সকালে রাস্তায় সবার সামনে উপর্যুপরি ছুড়ির আঘাত এবং গুলিতে ৩২ বছর বয়সী মিতুর মৃত্যু হয়। মাহমুদা খানম মিতু সর্বদা হাসি খুশি সহজ সরল এবং ধার্মিক মহিলা ছিলেন।এই সব তথ্য তার নিকটজনদের কাছেই পাওয়া গেছে। এতো অল্প বয়সে দুটি ছেলে মেয়েকে রেখে নিমর্মভাবে দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া দেশবাসী স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রিয়তম স্ত্রীকে হারিয়ে এসপি বাবুল দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় আর টিভি পেপারে শুধু তাকে সান্ত্বনা আর সন্ত্রাসীর প্রতি ক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

দৃশ্য ০২:
হঠাৎ জুনের শেষের দিকে হঠাৎ বাবুলকে পুলিশ দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়। অনেকটাই যেন অন্যরকম রহস্য। তার প্রতি পুলিশ বাহিনীর আচরনটাও কেমন পাল্টে গেল।তার বাসা থেকে পুলিশ সিকিউরিটি তুলে নেয়া হলো।
এই সূযোগে বিক্রিত মিডিয়া নানা রকম রঙিন গল্প আর নাটক সাজাতে লাগলো। তার ব্যক্তিজীবন কে নিয়ে এতো সুন্দর গল্প হয়ে গেছে যা তার পরিবারও জানে না।

দৃশ্য০৩:
জুলাইয়ের শুরুতে ঘটে গেলো আরেক দুর্ঘটনা। গুলশান ট্রাজেডি। সেই ট্রাজেডিতে এসপি বাবুলের ট্রাজিডি অনেকটা ঢাকা পড়তে লাগলো। এর মধ্যে আফসানা হত্যা, তনু হত্যা, বাসাবোতে মায়ের হাতে দুই শিশু হত্যা সব মিলিয়ে যেন মানুষগুলোর মন আতংকে ভরা। তারপরও জীবন চলে।প্রাত্যহিক জীবনের নিয়মে চলছিলো সব কিছু। হঠাৎ সেদিন দীর্ঘ দিন পর বাবুল আকতার তার স্ত্রী কে স্মরন করেন এবং ব্যক্তিগত জটিলতার জন্য কষ্ট আর অসহায়ত্ব কে প্রকাশ করেন। আবার মিডিয়া সজাগ হয়।

দৃশ্য ৪:
কেউ বলছে বাবুল আকতারকে জোর করে পদত্যাগ পত্রে সই করিয়ে নেয়া হয়েছে। জঙ্গি দমনে তার অনেক অবদান আছে। সেটা গোটা দেশ বাসী সবাই জানে। তবে কেনো আজকে নিজের চাকরি ফিরে পেতে তাকে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হচেছ। এ কেমন দেশ। নিজের পেশার জন্য যে দূর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কেনো তার চাকরি কৌশলে ছিনিয়ে নিয়ে অসহায় করে দেয়া হচেছ।এ কেমন শাস্তি! যদি সে অপরাধ করে থাকে তাকে বিচারের মুখোমুখি করানো হোক। সত্য কেনো ছায়া হয়ে থাকবে।

মতামত:
আমি ব্যক্তিগত জীবনে তেলেগু এবং তামিল সিনেমা প্রচুর দেখি। কারন সেখানে জীবনের সত্য গুলো স্পস্ট করে দেখানে। দক্ষিনের সিনেমা গুলো সাধারন মানুষের জীবনের সাথে পুলিশের ভূমিকা, ভালো মন্দ এবং জীবন সংগ্রাম ও থাকে। কারন বেশির ভাগ সিনেমা গুলো জীবন ঘেষা। একজন সৎ পুলিশ অফিসারের জীবন কে কেমন করে অসহায় করে দেওয়া হয় আমি যেন বাবুল আকতার কে সেই মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে দেখতে পাচিছ। সিনেমায় সৎ পুলিশ অফিসার সব হারানোর পর ও সে সততার মূল্য পায়। আশাকরি এসপি বাবুল আকতারও পাবেন। আর যারা তার সাফল্যে হিংসাত্মক হয়ে এই আর্তনাদের চিত্র তৈরী করছে তাদের খেসারত তারা ভোগ করবে। সত্য বের হয়ে আসুক। আমরা সততার জয় দেখতে চাই।
আমাদের দেশে জ্ঞানী বুদ্ধিজীবীরা সিনেমা বোদ্ধারা গল্প খুঁজে পায় না। চিত্রশিল্পীরা ছবি দৃশ্য খুঁজেঁ পায় না। অথচ প্রতিদিন আমাদের আশেপাশে সিনেমার শিহরন কে অতিক্রম করে যায় কতো কিছু ঘটে যাচেছ। আমরা দেখেও না দেখার ভান করছি। বুঝেও না বুঝার উছিলায় চুপ হয়ে আছি। শিল্প সাহিত্যের কাজই মানব জীবনকে তুলে ধরা। সত্যকে উন্মোচন করা। আমাদের শিল্প জগত কিছু নোংরা কাহিনী আর চরিত্রহীন চরিত্রে থাকা মানুষকে দেখায়। আমরা মূল্যবোধ শিখবো কিভাবে। আমাদের সন্তানেরা সুন্দর ভবিষ্যত দেখবে কিভাবে।

এই সমাজের মানুষের বিবেক জাগ্রত হোক। অন্যায় নিপাত যাক। সত্য উদঘাটিত হোক। মানুষের দেখার জগৎ প্রসারিত হোক । মানুষের হৃদয় ভালোবাসতে শিখুক।