ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
images

গত জুনে আমার বর বাংলাদেশ থেকে একটি কনফারেন্স এ জয়েন করার জন্য এবং এ্যাওয়ার্ড গ্রহনের উদ্দেশ্যে আমেরিকার বোস্টনের পথে রওয়ানা হয়। রুট টা যাওয়ার সময় ছিল বাংলাদেশ – রোম – আবুধাবি – বোস্টন আর ফেরার সময় বোস্টন – ফ্রান্স- রিয়াদ- বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য গত মার্চ মাসে তিনি বেস্ট সায়েন্টিস্ট হিসেবে আমেরিকার শীর্ষ ধনী বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস এ্যাওয়ার্ড জিতেন। জুন মাসে সে বিল গেটসের কাছ থেকে এ্যাওয়ার্ড নেন। কিন্তু এতো সুন্দর স্মরনীয় ঘটনার মধ্যে যা ঘটলো। আমার শশুর তখন অসুস্থ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আমাদের সবার মন মানসিকতা ভীষন খারাপ। সে ভাবেনি যে প্রোগ্রামে যেতে পারবে। আমাদের সবার মানসিক সহযোগীতায় সে রওয়ানা হয়। পনেরো দিনের ট্যুর। সে কমিয়ে এক সপ্তাহ করে।

আমার যাওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারনে বাদ হয়। আমি একটা ব্লাক স্যুট, দুটো শার্ট, তিন চারটা টি শার্ট দিয়ে দেই। খুব অল্প কিছু। একজনের একটা ছোট ট্রলি লাগেজ । যাওয়ার সময় বাংলাদেশ বিমান বন্দর থেকে স্যুট কোর্ট টা চুরি হয়ে যায়। ট্রলি লাগেজ টা ভেল্টে ছিল। সব কিছু ঠিক থাকলে ও শুধু স্যুট টা নেই। তাও নিরাপদ জায়গা থেকে। ভেল্ট থেকে নেওয়ার পর সে লাগেজের কোন কিছু চেক করেনি। পরদিন উদ্বোধনী প্রোগ্রাম। সকালে লাগেজ খুলে দেখে সব ঠিক। শুধু স্যুট নেই। খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতি। যাইহোক পুরো ট্যুরটা তার সুখের মাঝে দু:খে কেটেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় এই ব্লাক স্যুটটা জাপানে Aoki ব্রান্ড থেকে কেনা। যা আমি তার রিসার্চের ফলাফলে খুশি হয়ে দিয়েছিলাম। তিনি দুটো ক্যামিক্যাল আবিস্কার করেছেন। যা গবেষকরা দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে গবেষনা করে আসছিল। এটা ছিলো আমার কাছ থেকে বিশেষ উপহার। তাই ভাবছিলাম এমন কিছু যেনো সারাজীবন মনে থাকে।

আমি তখন জাপানে স্কুলের চাকরি করি। আমার জাপানি সহকর্মীদের জানালে ওরা আমাকে স্যুট গিফটের কথা সাজেশন দেয়। কিন্তু জাপানে মানাসই স্যুটের দাম অনেক। একজন জাপানি বান্ধবী আমাকে Aoki ব্রান্ড এর মেম্বার কার্ড দিলো। যে স্যুট টা পছন্দ হয়েছে তা অনেক দাম প্রায় এক লক্ষ ইয়েন। অবশেষে মেম্বার শীপের জন্য কিছু কমিয়ে ৬৩ হাজার ইয়েনে কেনা হলো। আমি প্রতি মাসে আলাদা কিছু ইয়েন জমিয়ে রাখতাম তাকে গিফট করার জন্য।

আমার এই উপহার তাকে ভীষন সুখি করেছিল। বাংলাদেশ বিমান বন্দরে সে সুখটা অনেক নিরাপদ জায়গা ভেল্ট থেকে চুরি হয়ে গেল। আমার বর প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে। সে বিমান বন্দরে অভিযোগ করে। কিন্তু এই বাংলাদেশে যা যায় তা ফিরে পাওয়া যায় না।  আসলে স্যুটের সাথে কিছু একান্ত আবেগ আর ভালোবাসাও চুরি হয়েছে!

এখন কথা হলো ভেল্ট থেকে যদি চুরিই হয় তাহলে নিরাপত্তার কী প্রয়োজন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটা ছোট নরমাল লাগেজে যে একটা দামি স্যুট আছে সেটা নিশ্চয়ই সাধারন কারও জানার বা চেনার কথা নয়। তাহলে কি দায়িত্বরত অফিসাররাও জড়িত? যারা চুরি করেছে তারা ঠাণ্ডা মাথার চোর। স্যুটের জায়গায় আজকে অনেক গুরুত্বপূর্ন কিছু হতে পারতো। তাহলে এই দায়িত্ব কে নেবে? এয়ারপোর্টে যারা বহাল তবিয়তে চুরি পেশায় জড়িত তাদের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রাখা উচিত। এয়ারপোর্টে লাগেজ চুরি, লাগেজ কেটে মালামাল চুরি কবে থেকে শুনে আসছি। তবে দায়িত্বরতরা কি ইচ্ছে করেই কাউকে দিয়ে করাচ্ছে? এই বড় চোর সিন্ডিকেট কে ধরবে। এই দায়িত্ব কার?