ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

images-7
(ছবি:ইন্টারনেট)

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হিসেবে ঢাকা শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম কে না জানে। প্রথমত ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানি। খুব স্বাভাবিক ভাবে যে কোনো দেশের রাজধানির প্রতি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর আলাদা মনোযোগ থাকে। কিন্তু খুব দু:খজনক হলেও বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের পাবলিক টয়লেটের যে ভয়াবহ দুরাবস্থা তা দেখে যে কোনো সাধারন নাগরিকের এই দেশকে ভিক্ষুকের দেশ ভাবা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

গত ৬ সেপ্টেম্বর বাবা হজ্জে যাবেন। তাই পরিবারের সবাই গেলাম বাবাকে এয়ারপোর্টে পৌছে দিতে। বাবা ইহরামের সাদা কাপড় পড়তে পড়তে আমরা সবাই অপেক্ষা করছিলাম। যানজটের ভয়ে আমরা একটু তাড়াতাড়ি সকালের দিকেই রওয়ানা হই। আমাদের মতো অপেক্ষায় থাকায় আরো অনেক পরিবারের সাথে পরিচয় হলো।

হঠাৎ দেখি তেমন এক পরিবারের এক আপা চরম ক্ষেপে আছেন। জানতে চাইলাম কি হয়েছে। তিনি জানালেন চলেন দেখাই কী কারনে। নিচে গিয়ে দেখি টয়লেটের একটু সামনে বাচ্চা নিয়ে পলিথিনের উপর শুয়ে আছে এক ভিক্ষুক মহিলা। একটু কাছে গেলেই কয়েকজন লোক পাঁচ টাকা করে টয়লেট ফি নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু টয়লেটে নেই বদনা কিংবা পানি সরবরাহের সঠিক ব্যবস্থা। চরম নোংরা কাদা-পানি-বালিতে ভরে আছে টয়লেটের ফ্লোর। দেখলেই যে কোনো সাধারন মানুষের বমি চলে আসবে।

দেশের ঐতিহ্য বহনকারী এতো বড় একটা এয়ারপোর্টের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে দেশের অন্যান্য জায়গার এয়ারপোর্টের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। আশাকরি বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সুনাম রক্ষা করতে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য এয়ারপোর্টে দায়িত্বরতদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। তারা যেন অনতি বিলম্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং মর্যাদা রাখতে এয়ারপোর্টের দুরাবস্থা দূর করেন।

আসুন নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে দেশটাকে সুন্দর করি। বিশ্ব দরবারে নিজেদের তুলে ধরি আপন মহিমায়।