ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

img_20161020_173434
(কনকর্ডিয়া মার্কেটের সুলতানা ফুড কর্ণার)

কাজ করে খাওয়ার মধ্যে কোন লজ্জা নেই। লজ্জা আর নিন্দা সেখানেই যেখানে মানুষকে নির্ভর করতে হয়ে অন্য আরেকজনের উপর। আমাদের দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে পারলে দেশে অনেক গতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা বিরাজ করতো। তারপরও কিছু মানুষ সাহস আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে।

কোন একদিন রাজধানির কনর্কডিয়া মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতে দোতলায় যাই। মনে মনে কোথাও বসার কিংবা খেতে চেয়েছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো ’সুলতানার ফুড কর্নার’ এর দিকে। একজন মহিলা এবং তার বর মিলে ফুড কর্নারে সবার কাছে ঘরোয়া খাবার বিক্রি করছে।

img_20161020_173501
(ফুড কর্নারে কাস্টমার খাবার দেখছে)

আমি কৌতুহল হয়ে এগিয়ে গেলাম। খোলা পরিবেশে চেয়ার টেবিল বসানো। বিকেলের পরিবেশে অনেক কর্মজীবী এবং ছাত্র ছাত্রী নিজেদের মতো আনন্দ করছে। একজন মহিলা কতো সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশে ব্যবসা করছে। আমাদের দেশে অনার্স কিংবা মার্স্টাস শেষ করতে করতে বয়স ত্রিশে পৌছে যায়। তারপর চাকরি পেলেও সে বেতন অনেকের পকেট খরচও চলে না। পরিশ্রম করার মানসিকতা আর সামাজিক প্রচলিত রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে মোকাবেলা করতে পারলে মেয়েদের জন্য ব্যবসা বাংলাদেশে সেরা পেশা হতে পারে।

খাবারের অর্ডার দিতে দিতে জানা হলো কি কি খাবার রাখা হয়।

দুপুরের মেন্যু:
ভাত, মাছ, গরু, মুরগির মাংস, সবজি,খিচুড়ি, মাঝে মাঝে পোলাও।

বিকেলের মেন্যু:
ছোলা, পুড়ি, পরাটা,মিষ্টি, পিৎজা,বার্গার, দধি, নুডুলস, আইসক্রিম,চা,কফি সহ আরো অনেক কিছু।

রাতের মেন্যু: ভাত, মাছ,মাংস

৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে যে কোন মানুষ একবেলার খাবার ঘরোয়া পরিবেশে বেশ আরাম করে খেতে পারবে। আরেকদিন সুলতানা’স ফুড কর্নারের মালিক সুলতানার সাথে কথা হলো। খুব অল্প পুঁজি দিয়ে তিনি এই রেস্তরাঁর ব্যবসা শুরু করেছেন। বেইলি রোডে তার আরেকটা শাখা ছিলো। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার জন্য সেটা বন্ধ করেছেন। কিন্তু ধানমন্ডির এই রেস্তরায় বেশ ভাল আয় হয়। মানুষজনও প্রচুর আসে ঘরোয়া পরিবেশে খাবার উপভোগ করতে। সায়েন্সল্যাব সংলগ্ন এবং ল্যাব এইড হাসপাতালের কাছে কনকর্ডিয়া মাকের্টের দু’তলায় ঘুরে আসুন সুলতানা’স ফুড কর্নারে।