ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দুর্ঘটনা নয়,  গত কয়েক বছরে দেশে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার বাসের বাস চালক, সহকারী, সুপারভাইজারদের হাতে ভয়ঙ্করভাবে মানুষ খুন হয়েই চলেছে।

টাঙ্গাইলে বাসে বাস চালক ,হেলপারদের দ্বারা ধর্ষণ হওয়ার পর এক নারীর ঘাড় মটকে খুন করে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় । ঘটনাটি মানুষের সচেতন হৃদয়ে আঘাত হানে। মিডিয়া আর সুশীল সমাজ সরব হয়ে উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ঘৃণা প্রকাশের জোয়ার চলে।

রূপার পরিবারকে সাহায্য করতে তার বোন পপিকে একটা  চাকরি দেওয়া হয়। টাঙ্গাইলে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে চার আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

‘নিরাপদ’ বাসে খুন-ধর্ষণে থেমে গেল রূপার জীবন

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রূপা। ছোট বেলা থেকেই জীবনের প্রয়োজনে একে একে সামলে নিয়েছেন কত কত সংকট। ভাইয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও। সাহস নিয়ে জীবনের মুখোমুখি হওয়া সেই রূপা চলন্ত বাসে ধর্ষিত হয়েছেন, খুনও করা হয়েছে নৃশংসভাবে।

bdnews24.com यांनी वर पोस्ट केले गुरुवार, ३१ ऑगस्ट, २०१७

সম্প্রতি পায়েলের লাশ আবারো  আমাদের স্তম্ভিত করেছে। গত শনিবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পাওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েলের বিকৃত লাশ । এই লাশকে ঘিরে পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে ভয়ংকর এক নারকীয় পাষাণদের তান্ডবলীলা ।

পায়েল তার দুই বন্ধুর সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসছিল। পায়েল তার মাকে বলেছিল,  “টেনশন করোনা। ঢাকায় গিয়ে ফোন করব।” সেই ফোন আর আসেনি মায়ের কাছে।

ধরা পড়া তিন আসামির জবানবন্দিতে জানা যায় পুরো ঘটনার বিবরণ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে ওই জবানবন্দির বরাতে পুলিশের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ”গজারিয়া এলাকায়গাড়ি যানজটে পড়ায় প্রসাব করার কথা বলে বাস থেকে নেমেছিলেন পায়েল। বাস চলতে শুরু করলে তিনি দৌড়ে এসে ওঠার সময় দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সংজ্ঞা হারান। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে দায় এড়াতে ভাটেরচর সেতু থেকে নিচের খালে ফেলে বাস নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন চালক ও সুপারভাইজার।”

 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পায়েলের মামা বিপ্লব বলেন, গজারিয়া থানা পুলিশ ভাটেরচর সেতুর নিচে খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করার পর তার প্রথমে তার থেঁতলানো মুখ দেখে চিনতে পারেননি তিনি।

“পরে পায়েলের পরনের শার্ট দেখে আমার ছোট ভাই দিপু জানায় গত ঈদে ও শার্টটা পায়েলকে দিয়েছিল। এরপর ওর আইডি আর লন্ড্রির স্লিপ দেখে আমরা লাশ শনাক্ত করি।”

লোকাল বাস থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে চালক আর সহকারীদের খারাপ আচরণের কথা সব সময় শোনা যায়। ভলভো এসি বাসের মত বিলাসবহুল বাসে যাত্রী সেবা তো দূরের কথা, প্রাণটাই হারাতে হলো পায়েলকে।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বাসচালক ও সহকারীদের দেশের আইন সম্পর্কে সচেতন করা ছাড়াও না মেনে চললে কঠিন শাস্তির বিধানের হুশিয়ারি দেওয়া উচিত।  মিডিয়াগুলোতে যাত্রী হয়রানি রোধে প্রতিদিন প্রচার-প্রচারণা চালানো দরকার।

নিরাপদ সড়ক আর নিরাপদ পরিবহন আমাদের নাগরিক অধিকার, এতে এক চুলও ছাড় দেয়ার অর্থ আমাদের জীবন বিপন্ন করা। রাষ্ট্রকে তাই আমাদের এই অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে।