ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

জিএম স্যারের রুমে বসে ছিলাম সেখানে একজন চাকুরী প্রার্থীর আগমন ঘটলো। সুদর্শন চেহারা। মার্জিত পোশাক। সে তার হাতের খাম খুলে একটা বায়োডাটা পেশ করলেন।
স্থানীয় একজন বির্তকিত নেতার নাম বলে তিনি জানালেন যে তাকে চাকুরীর জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আমাদের কোম্পানীর মালিকের সরসরি নাম ধরে কথা বললেন। তার মুখের বাচন ভঙ্গি ছিল ওভার স্মার্ট ধরণের।

সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হল তরুণ চাকুরী প্রার্থী অহেতুক ইংরেজি শব্দ বলে যাচ্ছিল। অর্ধ বাংলা অর্ধ ইংরেজি মিলিয়ে বর্তমানের তরুণ সমাজ যেই খিচুড়ি মার্কা ভাষা তৈরী করেছেন তা শুনলে বরাবরি মেজাজ বিগড়ে যায়।

তরুনের চেয়ারে বসার ধরনটাও সঠিক ছিলনা। সে বসের টেবিলের উপর হাত প্রসারিত করে বসেছিল। তাকে খুব অস্থির লাগতে ছিল। সে কি ধরণের চাকুরী করতে চায় জানতে চাইলে তার উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে থাকে। সে শুধু বার বার বলে যাচ্ছিল, প্লিজ পারসোনালি আমার একটা জব ভীষণ দরকার!

ব্লগে অনেক তরুণ বন্ধু আমার রয়েছে তাদের জন্যই বলছি কোথাও চাকুরীর সন্ধানে গেলে আগে জেনে নিন সেই প্রতিষ্ঠানের কাজটা কি? তাদের উৎপাদন অথবা লক্ষ উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুটা হলেও জেনে নিন।

আর অফিসের বসদের সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন। ভাষা এবং আচরণের কারনেই আপনার চাকুরী হতে পারে। দূর্বল সার্টিফিকেট থাকলে সম্যসা নেই যদি প্রথম দেখায় বসদের মুগ্ধ করতে পারেন।

আর বসদের মুগ্ধ করতে চাইলে আপনার সর্বপ্রথম যেটা করতে হবে তা হল বিনয়ি হতে হবে। নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে। অনেক গুলো প্রশ্ন একসাথে চলে আসতে পারে। আপনি উত্তরের জন্য উতালা না হয়ে আগে খেয়াল করে সবার প্রশ্ন শুনুন। মনে রাখবেন প্রতিটা প্রশ্নের ভেতর উত্তর লুকানো থাকে। অনেক প্রশ্ন কর্তা নিজেকে জাহির করতে নানান উদ্ভট প্রশ্ন করে। আপনি নির্ভার চোখে তাকিয়ে তার কথা শুনুন। আপনি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন শুনছেন দেখলে উনি উত্তর না পেয়ে পরের প্রশ্ন করবে। মুখটা হাসি খুশি রাখুন। আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলুন।

মনে রাখবেন ইন্টারভিউ বোর্ডে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেই চাকুরি হয়না।

প্রশ্ন করে কেবল আপনাকে বাজিয়ে দেখা হয়। খুব ভাল ফল থাকলে ও লাভ নেই যদি আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডকে আস্বস্থ করতে না পারেন যে আপনি যোগ্য। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি যেখানে যাচ্ছেন সেই কোম্পানী সর্ম্পকে ধারণা নিয়ে যেতে পারেন। প্রশ্নকর্তা যখন বলবে আপনি এই কাজ করতে পারবেন? সঙ্গে সঙ্গে গভীর আত্মবিশ্বাসের সাথে বলুন অবশ্যই পারবো স্যার।

আর হ্যা প্রথমে যেই তরুণের কথা বললাম তাকে আমরা নেইনি। কেন তার চাকুরী হলনা এটি বড় দলের নেতার সুপারিশ থাকা সত্বেও , তা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন।