ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ‘তালাশ’ অনুষ্ঠান সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত ১৫ তারিখে আওমীলীগের একজন সংসদ সদস্যর ভাই যিনি উখিয়া-টেকনাফের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই আবদুস শুক্কুর তিনি দাবী করেছেন
গত ৩১ আগষ্ট প্রচারিত অনুষ্ঠানের কারনে তার মানহানি হয়েছে। ইয়াবা সংকান্ত এই রিপোটে তাকে ইয়াবার ব্যবসায়ি বলা হয়েছে বলে তিনি মামলা করেছেন। ইতিপূর্বে
আরেক দপ্তরবিহীন মন্ত্রী কালো বিড়াল বলে পরিচিত সুরঞ্জিত বাবুর এক কর্মিও আদালতে আর টিভির সাংবাদিক বায়েজিত এর বিরুদ্ধে মামলা করে ছিলেন। যদিও আদালত তার খারিজ করে দেয়।
সুরঞ্জিত বাবু প্রকাশ্য সংবাদ কর্মিদের দেখিয়ে দেবার হুমকি দিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। সুরঞ্জিত বাবু এখন নিজেই কোটরে ঢুকে বসে আছেন।
সাংবাদিক বায়েজিত অবশ্য জিডি করেছেন নিজের নিরাপত্তার জন্য।

এই সরকারকে ক্ষমতায় আনার জন্য মিডিয়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসিম । ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সব গুলো চ্যানেল একযোগে গনতন্ত্রের জন্য কাজ করে ছিল, বেশ কয়েকজন সাহসী সম্পাদক ছিল বলেই মইন উদ্দিন শেষ পযন্ত নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়ে ছিলেন।
নিয়তীর কি নির্মম পরিহাস এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিডিয়ার টুটি চেপে ধরছেন।
তারা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায় ভাবে জেলে নিয়ে ছিলেন এক বছরেরও বেশি সময় সংবাদকর্মি ওলিউল্লাহ নোমান সহ কারাগারে আটকে রাখা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় আমারদেশ পত্রিকাটি। বন্ধ করে দেওয়া চ্যানেল ওয়ান। হয়রানীর স্বিকার হচ্ছে একুশে টিভি আরও একটি চ্যানেল যমুনা টিভিকেও সম্প্রচার সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়।
মিডিয়ার গলা টিপে ধরলেই সব কিছু ঠাণ্ডা হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করে এই দলটি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা শেখ মুজিবর সাহেবও একই পথে চলে ছিলেন। তিনি তার শাসন আমলে সব গুলো বেসরকারী পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে ছিলেন।
তার পরিনাম অবশ্য ভাল হয়নি। নিজের দলের চামচা বিশ্বাস ঘাতকদের ষড়যন্ত্রে নিহত হন।
এরশাদ সাহেবও পত্রিকার উপর নাখোষ ছিলেন, বন্ধ করে দিয়ে ছিলেন যায়যায়দিন। সম্পাদক শফিক রেহমানকে দেশ ছাড়া করে ছিলেন ।কিন্তু শেষ পযন্ত তাকেও জেলে যেতে হতে হয়। এমনকি ২০০১ এর নির্বাচনের পর বেগম জিয়া বন্ধ করে দেন একুশে টিভি।
অথাৎ সরকারে বসলেই যেন মিডিয়াই একমাত্র শত্রু হয়ে দাড়ায় সরকার প্রধানদের।
বেশ কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়ার একটি প্রগ্রাম কোন বেসরকারী চ্যানেল প্রচার না করলেও একমাত্র একুশে টিভি তা সরাসরি প্রচার করে বাহবা কুড়ায়। এতে প্রমাণ হয় মিডিয়া নিরপেক্ষ।
সাগর-রুনীর হত্যাকাণ্ডর পর সাংবাদিকরা এখন বেশ আতংকিত। তারা নিজেরা বেশ দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে। তারপরও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের কোন উৎসাহের কমতি নেই।
আজ বায়েজিত অলিউল্লাহদের যদি কাজ করার জন্য জেল জুলুম সহ্য করতে হয়, তাহলে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ পাওয়া মুসকিল হয়ে পড়বে।
একটি স্বাধীন সার্বভম্য দেশের জন্য যা অতান্ত দুঃখ জনক।
তাই সরকারের কাছে অনুরোধ সংবাদ কর্মীদের কাজ করার পথে বাধা দিবেন না দয়াকরে।
মনে রাখবেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। বিরোধী দলে গেলে আপনার কথা তারাই পৌছে দিবে।
বেসরকারী চ্যানেলের উপর থেকে আপনাদের সিমাহীন নজরদারী সরিয়ে নেবার অনুরোধও করছি।
টকশো সহ সকল সংবাদ ভিত্তিক প্রগাম প্রচার করতে দিন। তাতে গনতন্ত্রেরই লাভ হবে।
বেসরকারী চ্যানেল গুলির মালিক বিভিন্ন দলের হইলেও চ্যানেল গুলি নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তারা নিউজ গুলি দেখে জনগণ উপকৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশের মত দুনীর্তি প্রিয় একটি দেশের
মিডিয়াও যদি সরকারের নির্দেশে নীরব থাকে তাহলে এই দেশ বসবাসের উপযুক্ত থাকবে না।
আশা করবো সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।