ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 

দ্বিতীয়বারের মতো বিধিমালা সংশোধনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রেজিস্টার দাবী করেন বিধিমালা বর্তমানে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights),নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আর্ন্তজাতিক সনদ (International Covenant on Civil and Political Rights),ফেয়ার ট্রায়াল ম্যানুয়াল (Amnesty International/ Fair Trial Manual )সাথে সংগতিপূর্ণ। কিন্তু, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংক্ষেপে এইচ আর ডব্লিও (HRW) নামে পরিচিত তারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় স্বাধীনতা কালীন সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ায় আবার আরেকবার সুবিচার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে। হিউমেন রাইটস ওয়াচের মতে যদিও এই সংশোধনীতে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের জন্য তা যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়ার জন্য আইন এবং বিধিমালায় আরো পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিমত ব্যক্ত করে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে যথাযথ বিচার সুনিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বেশ দীর্ঘদিন থেকে দাবী জানিয়ে আসছে। এইচ আর ডব্লিউ এজন্য এমনকি সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরীর জন্য সংবিধান, আইন এবং বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন জরুরী বলে মনে করছে এইচ আর ডব্লিউ । এছাড়াও অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ, অভিযুক্তদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভিকটিম ও স্বাক্ষী সুরক্ষার বিষয়ে আইন এবং বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট সংশোধনের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি ।

দ্বিতীয়বারের মতো আনীত সংশোধনীতে সাক্ষী ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে বিধিমালায় একটি অধ্যায় সংযোজন করা হয়েছে। সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়টি সংযোজন করতে এইচ আর ডব্লিউ ছাড়াও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক মার্কিন দূত রেপ ঢাকা সফরকালে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।বিধিমালায় এবার অভিযুক্তদের জামিনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের ১ বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পেতে পারেন। তবে, ব্যতিক্রমী অবস্থায়, আটকাদেশের মেয়াদ আরো ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।উপরন্তু, আসামীপক্ষের আইনজীবীকে আসামী দোষ স্বীকার না করলে প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়ার বিধান বিধিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইবুনাল প্রয়োজন মনে করলে এ সময় বাড়াতেও পারবেন।

এসব সংশোধন সত্ত্বেও এইচ আর ডব্লিউ বিশেষত: নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনার দাবী জানিয়েছে:

১. অভিযুক্তকে ট্রাইবুন্যালের নিরপেক্ষতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ দেয়া। বিদ্যমান আইনে এর সুযোগ নেই।
২. আইনের ৩ নং ধারা সংশোধন করা যাতে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
৩. অভিযুক্তদের আইনজীবিদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। সংশোধিত বিধিতে প্রদত্ত ৩ সপ্তাহের সময় যথেষ্ট নয়।
৪. বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া ছাড়াও মামলা চলাকালীন সময়ে আপীলের সুযোগ রাখা।
৫. স্বতন্ত্র প্রসিকিউশন অফিস স্থাপন করা। এ ধরণের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোতে স্বতন্ত্র প্রসিকিউশন অফিস রয়েছে।

এইচ আর ডব্লিউ এর এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামসের (Brad Adams) মতে বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এখনই সময় এসেছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের। প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে সেইসব দেশগুলোর সামনে যারা নিজেদের দেশের লোকদের হাতে অবর্ণনীয় নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।

***
ওলি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী

ফিচার ছবি: ব্লগার নিজাম কুতুবী’র ‘যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার চাই’ শীর্ষক পোস্ট থেকে সংগৃহিত