ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের টনক নড়েছে। গতকাল প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর থেকে আদমশুমারির ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (খবর সূত্র: প্রথম আলো) আপত্তির কথা জানা গেছে। আদমশুমারির সাথে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। সুতরাং, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই বিষয়ে মাথা ব্যাথা হওয়ার কথা।তবে, অন্যান্য মন্ত্রণালয় কেন এখনও আপত্তি জানায়নি সেটাই অবাক হওয়ার ব্যাপার। আদমশুমারির সাথে বিভিন্ন ধরণের পরিসেবা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্ন জড়িত। আদমশুমারির প্রকাশিত রিপোর্টের ব্যাপারে সরকারি দফতরগুলোর নিরবতা বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যা বিবিএস নামে পরিচিত তাদের হিসাবমতে দেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার। । যখন দেশের জনসংখ্যার এই তথ্য জনগণকে প্রথম জানানো হয়, তখন লোকজন অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকান। বিশেষজ্ঞরাও সাধারণের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে থাকেন এই শুমারি যাচাই-বাচাইয়ের দাবী রাখে।

খাদ্য নিরাপত্তার সাথে অন্যান্য বিষয়ের সাথে খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টি জড়িত। যদি এই আদমশুমারি ঠিক হয়ে থাকলে দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকার কথা। বিবিএসের হিসাবে দেশে চালের উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টন। জনসংখ্যার যে হিসাব বিবিএস দিয়েছে তাতে চাহিদা হওয়ার কথা আড়াই কোটি টন। কিন্তু, দেশে কি খাদ্য আদৌ উদ্বৃত্ত আছে?

খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি জটিল এবং বহুমাত্রিক। যেখানে বাংলাদেশে প্রতিবছর খাদ্য আমদানি করতে হয়, সেখানে এরকম আদমশুমারি ব্যাপারটিকে জটিলতর করে তুলবে। চাহিদা যদি ঠিকমত নিরূপণ না করা যায়, তাতে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই দেশে যেখানে প্রতিনিয়ত চাষ যোগ্য জমির পরিমাণ কমছে, সেখানে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আদমশুমারির সাথে খাদ্য উৎপাদনের গরমিল ঠিক করা জরুরী।