ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

কয়েকদিন আগে একটি পোস্ট দেখেছিলাম যার শিরোনাম ছিল, “ফ্লাইওভার নির্মিত হলেই কি যানজট নিরসন হবে?“আসলেই, প্রশ্নটা খুবই গুরূত্বপূর্ণ। সরকার বাহাদুর ঢাকা শহরে অনেকগুলো ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে এবং তাতে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভাবখানা এমন যে ফ্লাইওভার বানানো হলেই কেল্লা ফতে! ঢাকা শহরে কোন যানযট থাকবে না।

তবে, একটা শহরের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ। অনেক পরিকল্পনা করে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম গড়ে তুলতে হয়। উদাহরণস্বরূপ ধরা যায় লণ্ডন শহরের কথা। লণ্ডন শহরের পাতালরেল কয়েকটা জোনে বিভক্ত। আমি পাঠকদের জন্য পাতালরেলের অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করতে চাই।

আমি তখন আমার কাজিনদের সাথে ইস্ট লন্ডনে মাস্টার্স স্ট্রিটে থাকি। বাসা থেকে দুই মিনিটের দূরত্বে স্টেপনি গ্রিন আন্ডারগ্রাউন্ড। পাতালরেল ব্যবহার করে এখান থেকে মোটামুটি লন্ডনের সব জায়গাতেই যাওয়া যায়।

পাতালরেলের সুবিধা হচ্ছে সে বাসের চেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌছায়। তবে, লন্ডন-বাসের চেয়ে পাতালরেলে ভাড়া বেশি। আবার, পাতালরেলের টিকিটগুলো হচ্ছে জোন-ভিত্তিক। জোন-১ এ ঢুকলে ওয়েস্টার কার্ড থেকে টাকা বেশি কাটে। বাসে আবার জোনের বালাই নেই। সব জায়গায়ই ভাড়া সমান যদি আপনার কাছে বাস পাস/ অয়েস্টার কার্ড থাকে। বাস পাস করে নিলে যেখানে খুশি সেখানে যাওয়া যায় অতি সহজেই।

পাতালরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দেখতে হয় উদ্দিষ্ট জায়গাটি কোন জোনে অবস্থিত। আপনার পাসটি সেই জোন কাভার করে কি-না। কাভার করলে নো চিন্তা। পাতালরেলে উঠে হুশ করে সেই জায়গায় চলে যাওয়া। নির্দিষ্ট জোনের টিকিট না থাকলে অয়েস্টার কার্ডে অতিরিক্ত টাকা রিফিল করতে হবে। নতুবা স্টেশন থেকে বেরোতে দেবে না। অয়েস্টার মেশিনে টাচ করামাত্র মেশিন চিৎকার করতে থাকবে এবং সাথে সাথে গার্ড চলে আসবে। তারপর অর্থদণ্ড দিয়ে অতঃপর মুক্তি।

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নিয়ে সিলভিয়া সিদি (Sylvia Chidi) একটি চমৎকার কবিতা লেখেন যাতে পাতালরেলের বিভিন্ন উৎপাতের বর্ণনা আছে:
The London underground
With its stops is an elongated list
Drunks battle in tunnels with open fists
Hidden somewhere is a network of CCTV Cameras
Recording your every move from afar
Watch out for the picker-pockets, I insist
They swindle even the most experienced tourist

আমি এবং আমার কাজিন সুয়েদ ভাইয়ের কেন্টিসটাউন যাওয়ার দাওয়াত। আসলে নিমন্ত্রণ আমার, আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন আমার কাজিনের ওয়াইফ মকসুদ ভাবি। যেহেতু আমি তাদের বাসা চিনি না, সুয়েদ ভাই আমাকে নিয়ে যাবে। তবে, সুয়েদ ভাই ঐ বাসার সুস্বাদু খাবারের লোভে সেখানে যাওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া।

আমি সাধারণত জোন ২ এবং ৩ এর ট্রাভেল কার্ড করি। পক্ষান্তরে, সুয়েদ ভাইয়ের আছে ১ থেকে ৩ পর্যন্ত ওয়েস্টার কার্ড। যেহেতু আমরা যেখান থেকে উঠবো সেই স্টেশন স্টেপনি গ্রিন এবং গন্তব্যস্থল কেন্টিসটাউন উভয়ই জোন ২ তে অবস্থিত; আমরা নিশ্চিন্তমনে পাতালরেলে চড়ে বসলাম।

স্টেপনি গ্রিন থেকে ডিস্ট্রিক্ট লাইন ধরে আমরা মনুমেন্ট স্টেশনে গেলাম। এইখানে আমাদের পাতালরেল বদলাতে হবে। নর্দান লাইনের ট্রেন ধরার জন্য আমরা হেঁটে পার্শ্ববর্তী ব্যাংক স্টেশনে গেলাম। ব্যাংক স্টেশন থেকে নর্দান লাইনের ট্রেনে কেস্টিসটাউনের উদ্দেশ্যে আবার পাতালরেলে চাপা।

স্টেশন থেকে বেরোতেই বাঁধল বিপত্তি। মেশিনে অয়েস্টার ছোঁয়াতেই ঝামেলার শুরু। আমার কার্ড থেকে এক্সট্রা টাকা কেটে নিল। ঘটনাটা কি? ঘটনা আর কিছু না। যদিও আমরা জোন ২ এর একটা অঞ্চল (স্টেপনি গ্রিন) থেকে জোন ২ এর আরেকটা অঞ্চল (কেন্টিসটাউন) ট্রাভেল করেছি, কিন্তু আমরা জোন ১ এর মধ্য দিয়ে এসেছি। যেহেতু আমার কার্ডে জোন ১ এ ভ্রমণের অনুমতি নেই, তাই মেশিন শোধ নিয়েছে। স্টেশন থেকে ভগ্ন হৃদয়ে বের হলাম।