ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

গতকালকে (২৯ শে সেপ্টেম্বর) প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি শীর্ষসংবাদের দিকে হয়তো অনেক পাঠকের দৃষ্টি গেছে। লিড নিউজটির শীরোনাম ছিল, “আয়কর দেবেন না মন্ত্রী-সাংসদেরা!”। খবরটি নিঃসন্দেহে হতাশার। খবরটা এমন এক সময় প্রকাশিত হল যখন করপ্রদানকারীরা রিটার্নপ্রদানের শেষ মুহূর্তের তোরজোড় করছিলেন। সরকারি মহল থেকে বলা হয়েছে এবার রিটার্ন প্রদানের নির্ধারিত সময় আর বাড়ানো হবেনা।

করব্যবস্থার সাথে সুশাসন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যে দেশগুলোতে সরকার করের উপর দেশচালনার জন্য বেশী নির্ভরশীল, সেখানটায় সুশাসন অপেক্ষাকৃত বেশী। পক্ষান্তরে, সরকার যেখানে নির্ভরশীল বৈদেশিক সাহয্য কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে তেল) উপর, সেখানে সুশাসনের অবস্থা তথবৈচ বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের করের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা এমনকি মন্ত্রী মহোদয় বিভিন্ন সময় (এমনকি বাজেট পাশের সময়) বড় বড় কথা বললেও, এই নোটিশের মাধ্যমেই তারা প্রমাণ করে দিলেন যে তা ছিল, “ভূতের মুখে রাম নাম”।

প্রফেসর মোজাফফর আহমদের প্রতিক্রিয়া এক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার দাবী রাখে । বাজেটে মানুষের হাততালি পেতে মন্ত্রী-সাংসদেরা আয়কর দেবেন বলা হয়েছিল। আর এখন চুপিচুপি একটি চিঠি দিয়ে আয়কর দেবেন না বলে দেওয়া হয়েছে। এনবিআর কেন এ ধরনের চিঠি দিল? প্রফেসর মোজাফফর এই প্রশ্নের ও জবাব দিয়েছেন। সরকার কৌশলে তাঁদের বাধ্য করেছে এ ধরনের চিঠি তৈরি করতে ।

এমনিতেই রিটার্নপ্রদানের জন্য ব্যবসায়ীরাতো বটেই চাকুরিজীবিদেরও যথেষ্ট ঝামেলা পোহাতে হয়। রিটার্নপ্রদানের ফর্ম এবং পদ্ধতি উভয়ই জটিল। এক্ষেত্রে জবাবদিহীতা শুধু একপাক্ষিক তথা করদাতার। চাকুরিজীবীর বেলায় তাকেই প্রমাণ করতে হয় যে তিনি সারাটা বছর সরকার বাহাদুরকে কর দিয়া আসিতেছেন। সরকারের যদি তার পরও কিছু পাওনা থাকে, রিটার্নপ্রদানের সময় তা জমা দিতে হয়।
পক্ষান্তরে, বিলাতে চাকুরীজীবীদের জন্য বিষয়টা বেশ সহজ। বছর শেষে এইচ এম রেভিনিউ চাকুরীজীবীদের পি-৬০ পাঠায়। তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে তার নিয়োগকর্তা কত টাকা সরকারকে তার বেতন হইতে করস্বরূপ সরকারকে প্রদান করেছেন। এইচ এম রেভিনিউ (H M Revenue) নিজ দায়িত্বেই তা পালন করে। বছরের মধ্যবর্তী সময় যারা বেকার হন তারাও একটি হিসাব পান যাকে বলে পি-৪৫।
আমাদের দেশে যাবতীয় প্রমাণের ভার করদাতার উপরই বর্তায়। নিয়োগকর্তা চাকুরীজীবীর বেতন হতে টাকা কেটে নিয়ে সরকারি কোষাগারে নিয়মিত জমা করলেও, তার মুক্তি নেই। চাকুরীজীবীকেই বছর শেষে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রমান করতে হবে যে সরকারি কোষাগারে যথাযথ পরিমাণ কর প্রদান করা হয়েছে। কর বিভাগের এক্ষেত্রে কোন দায়-দায়িত্ব নেই্। যদিও সারা বছর ধরে সরকার এই চাকুরীজীবীর মাসিক বেতন হতে নিয়মিত কর পেয়ে এসেছে।

এমপিদের এক্ষেত্রে পোয়াবারো। সরকার বাহাদুর নোটিশ জারি করে বলে দিয়েছেন তাদের রিটার্ন দাখিল করতে হবেনা। শুধু এমপিরা নয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রীদের আয়কর দিতে হবে না। জয়তু এনবিআর।