ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মিছিল মিটিং করা গণতান্ত্রিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানে এই অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। কিন্তু, সরকারদলীয় জোটের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তৃতা-বিবৃতিতে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদলীয় জোটের ১২ ই মার্চের সমাবেশকে ঘিরে সাজসাজ রবে সাধারণ জনগণ বিশেষ করে রাজধানীবাসীরা বেশ খানিকটা আশংকিত।

সমাবেশের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার হিসেবে সমাবেশের অধিকার দেওয়া হয়েচে। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ”জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে”। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে ১২ ই মার্চের সমাবেশে বাধা দান কি যুক্তিসঙ্গত হবে?

যদিও সরকারদলীয় নেতাদের মূল উদ্দেশ্য হয়তো বিরোধী-দলের নেতা-কর্মীদের মনে আতংক সৃষ্টি করা। একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর ভয় পেলেও পেতে পারে। তবে, বর্তমান রাজনীতির পেক্ষাপটে যারা হালুয়া-রুটির ভাগের আশায় রাজনীতি করেন তারা তাদের নেতাদের ডাকে ঢাকায় আসবে। কিন্তু, দেশের জনগণ বিশেষ করে ঢাকায় যারা ব্যবসা করেন সেইসব আম-জনতা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আতংকিত হযে পড়েছেন। এক-এগার ঘটার পূর্বে লগি-বৈঠার মহড়ার এখনো বেশীরভাগ মানুষের স্মৃতিতে অমলিন।

আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যতম কর্তাব্যক্তি মাহাবুব-উল আলম হানিফ বিরোধী দলের ১২ মার্চের কর্মসূচি বন্ধ করে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশের অবশ্য এই ক্ষমতা আছে। পেনাল কোডে পুলিশকে বেআইনী সমাবেশ ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষমতা দেয়া আছে। ১৮৬০ সালের পেনাল কোডে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ৫ জনের উপর লোকের সমাবেশকে ১৪১ ধারা মোতাবেক পুলিশ বেআইনী সমাবেশ ঘোষণা করতে পারে। হানিফের মতো সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতার সমাবেশ নিষিদ্ধের এই আহবান কি পুলিশ সহজে ফেরাতে পারবে?

পুলিশ অবশ্য ইতোমধ্যে তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। গণগ্রেপ্তার পুলিশে অভিযান শুরূ হয়েছে। গতকালকের (শুক্রবার) দি ডেইলী সান পত্রিকায় একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ দড়ি বেধে লোকদের নিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য ছবি দেখে আটক লোকদের মোটেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বলে মনে হচ্ছে না। এরকম গণগ্রেপ্তারের বলি হয় প্রায়ই গ্রাম থেকে রাজধানীতে আসা সাধারণ মানুষ।

সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। গণগ্রেপ্তারের শিকার হওয়া গ্রামের গরীব জনসাধারনের কথা কি কেউ চিন্তা করবে? তাদের অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া কি রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?

কেউ একবার গ্রেপ্তার হলে তার জন্য জামিনের আবেদন করতে হয়। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের জামিনের জন্য দলীয় আইনজীবী এমনকি দলীয় সমর্থনপুষ্ট বারিস্টার পর্যন্ত রয়েছেন। তারা আটককৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাবেন। কিন্তু গণগ্রেপ্তারের শিকার ঐ সকল সাধারণ মানুষ যারা জীবনের প্রয়োজনে রাজধানীতে এসে গণগ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে, তাদের কি হবে? শুধুমাত্র ঢাকায় অবস্থানের কারণে কি তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে?