ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তার কলিগরা কথার পিঠে কথা বলতে উস্তাদ। যখন সাংবাদিক দম্পতির হত্যা নিয়ে চারদিকে তোলপাড়, তখন সরকার সবার বেডরূমের নিরাপত্তা দিতে পারবেনা বলে জবাব দেওয়া হয়। সৌদী কুটনৈতিক মারা গেলে একজন তখন মজা করে ফেইসবুকে লেখেন যে বেচারা বেডরুমে সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবেনা জেনেই রাতদুপুরে বেডরুম থেকে বাইরে বেরোতেই প্রাণটা গেল।
তবে, প্রাণ দিয়্ওে খালাফের রক্ষা নেই। যখন সমস্ত মিডিয়া সৌদী কুটনীতিক হত্যার খবর প্রচার করছে তখন সরকারের তরফ থেকে জানা গেল খালাফ কুটনীতিক নন। বেচারার প্রাণের মুল্য কমানোর এই প্রচেষ্টা কতটুকু কাজ দিবে তা সরকারের কর্তাব্যক্তিরাই ভাল বলতে পারবেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলতে শুরু করেছেন যে বিরোধী দলীয় নেত্রী আইএসআইয়ের কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন কিছু বলা শুরূ করেন, তখন তিনি বলতেই থাকেন। যাদের স্মৃতিশক্তি প্রখর তাদের হয়তো মনে আছে ইকোনমিস্ট পত্রিকা বেশ কয়েকমাস আগে লিখেছিল যে প্রধানমন্ত্রীর দল ভারতের ব্যাগভর্তি টাকা খেয়ে নির্বাচন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়তো মনে করেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে আইএসআইয়ের টাকা খাওয়ার অভিযোগ তুললে তার পাপ কিছুটা হালকা হবে।

আইএসআই এই অ্ঞ্চলের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্যতম। আজকের বিডিনিউজে তাদের নতুন প্রধান নিযুক্তির খবর বেরিয়েছে। আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে এমনকি ওসামা বিন লাদেনকে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তবে আমার পরিচিত একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং ব্লগার টাকা খাওয়ানোর অভিযোগ নিয়ে মজাদার একটি মন্তব্য লিখেছেন। তিনি আইএসআইয়ের কিপ্টেমি দেখে লিখেছেন ” আইএসআই এর কিপ্টেমি দেখে আমি হতাশ। ৫টা নমিনেশন বিক্রি করলেই তো ৫ কোটি টাকা আসার কথা, সেখানে একটা দেশের গোয়েন্দা সংস্থা হয়ে মাত্র ৫ কোটি টাকা দিল”।
ইকোনমিস্ট দুনিয়ার সবচেয়ে নামী পত্রিকাগুলোর অন্যতম। খবরের বস্তুনিষ্ঠতার জন্য পাঠককুলের কাছে ইকোনমিস্ট বিশ্বব্যাপী সমাদৃতও বটে। এই পত্রিকার ২০১১ সালের ৩০ শে জুলাই প্রকাশিত সংখ্যায় বেরোয় যে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের বিজয়ের পেছনে ভারতের ব্যাগভর্তি টাকা ও উপদেশ ছিল। ভারতের সমর্থনের প্রতিদান এই সরকার কিভাবে দিয়েছে তার একটি বিবরণও রয়েছে প্রতিবেদনে।
ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)’র নতুন মহাপরিচালক নিযুক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহির উল ইসলাম। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজাগিলানি তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। ১৮ ই মার্চ থেকে তিনি সংস্থাটির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। বর্তমানে যিনি সংস্থাটির প্রধান, তার সাথে পাকিস্তান সরকারের তেমন বনি-বনা হচ্ছিল না। আইএসআইয়ের নতুন প্রধান নিয়োগ করতে পেরে পাকিস্তানের সরকার তাই বেশ খুশী।

এই সুযোগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কি কুটনীতিক চ্যানেলে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে খবর নিয়ে জাতিকে জানাবেন আইএসআই ঠিক কি পদ্ধতিতে টাকা হস্তান্তর করেছিল। প্রতিদানে বাংলাদেশের সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানকে কি দিয়েছিলেন? না-হলে কিন্তু সংবাদটির বস্তুনিষ্ঠতা ইকোনমিস্টের খবরের মত জোরালো হবেনা।