ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

মে মাসের ১৮ তারিখ, বৃহস্পতিবার। পরবর্তী দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে বলে বাড়ি যাওয়ার তাড়া। চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা এ রুটের নিয়মিত একটি বাস সার্ভিসে। একেতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মত ব্যস্ততম সড়ক তার উপর বৃহস্পতিবার বলে গাড়ির চাপটাও একটু বেশি। যাত্রীরা যে যার মত বসে আছেন, বাস চলছে দ্রুতগতিতে। মহাসড়কের বার আউলিয়া পার হতেই বাসের হঠাৎ ব্রেকে সম্বিত ফিরে আসে সকল যাত্রীর। আতংকিত হয়ে সামনে চেয়ে দেখি বাসের প্রায় মুখোমুখি হয়ে আছে উল্টোপথে আসা ব্যাটারি চালিত একটি রিক্সা !  রিক্সা চালককে উদ্দেশ্য করে বাস সহকারির অশ্রাব্য গালিগালাজ। কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই রিক্সা চালকের, পাশ কাটিয়ে চলে গেল সামনে। আরো এগিয়ে যেতে যেতে বাড়বকুন্ড, সীতাকুন্ড ও বড় দারোগারহাটেও বাজার এলাকায় চোখে পড়লো রাস্তার উল্টো পাশে রিক্সা চলাচলের চিত্র।

এখন কথা হলো হাঁকডাক দিয়ে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ করা হলো দুর্ঘটনা রোধে। তাহলে কি রিক্সা দুর্ঘটনার ঝুঁকিমুক্ত? নিষিদ্ধ হয়েছে চলাচলে, কিন্তু বন্ধ হয়নি। নিয়মিত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অনেকটা নির্বিঘ্নে চলাচল করলেও পুলিশ প্রশাসনের নেই তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ। সিএনজি বন্ধ হলেও বীরদর্পে চলছে রিক্সা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত ব্যবস্থা দ্রুততর করতে করা হয়েছে চার লেন। সড়কে দেয়া হয়েছে বিভাজক। কিন্তু উল্টোপথে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে রিক্সা চলাচলে সুফল মিলছে না সড়ক বিভাজকের। ইউটার্ন পয়েন্টে গিয়ে সামান্য দূরত্ব ঘুরে না এসে উল্টোপথে চালাচ্ছে রিক্সা। শুধু রিক্সা নয় অন্যান্য যানবাহনও প্রায়শই দেখা যায় উল্টোপথে চলতে। এ রুটে নিয়মিত যাত্রী বলে প্রায়শই বাড়ি আসা-যাওয়ার পথে মহাসড়কে দেখা মিলে এ চিত্র। দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি এসব কচ্ছপ গতির যানবাহন প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার শংকা। আর রাতের বেলা এসব যান চলাচল যে কোন সময় ঘটাতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার খবরও এসেছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।

মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে বেশ কয়েকবছর। তারপরও কিভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের বিভিন্ন অংশে বীরদর্পে চলছে এসব যান তা একটি প্রশ্ন ? গত বছরের বিভিন্ন সময় পত্রিকার পাতায় হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাটারি চালিত রিক্সা আটকের খবরও এসেছে পত্রিকায়। তবে কথা হলো সরকারের এক ঘোষণায় মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ হতে পারলে ব্যাটারি চালিত রিক্সা পুরোদমে বন্ধ করতে সমস্যা কোথায়?