ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

হিন্দু ধর্ম কি ৩৩০ মিলিয়ন দেবতার পূজা করে? ৩৩০ মিলিয়ন সংখ্যাটি প্রায়শই শোনা যায় যখন হিন্দু ধর্মীয় দেবতাদের নিয়ে কোন আলোচনা হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এধরনের আলোচনার যারা দীক্ষক হন তাঁরা হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানেন না বা জেনে থাকেন না, এবং বস্তুত পক্ষে খোঁচানোই তাঁদের মুল লক্ষ্য থাকে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হিন্দু দেব- দেবীর সংখ্যার পেছনের রুপক অর্থ তাঁরা এড়িয়ে যান। ৩৩০ মিলিয়ন দেবতা মূলত রুপক অর্থে ব্রামন (চিরন্তন সত্য) কে উপস্থাপন করে, যা ভিন্ন রূপে, ভিন্ন নামে, ভিন্ন প্রকারে ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ। সকল স্বা-কার, নিরাকার অথবা যা অপ্রকাশিত প্রকৃতপক্ষে ব্রামন (চরন্তন সত্য) এরই প্রকাশ।

এটি জানা কথা যে ৩৩০ মিলিয়ন দেবতার পূজা করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেন এই ৩৩ সংখ্যা? বৃহদারণ্যক উপনিষদে ব্রামন নিয়ে আলোচনায় যাজ্ঞবল্ক্য কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ঈশ্বরের সংখ্যা কত? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন তিন শত তিন এবং তিন হাজার তিন। যখন প্রশ্নটি আবার করা হল, তখন তিনি বললেন তেত্রিশ। আবার যখন প্রশ্নটি করা হল, তিনি বললেন ছয়। এভাবে অনেকবার প্রশ্নটি করা হয়ে যাবার পর একদম শেষে তিনি বললেন এক। – (অধ্যায় ১, স্তবক ৯, শ্লোক ১)।

৩৩ সংখ্যাই এসেছে মূলত বৈদিক দেবতাদের সংখ্যা থেকে, যা যাজ্ঞবল্ক্য বর্ণনা করেছেন বৃহদারণ্যকa উপনিষদে। – অষ্টমে বিশ্ব, এগারোয় রুদ্র, বারোয় আদিত্য, ইন্দ্র এবং প্রজাপতি। – (অধ্যায় ১, স্তবক ৯, শ্লোক ২)।

পরবর্তীতে প্রাচীন মানুষ এই ৩৩ এর পেছনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শূন্য যোগ করে দেয়, যত সংখ্যক জীব পৃথিবীতে আছে বলে তারা মনে করতেন।

তো, পরবর্তীতে কেউ হিন্দু ধর্মের ৩৩০ মিলিয়ন দেবতার বিষয়টি আলোচনায় আনলে, সংখ্যাটিকে ধরে নিতে হবে বক্তা, শ্রোতাগণ এবং এই বিশ্বের জীবিত বা মৃত সকল কিছু সহ। আসলে আমাদের প্রাচীন ভবিষ্যৎ বক্তাদের সেই রুপক সংখ্যা আজকের বিশ্বের হিসাবে বিলিয়নে পৌঁছে যাবার কথা।

মিলিয়ন বা বিলিয়ন, প্রকৃতপক্ষে এগুলো আসলে একঈশ্বর বাদের ধারনা কেই প্রকাশ করে, যাকে হিন্দুরা ব্রামন (চিরন্তন সত্য) নামে চেনে, এছাড়া আর কিছুই নয়।
শ্রী কৃষ্ণা ভগবত গীতায় বলেছেন
• আমিই লক্ষ্য, আমিই ভক্ত, আমিই রাজা, আমি সাক্ষী, আমিই অধিবাসী, আমিই আর্ত, আমিই বন্ধু, আমিই সকল কিছুর কারন, আমিই দ্রবীভবন, আমিই মুল, আমিই নিম্নস্থ স্তর, এবং আমিই অভিনাসী বীজ. (অধ্যায় ৯, মন্ত্র ১৮)
• আমিই সকল কিছুর কারন, হে অর্জুন, স্বা-কার – নিরাকার এমন কিছুই নেই যা আমাকে বাদ দিয়ে সম্ভব.(অধ্যায় ১০, মন্ত্র ৩৯০)
• হে অর্জুন, আমাকে সকল সৃষ্টির মুল বলে জানবে. (অধ্যায় ৭, মন্ত্র ১০)

একারনেই হিন্দুরা এই অসংখ্য ভাবে পূজা করে থাকেন।
মুলঃ অভিলাশ, পুনে ভারত
অনুবাদঃ লেখক