ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, শিল্প-সংস্কৃতি

 

আমি আগেও অনেকবার বলে এসেছি এবং এখনও বলছি আর সবসময়ই বলব যে আমি আগে বাঙালি পরে বাংলাদেশি। বাঙালি আমার পরিচয় আমার চেতনা আর বাংলাদেশি আমার জাতীয়তা। অনেককাল আগে যখন আমাদের বাবা, দাদারা এই অঞ্চলে বসবাস করতেন, জাতি নিয়ে দ্বন্দ্ব তখনও তাদের ছুঁতে পারেনি, তখন কিন্তু সব বাঙ্গালিরা একই দিনপঞ্জি মেনে সকল জাতীয় এমনকি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি করে আসতেন। এমনকি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধও ভাগ করে দিতে পারেনি বাঙালিদের এক হয়ে থাকাকে। সব কিছু ঠিক ঠাকই চলছিল। হঠাৎ কোন কাল জাদু ভর করল আমাদের উপর, বাঙালি পরিচয়কে ছাপিয়ে কেন জানি আমরা অনেক বেশি বাংলাদেশি হয়ে উঠতে চাইলাম। চিরন্তন আর আদর্শ বাংলা দিনপঞ্জিকে ভেঙ্গে আমরা তৈরি করলাম আমাদের তৈরি আরেক নতুন দিনপঞ্জি, এ যেন ঢাক ঢোল পিটিয়ে বাঙালি পরিচয় ভেঙ্গে বাংলাদেশি পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা। বাংলাদেশি হলেও যে আমরা যাতে বাঙালি, এ যেন তাকেই ভুল প্রমাণিত করার দৃঢ় চেষ্টা। এই প্রচেষ্টার ইতিহাস আমি ভাঙবনা, তাহলে হয়ত অনেকের বিরাগভাজন হয়ে যাব। আমি তা হতে চাইও না। শুধু এটুকু বলতে চাই, আমাদের জাতিগত পরিচয়কে যারা বিভ্রান্ত করতে চাইছেন তাদের এটুকু ভেবে দেখা উচিত যে তারা আসলে কি? তারা যদি একজন বাঙালি মায়ের সন্তান হয়ে থাকেন তাহলে তাদের মায়ের জাতের প্রতি এমন দীর্ঘমেয়াদি বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আদৌ কি তাদের কখনো ভাল হবে? কখনই বাইরের কোন শক্তি আমাদের কিছু করতে পারে নাই, আমরাই বাইরের হয়ে নিজেদের ঘরের ক্ষতি করে এসেছি। এর প্রমান ইতিহাসের পাতায় অহরহ।

আমি আম বেশিদূর যাব না। তাহলে হয়ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। জাতির পরিচয় পরিষ্কার করতে যদি নিজ জাতির ভাইদের/বোনদের সাথে বিতর্ক করতে হয়, তাহলে তা আমার কাছে নিজের জন্ম পরিচয় নিয়ে বিতর্কের সমান।

সারা পৃথিবীর বাঙ্গালিদের একক দিনপঞ্জি থাকাটা খুবই জরুরি। এজন্য অন্যদেশ এগিয়ে আসুক বা নাই আসুক পৃথিবীর বুকে একমাত্র বাঙ্গালীদের দেশ হিসাবে আমাদের এগিয়ে আশা উচিৎ। এর চাইতে অল্পতে আর মনে হয় না এই ব্যাপারটা বলে বোঝান সম্ভব।
——————————
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট