ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমি একজন খুব সাধারন চাকরিজীবী মানুষ। আর দশজন সাধারন চাকরিজীবী মানুষের মতই আমার দিন অনেক সকালে শুরু হয় এবং রাত ১১টার ভিতরেই শেষ হয়ে যায়। তেমন কোন বৈচিত্র্য নাই আমার এই জীবন প্রণালিতে। অন্তত গত তিন বছরেতো নয়ই। দেশের অনেক কিছুই আমাকে স্পর্শ করেনা। সরকার, রাজনীতি, দেশপ্রেম এই ব্যাপারগুলোকে অনেক বেশি “দেখানোর জিনিষ” মনে হয় আমার কাছে আজকাল। আমি এইসব কিছুকে কেন জানি খুব একটা পাত্তা দেই না।যার কারনেই হয়ত আমার দেশের এত এত খারাপ খবর আর ঘটনার কোন কিছুই তেমন ছুঁয়ে যায় না আমাকে। প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে পরের দিন অফিসে কি করবো, কিভাবে করবো সেগুলোই যেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। এমনই চলে আসছে অনেক দিন। কেউ আমাকে এই ব্যাপারে ঘাটাতেও আসে না তেমন। বাইরের কোন দেশ হলে হয়ত আমার মতো লোকের অনেক প্রয়োজনীয়তা ছিল, কারন নিজেকে ছাড়া অন্য কিছুতে চিন্তা আটকে রাখাটা অনেক দেশেই আইনত দণ্ডনীয়। যদিও আমাদের দেশের নিয়ম উল্টো। নিজেকে নিয়ে ভাবাটাই এখানে অপরাধ আর সব কিছু নিয়ে ভাবাটাই শ্রেয়। এত কিছুর পরেও মাঝে মাঝে আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা মনে দাগ কাটতে চায়। হয়ত পুরোপুরি যন্ত্র হয়ে উঠতে পারিনি বলে। কিছু ঘটনা যেগুলো হয়ত পূর্বের অনেক ঘটনার পুনরাবৃত্তি, কেন জানি বিশেষ ভাবে মনে থেকে যায়। আমি অনেক নগণ্য একজন নাগরিক এই সান্ত্বনাই তখন একমাত্র ঔষধের কাজ করে।

রাজনীতি আমাদের রক্তে থাকা জিনিস নয় সে আমরা বুঝদার সকল মানুষই কম বেশি বুঝি। আমাদের কাছে রাজনীতি মানে অনেক কষ্ট দেয়া জনগণকে আর নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা। রাজনীতির এত নোংরা ব্যবহার বিশ্বের আর কোন সভ্য দেশে আছে কিনা আমার জানা নেই। হয়ত থাকতেও পারে। হয়ত আমি কম জানি।

গনতন্ত্র নামক পাশাখেলার মধ্যে আমরা জনগণ প্রতিনিয়ত হেরে যাচ্ছি। হাস্যকর ব্যাপার হল তাও আমরা বুঝছি না, বোকার মতো খেলেই যাচ্ছি। শিক্ষাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। সেটার অভাব বইয়ে নেই আর, সেটার অভাব আমাদের চিন্তায়। বই পড়িয়ে সুশিক্ষিত হয়ত করা যায় হয়ত, কিন্তু চিন্তার শিক্ষা কেবল বই দিতে পারে না। তার সাথে অনেক কিছুই লাগে। আমি কাউকে বা কোন দলকে দোষ দিয়ে অকালে কারো শত্রু হতে চাই না, কিন্তু মনের ভিতরে ছোট্ট একটা জায়গায় আশার আলো আজও জ্বালিয়ে বসে আছি এই আশায়, যে সকাল একদিন হবেই। রাতের আধার একদিন ঘুচবেই। পাখির ডাকে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোর ঘুম একদিন ভাঙবেই। সকালের আলো সবাইকে আলোকিত একদিন করবেই।