ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

ছবিটি প্রথম আলো দৈনিক পত্রিকার “রসআলো” শাখার প্রচ্ছদ। আমার অনেক প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর এক সময় বলেছিলেন যে, “যেই ভাষা আন্দোলন এর প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা এখন অস্পৃশ্য। বাংলা বিষয় ছাড়া কোন বিষয়ে এখন বাংলা পাঠ্য পুস্তকও এখন আর নেই। বাংলার ব্যবহার পারলে আরো উঠিয়ে দেবার পাঁয়তারা চলছে”। আমার নিজের পরিবারের ভেতরে নব্য সদস্যরা এখন কথা শেখে বাংলার আগে হিন্দিতে। বিশ্বায়নের এমন অদ্ভুত ভয়াবহ ব্যবহার আমার মনে হয় না বিশ্বের অন্য কোন রাষ্ট্রে আছে। বাংলাতে ইন্টারভিউ দিলে কারো চাকরি হয় না, বাংলাটা বাংলার মতো করে বললে সেটা “খ্যাত” শোনায়, বাংলার ভিতরে ১২ আনা ভিন্ন ভাষা না থাকলে স্মার্ট বলা যায় না তাঁকে। আরও কতো কি?

এইসব আমাদের “আজকালের” ধারনা। আমি ভাই অশিক্ষিত খ্যাত মানুষ অন্য ভাষা বুঝিও কম কইতেও পারি কম।৭১ বা ৫২ আমি দেখি নাই, কিন্তু আমি এইটুকু বুঝি আমার মায়ের ভাষার জায়গা সবার উপরে রাখা উচিৎ। তা নাহলে মাকে অপমান করা হবে। আমার আজকের এই লেখা আসলে ফেব্রুয়ারির জন্য নয়। আমি সারা বছরই চেষ্টা করি আমার সব কাজের ভেতরে বাংলাকে রাখতে। আমার এই লেখার মহত্ত্ব হল; এতই যদি আমাদের অনিহা বাংলায় ! তাহলে কি দরকার ছিল ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের আর ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের ! ৫২ তে ভাষা ভাষা করে বারাবারি না করলে তো ৭১ আসতো না। এখন বাচ্চারা হিন্দি বলে, তখন না হয় উর্দু বলতো। সেটা তেমন কোন তো পার্থক্য হত না। কারন হিন্দি আর উর্দু তো শুনতে এক রকমই লাগে। এই লেখাটি হয়তো অনেকেই পড়েও দেখতে পারবেন না কারন বাংলা সফটওয়্যারও ইনস্টল নাই তাদের কম্পিউটার বা মোবাইলে। হায়রে কপাল আমাদের ……………

অমিত
ঢাকা ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩