ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

কোন একটা কবিতার লাইন এটা, অনেক ছোটবেলায় পড়েছিলাম। কোন কবির, কোন কবিতার লাইন তা কিছুই মনে নেই। তবে কথাটি ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ সকল বয়স, পেশার মানুষের জন্য। সবাই কিন্তু আমরা কথাটির প্রকৃত মানে কমবেশি জানি। আমাদের তো আবার জেনে না জানার মতো আচরন করার অভ্যাস পৃথিবীর আর যেকোনো জাতির চেয়ে বেশি। যাই হোক আজকে এই জানা ব্যাপারটির উৎস টেনে আনার পেছনে আমার একটি উদ্দেশ্য আছে। যেটা হল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। হয়ত মনে করতে পারেন কোথা থেকে আমি কই যাই? আসলে ভেবে দেখুন ব্যাপারটা, বড়দের চিন্তা আগে না করে আমরা যদি ছোটদের চিন্তা আগে করতাম, তাহলে আজ কি, বিকল্প ধারাকে সভ্য আর মুল ধারাকে অসভ্য বলতে হতো আমাদের? একটু ভেঙ্গে বলি। চলচ্চিত্র “জীবনের কথা বলে” সেই হিসাবে জীবন ও চলচ্চিত্র একই চিত্রনাট্য হবার মতই হওয়া উচিৎ। অন্য দেশ বা আমাদের নিজেদের বিকল্প ধারা বাদ দেই, ভুলে যাই সব কিছু, এখন ভেবে দেখি কি আমাদের চলচ্চিত্রের মূলধারা, কি আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি?

আমি নৈরাশ্যবাদী নই মোটেও। আবার অলিক কল্পনা আমার অসহ্য লাগে। আমি চলচ্চিত্র বোদ্ধা নই, তবে সাধারন আর ১০ জন মানুষের মতো দৃষ্টিকোণ আমার আছে, আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বলতে পারি আজকের আমাদের চলচ্চিত্র মাধ্যম যদি আরও বেশি এবং প্রায় নিয়মিত ছোটদের নিয়ে কাজ উপহার দিতে পারত তাহলে চিত্রাভিনেতা নিয়ে আমাদের যে সংকট তাও যেমন থাকতো না উপরন্তু চলচ্চিত্র মাধ্যম মধ্যবিত্তকে সিনেমাহলে নিয়ে আসতে পারত। আজকের আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অস্থিরতাকে চলচ্চিত্রের বেহাল হালের জন্য দায়ি করে থাকেন কিছু মহল। কিন্তু আমি বলব উল্টো করে, আমাদের বর্তমান সামাজিক ও নৈতিক বেহাল দশার দায়,আমাদের চলচ্চিত্র এড়াতে পারবে কি? একটু ভেবে দেখুন, আপনিও একমত হবেন আমার সাথে। বিকল্প ধারা কেন সৃষ্টি হবে? আমি ঘোরতর বিরোধী বিকল্প ধারা সৃষ্টি নিয়ে। কেন আমাদের মূলধারা মধ্যবিত্তদের সিনেমা হলে আনতে পারবে না? আমাদের চলচ্চিত্রের একসময়কার মূলধারা মধ্যবিত্তদের সিনেমা হলে আনতে পারত। এখন কেন পারছে না? আমরা কি এত নিচে নেমে গেছি? এত সংগ্রাম করতে জানা এক জাতির অর্ধপথ এত সহজে আর এত তাড়াতাড়ি হবে? আমি তা মানতে নারাজ। কিছু অর্থলোভী থাকতেই পারে, সে সব দেশেই থাকে, কিন্তু তাই বলে পুরো একটা মাধ্যম এইভাবে একমুখী হতে পারে না। হওয়া উচিৎ না। শিশুদের চলচ্চিত্র শুধু যে নির্মল বিনোদনই দেয় তা নয়, অনেক ভুলে যাওয়া ন্যায় নীতির কথা আবার মনে করিয়ে দেয়া যায় সহজেই, যা বড়দের চলচ্চিত্রে অনেক ঘাম ঝরিয়েও অনেকসময় ঠিক মতো উপস্থাপন করা হয়ে ওঠে না। আজকে ছোটরা যখন দেখবে বড়রা ওদের ভাল কিছু শেখাতে চাইছে, তখন ১০০ জনের ভেতর, ৮০ জনই তা ভাল ভাবে গ্রহন করবে এবং ওরা যেদিন বড় হবে ৯০% ক্ষেত্রেই ওরাও ওদের পরবর্তী প্রজন্মের সাথে এভাবেই আচরন করবে। আর এই নিয়মিত ভাল কাজের চর্চা আমার তো মনে হয় না জাতিকে খারাপ কিছু দেবে। কাজেই কবিতার কথার মতই শুরু করতে হবে ছোটদের দিয়ে। তাহলেই অনেক কিছুর মতো বেঁচে যাবে আমাদের চলচ্চিত্র (মূলধারা)।