ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

সৌদি আইন মানবতা বিরোধী না “ইসলামি শরিয়া” আইন মানবতা বিরোধী সে সংক্রান্ত কোন আলোচনায় আমি আসব না বা বলতে পারেন এই ধরনের কোন আলোচনায় এসে আমি বিতর্কে নিজেকে জড়াতে চাই না। আমি কিছু বিষয়ে কেবলমাত্র সকলের আলোকপাত করার চেষ্টা করব। খুব সহজ আর সাধারন কিছু বিষয়ে। যেগুলো বুঝতে একটি ঠাণ্ডা মাথাই যথেষ্ট, আর কিছু লাগে না। যাদের শিরচ্ছেদ করা হল তাদের অপরাধ ক্ষমার যোগ্য নয়, যদিও আমি আসলে জানি না তাদের অপরাধ আসলেই ছিল কিনা। যতটুকু জানি (ইন্টারনেট আর পত্রিকার কল্যানে) তারা অপরাধী ছিলেন। fecebook বা অন্যান্য ব্লগ মাধ্যাম এরই মাঝে পক্ষে বিপক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগই অবশ্য আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আপাতভাবে ঘটনাটিকে সমর্থন করেছেন। যারা করছেন না তারাও খুব একটা ভারি যুক্তি দেখাতে পারছেন না। আর গুটিকয় যারা যুক্তি দেখিয়ে কিছু বলতে চাইছেন তারা আবার কট্টরপন্থি কিছু মহলের বাক্যবাণে জড়িয়ে পড়ছেন।

আসলে কেন ব্যাপারটিকে সমর্থন করা যায় না বা যাওয়া উচিৎ নয়? এর পেছনে অনেক ধরনের যুক্তি আছে এবং এমন কিছু যুক্তিও আছে যা হয়ত অনেক কট্টরপন্থির পক্ষেও খণ্ডান সম্ভব নয়।
আমি আসলে আজকে আমার বিগত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতার যুক্তি খণ্ডন করার চেষ্টা করবো। সবার কাছে বিষয়টা ভাল লাগবে আশা করছি না। যারা বলে আসছেন দণ্ডিত ৮ জন অপরাধী ছিলেন এবং তাদের অপরাধ সংঘটনের দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিৎ তাঁদেরকে আমি কিছু বলার চেষ্টা করছি, দয়াকরে আগে ঠিকমত শুনে পরে মন্তব্য করবেন। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা চোরাচালানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের যদি বিএসএফ গুলি করে এবং তাতে যদি তার মৃত্যু হয় তাহলে সেটা নিয়ে কিছু বলা বোধয় আপনাদের ঠিক হবে না। কেননা সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের গুলি করার আইন তাদের আছে।অতীতে যদি এই ব্যাপারে মানবতা লঙ্ঘন নিয়ে কিছু বলে থেকে থাকেন তাহলে দয়া করে সেই সব মত্তব্য প্রত্যাহার করে নেবেন নয়তো লোকে ভাবতে পারে আপনি ধর্মীয় কট্টরপন্থি।
সৌদি শাসন ব্যাবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনেকে, কেননা সে দেশে নাকি অপরাধ অনেক কম হয় তাদের শাসন ব্যাবস্থা “ইসলামি সরিয়া” মোতাবেক হবার কারনে। আমার আলকপাতের জায়গাটা একটু ভিন্ন দিকে, কোণ দেশ কি পরিমান অপরাধ প্রবন সেটা আসলে কেবলমাত্র শাসন ব্যাবস্থার উপর নির্ভর করে না। দেশটির আন্তজাতিক গুরুত্ব, সম্পদ, ভুগলিক অবস্থান, ধর্ম, ক্ষমতাধর প্রভাবশালী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক এমনই অনেক বিষয়ের উপরে নির্ভরশীল। আসলে এই ব্যাপারগুলোই পরোক্ষভাবে দেশটির শাসনব্যাবস্থা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। ধর্মের ভয় দেখিয়ে যদি আদৌ কিছু হত, তাহলে অনেক আগেই পৃথিবী অনেক সুন্দর হয়ে যেত। ধর্ম যদি হিংস্রভাবে কাউকে ভয় দেখায় বা চেষ্টা করে, তা ধর্মের জন্য যেমন সুখকর নয় ঠিক তেমটি মানুসের জন্যতো নয়ই। এতে বরং লুকিয়ে অপরাধ করার প্রবনতা বেরে যায়। এটি আমার কোন মতবাদ নয়, বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। ধর্ম শান্তির জন্য, ভয় দেখাবার জন্য নয়।

সৌদির সাথে আমাদের দেশের তুলনা করেছেন অনেকে এই বলে যে, বাংলাদেশের মত ক্রস ফায়ার, পিটিয়ে মানুষ মারা, গুম করে খুন করা ইত্যাদি সৌদিতে হয় না। আমরা খারাপ ধরে নিলাম, আমাদের দেশ ও মানুষ খারাপ তাও ধরে নিলাম তাই বলে কি সৌদি বাসীদেরও খারাপ হতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ভাবে ওই ৮ জনের জন্য আবেদন করেছেন খোদ আমাদের রাষ্ট্রপতি, তাতে কর্ণপাত না করে আমাদের অনেকের প্রানের প্রিয় (দুঃখিত এইভাবে বলার জন্য) সৌদি কি আমাদের দেশের অপমান করে নি?

আরও অনেক অনেক কথা মুখ ফসকে বেড়িয়ে পরতে চায়, যতনা ভয় পাই তার চেয়ে শঙ্কা হয় যদি কাছের কত্তরপন্থি বন্ধুবর মানুষগুলো দূরে চলে যায়। কাউকে বা কোন বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা আমার লক্ষ্য নয়। কিন্তু সামান্য আমি যা বুঝি মানবতার উপরে কোন ধর্ম হয় না। ধর্ম যদি মানবতার তাগিদে মানবতা ভাঙতে বলে থাকে তাহলে আমার মনে হয় না তাতে আদৌ মানবতা রক্ষা পাবে। সবাই ভাল থাকবেন।