ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সাম্প্রতিক কালে ঢাকার বিয়েবাড়ি গুলোতে (আমি আমার আলোচ্য এলাকার বাইরের এলাকাগুলো থেকে এরকম খবর শুনে থাকলেও দেখিনি কখনো) একটি নতুন কালচার যোগ হয়েছে সেটা হল আতশবাজির ব্যাবহার। আমি জানি না সবাই ব্যাপারটিকে কিভাবে দেখবেন কিন্তু যারা আমার মতো ভুক্তভোগী তারা হয়ত জানেন এর প্রভাব

একটি উদাহরন দিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আসি। ঢাকার অন্যতম একটি বৃহৎ সরকারী আবাসিক এলাকা আজিমপুর। কলোনির বাইরেও আজিমপুর মুলত একটি বৃহৎ আবাসিক এলাকা। এছাড়াও বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর আশেপাশে অবস্থান করায় সব মিলিয়ে আজিমপুর বিকালের পর বেশ নিশ্চুপ এলাকায় পরিনত হয়। এটা অনেকেই উপভোগ করে থাকেন, কেননা আবাসিক এলাকা এমনটিই হওয়া উচিৎ। এটি লেখাপড়া কিংবা অসুস্থ মানুষের জন্য উপযোগী।

সাম্প্রতিককালে আজিমপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠেছে। এটির অবস্থান আজিমপুর কবরস্থান সড়কের উপরে। আবাসিক এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার থাকাটা কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। এটা এক হিসাবে দরকারি। বলে রাখা ভাল আজিমপুরের এই এলাকাটি পুরনো ঢাকার গেইটওয়ে হিসাবে পরিচিত কারন এর পর থেকে দক্ষিণে গেলে পুরনো ঢাকা শুরু হয়ে যাবে। সে কারনেই হোক বা অন্য যে কোন কারনে এই কমিউনিটি সেন্টারের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই পুরনো ঢাকার লোক জনেরাই করে থাকেন। যারা পুরনো ঢাকার কালচার সম্বন্ধে কিছুটা ধারনা রাখেন তারা জেনে থাকবেন ওদের কোন অনুস্থানের আনুষ্ঠানিকতার ধরন। যেকোনো বিয়ে, বৌভাত, গায়েহলুদ কিংবা আকিকা সব ধরনের অনুস্থানেই ওরা ব্যাপক ধুম ধামের সাথে করে থাকে এবং অনেক রাত পর্যন্ত। এসব কথা গুলো আমি বলছি একটি কারনে। তাদের নিজস্ব কালচার যদি হয়ে থাকে এসব তাহলে আমাদের আসলে উচিৎ আরও উৎসাহিত করা। কারন অনেক কালচারাল ব্যাপার হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে কালের বিবর্তনে। কিন্তু হাই ভলিউমে হিন্দি গান বাজানো কি আমাদের কালচারের মধ্যে পরে? রাত দশটা থেকে ১ টা – ২ টা পর্যন্ত বিকট শব্দে আতশবাজি পরানো তাও আবার কবরস্থান সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের উপরে, যা কিনা পার্শ্ববর্তী এলাকায় আতঙ্ক এবং সড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি করে এগুলো কি আমাদের কালচারের মধ্যে পরে? হিন্দি গানের তালে তালে প্রকাশ্য রাস্থায় মাঝ রাতে ছেলে মেয়েদের অসভ্য নৃত্য কি আমাদের কালচারের মধ্যে পরে? বিয়ে কিংবা বৌভাতের কোন অনুস্থান ঐ কমিউনিটি সেন্টারে যেদিন থাকে এবং সেদিন এলাকায় যারা ব্যাপারটা জানেন তাদের ভেতরে আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকে, এই বুঝি বিকট শব্দ শুরু হয়ে যাবে। আজিমপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকা বিস্তৃত এবং উঁচু ভবন তুলনামুল কম থাকায় রাতের নিস্তব্ধতা অনেকখানি লুণ্ঠিত হয় কতিপয় অবিচক্ষণ, সল্পশিক্ষিত লোকের আনন্দের জন্য। বিদ্যার্থী কিংবা অসুস্থ লোকেদের জন্য ঐ মুহূর্ত গুলোতে আজিমপুরে থাকাটা অভিশাপ মনে হয়। আসলে সবারই সমস্যা হয়ে থাকে আমি এই দুই শ্রেণীর কথা বলছি কেননা আমার নিজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এদের সাথে।

আতশবাজি পোড়ানর ব্যাপারে কোন আইন আছে কিনা আমার জানা নেই। সব কিছু আইন দিয়ে হয় না আমি এটাও জানি। জনগনের মাঝে যদি সামান্যতম কমন সেন্স না থেকে থাকে তাহলে আইন অসহায়। আইন যদি রিং মাস্টার হয়ে না ওঠে তাহলে এদেশে কোন কাজ হয় না। এটাই আমাদের দেশের নিয়ম আর সমস্যা হয়ে গেছে। আমি ভুক্তভুগি বলে হয়ত বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি তবে এই সমস্যা আরও বিস্তৃত হবে ঢাকার অন্য এলাকাগুলোতে এতে কোন সন্দেহ নেই। আমার নিজস্ব অভিমত থেকে যা মনে হয় দেশে হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব এর একটি সামান্য নমুনা এটি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে ভারতে থেকে দেখেছি ওদের সাধারনের কালচার মোটেও এরকম নয়। যাই হোক, আমাদের উচিৎ এই ব্যাপারগুলোতে আরও যত্নবান হওয়া। নয়ত দেখা যাবে এই ধরনের ব্যাপারগুলো একসময় সঙ্ঘাতের জন্ম দিবে। সেটা করো জন্যই ভাল হবে না।