ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

১৭ই ফেব্রুয়ারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১০ম আসর শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকায় উদ্বোধনী দিয়ে। আয়োজনের ব্যাপক আয়োজন কর্তৃপক্ষের । আপাত জঞ্জাল ঢাকাকে অমরাবতীর কাছাকাছি আনা চাইই চাই। কোন কিছুতেই কার্পণ্য রাখা যাবে না । হাজার হোক বিদেশি অতিথিরা যেন কিছুতেই, আমরা আদতে কি তা বুজতে না পারে তারই প্রাণান্তকর চেষ্টা । প্রাণান্তকর বললে মনে হয় বেশি বলা হবে কেননা আমার মতো যারা সাধারণ আম জনতা তাদের কাছে এই চেষ্টার বয়স ১ মাস বা তার কিছু বেশি হবে । আমি খুবই সামান্য একজন চাকুরীজীবি সাধারণ মানুষ, আমার চোখে যা অদ্ভুত লেগেছে, আমার মনে হয় অন্য আর দশজন সাধারণ মানুষের চোখেও তাই মনে হবে । অদ্ভুত লাগা সেই সব অভিজ্ঞতার মধ্যে একদিনের কিছু আজব অভিজ্ঞতাই আমি আজ উপস্থাপনের চেষ্টা করব।

চাকরি সূত্রে আমি বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের সাথে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত । ভয়ের কিছু নাই, আমি ঐ সংক্রান্ত কোন আলোচনাই এখানে করব না বা করতে আসিও নাই । সি ডি বি এল নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০০৪ সাল থেকে (আমি যদি ভুল না হই) বিও একাউন্ট নামক একটি বিশেষ একাউন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক শেয়ারের প্রচলন করে । ব্যাস আর না, এটুকু বললাম কারন আমার কাহিনী মূলত সি ডি বি এল কে নিয়ে বর্তিত হবে। তাই বিষয়টা বা প্রতিষ্ঠানটা কি তাই শুধু এক কথায় বললাম।

‘অতিথি নারায়ণ’, তাই অতিথির চোখ যেন কিছুতেই খারাপ কিছু না দেখে সেই চেষ্টা চলছে । আমরা যারা অতিথি না তাদের এই চেষ্টা দেখে বড় কষ্ট হয়, মনে মনে বলতে ইচ্ছা করে, কেন যে অতিথি হলাম না । যাই হোক এদেশে আমাদের জন্ম দেবার নিশ্চয় কোন উদ্দেশ্য ‘তার’ আছে, হয়ত পোড়া এইদেশকে আমরাই টেনে তুলব একদিন সেই আশায় । সি ডি বি এল, সমস্ত মেম্বার হাউজ গুলোর সাথে তারের মাধ্যমে সম্পৃক্ত । এখনকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ ভাবতে কষ্ট হতে পারে অনেকের, পরন্তু ব্যাপারটা বাস্তব । এর পেছনের ইতিহাস ভাঙাতে চাইনা আমি, তার দরকারও নাই আমার ঘটনা বর্ণনাতে । যাইহোক যেহেতু ঢাকা বাস্তবে কোন অংশেই ‘অমরাবতীর’ কাছাকাছি না, তাই এই শহরের মাথার উপরে দেখা যায় অনেক তার । সে এক অন্যরকম সৌন্দর্য । ভাষায় বর্ণনা করা যায় না যা । এই বিশাল তারের সাম্রাজ্যে ছিল সি ডি বি এলও কিছু অংশীদার । কিন্তু এইরূপ ঢাকাকে কি ভালভাবে নেবে বিদেশী অতিথিরা ? অনেক চিন্তার পর তারা ঠিক করলেন, না সম্ভব না, ফেলে দেও সব তার, দরকার নেই আমাদের এইসব তারের । যেই না বলা অমনি কাজ, (অন্য কিছুতে না হলেও এই ব্যাপারে হয়েছে । লক্ষন শুভ ।) কাঁটা পরল তার সেই সাথে সি ডি বি এল এরও বাড়ল ভার । সমস্ত দিনের প্রাণান্তকর চেষ্টা বিফল করে দিয়ে ব্যর্থ হল সি ডি বি এল অনলাইনে আসতে । পরের দিনের পত্রিকা যারা পড়েছেন তারা হয়ত বাকিটা জানেন, না জেনে থাকলে দয়াকরে জেনে নেবেন কেননা আমি আর সেই ব্যাপারটা বর্ণনা করব না।

কিছু প্রশ্ন,
১। ঢাকা যেহেতু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুস্থানের জন্য মাস ৬ আগে নির্বাচিত হয়নি, তাহলে কেন এত দেরীতে আর তড়িঘড়ি করে আয়োজন সম্পন্ন করার চেষ্টা ?
২। ঢাকা শহরের তার ব্যাবস্থা একদিনে এই বাজে অবস্থায় আসে নাই, ওভারহেড ক্যাবল মাস ৬ য়েক আগে থেকে সরকার তুলে দিতে বলা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের এতদিন কেন লাগল ?
৩। সি ডি বি এল ওভারহেড ক্যাবলে সংযুক্ত এই ব্যাপারটি কি কারোরই মাথায় ছিল না, যেখানে সি ডি বি এল একদিন সংযোগহীন থাকা, মেম্বার হাউজগুলোর কাছে ছিডর বা সুনামির সমান দুর্যোগ ।
৪। সেদিনের বিপর্যয় সি ডি বি এল তার সদা সতর্ক কর্মী বাহিনী দিয়ে সামাল দেতে সফল হয়েছিল, কিন্তু এর পরে এমন কিছু হলে আমি নিজেও সন্দিহান সি ডি বি এল কি পারবে না পারবে ।
৫। দেশের শেয়ার বাজার যেখানে এখন অনেকের কাছেই একটি বিপর্যয়, ভয়, ঘৃণা আর আতঙ্কের নাম, সেই সময় সি ডি বি এলের মতো একটি প্রতিষ্ঠান যারা শেয়ার বাজারের সাথে সরাসরি জড়িত তাদের প্রতি কি কতৃপক্ষের বিশেষ মনযোগী হওয়া উচিৎ না ?

আরও অনেক প্রশ্ন আসে, সব সময় সব প্রশ্ন সব জায়গায় করতে নেই।