ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশ সংশ্লিষ্ট ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাকে আগাম আসন্ন কিছু দুর্যোগের কথা বারে বারে মনে করিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং তারমধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আর বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের বিনাশ ঘনিয়ে আসা এই রকম কিছু বিষয় নিয়ে আজকে আমি কিছু বলার চেষ্টা করবো। আমার বলার ভাষা অনন্য হবে সেটা বলছি না, কিন্তু ভাবনার জায়গাটায় আমি অনন্যের দাবী করতে চাচ্ছি।

ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের এবং বলা চলে সর্ববৃহৎ প্রতিবেশী। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সবল কোন রাষ্ট্র দুর্বল কোন রাষ্ট্রের প্রতি খালি খালি মাতৃসুলভ আচরন করবে সেটা যারা কামনা করে তাঁরাই ভুল করে। কাজেই দুর্বল রাষ্ট্রের উচিৎ সবল রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিয় কোন ব্যাপারে নিজের পয়েন্ট জোরাল ভাবে সামনে নিয়ে আসা। সুযোগ সবাই নিতে চাইবে, আমরা যদি দেই। ভারতের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন কখনই বাংলাদেশের ব্যাপারে তাঁদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন ঘটায় না, যা আবার আমাদের ক্ষেত্রে ঘটে। অথচ বৃহৎ সবল প্রতিবেশী মোকাবেলায় আমাদেরই যেখানে অনেক বেশি কঠোর থাকার দরকার ছিল দ্বি – পক্ষিয় ব্যাপার গুলোতে। ভারত আমাদের শোষণ করছে না আমরা নিজেদের শোষিত করছি সেটা আসলে একটু ভাবলেই পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা। তার পরও এই ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয় কিন্তু কোনই সামাধানে কেউ কখনই আসেন না। ভারতের নিজেদের অনেক আন্ত রাষ্ট্রীয় সমস্যা রয়েছে, তারা সেগুলোকেই আগে গুরুত্ব দেবে সেটাই স্বাভাবিক, তার জন্য প্রতিবেশীর উপর দিয়ে পারাপারের দরকার পরলেও তারা পিছপা হবে না সেটাও স্বাভাবিক অথচ আমরা? নিজেদের জমি, সম্পদ নষ্ট করে যদি আমরা ওদের পারাপারের রাস্তা করে দেই এবং পরে চিৎকার করে বলে বেড়াই “প্রতিবেশীরা আমাদের শোষণ করছে” সেটা কি আদৌ কোন ভিত্তি বহন করে? আমরা শোষিত হতে চাইলে সামর্থ্যবানরা শোষণ করতে চাইবে না কেন? এরকম হাজারো ব্যাপারে আমাদের নিজেদের ভেতরে কোন মিল না থাকায় আজকে “ভারত প্রীতি” ও “ভারত বিদ্বেষ” শব্দ দুটি ঘন ঘন সামনে চলে আসছে আজকাল।

আরও একটি বিষয় আমাকে শঙ্কায় ফেলেছে আজকাল। ভারত ও বাংলাদেশ দুটি ভিন্ন ধর্ম প্রধান দেশ। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ত ব্যাপারটি তেমন ভয়াবহ নয় কিন্তু বাংলাদেশের জন্য আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়াবহ ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে, ভারত বিদ্বেষের সাথে সাথে ধর্মীয় বিদ্বেষ। অনেকের মন্ত্যব্ব্যে আজকাল ভারত বিদ্বেষের সাথে সাথে স্পষ্ট ধর্মীয় বিদ্বেষ। ব্যাপারটি আতঙ্কিত করে যখন শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভেতরে এর প্রভাব দেখি। এর কিছু কারণও আমি বের করেছি। এরকম চিন্তা মাথায় আসার কারন হতে পারে হিংসা, দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ এবং সর্বোপরি ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধীদের চেতনার বিকাশ। আমি আগেও কোন এক জায়গায় বলেছিলাম ৭১ এর ২০, ০০০ স্বাধীনতা বিরোধী চেতনা এখন ৬ কোটি লোক বহন করে বেড়াচ্ছে। তাঁদের কোন দিনও খুঁজে খুঁজে বিনাশ করা যাবে না। বিষাক্ত সাপে কামড়ালে তাৎক্ষনিক ঐ জায়গার আশেপাশে শক্ত করে বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ করে ঐ ব্যাক্তিকে বাঁচান যায়, যা দেরি হলে সারা শরীরে ঐ বিষ ছড়িয়ে যায়, যার পরিণাম মৃত্যু। তখন রক্ত থেকে আর বিষকে আলাদা করা যায় না। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই উদাহরণ অনেক বেশি যোগ্য।