ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আজ বৃহস্পতিবার। কাল শুক্রবার। কর্মজীবী মানুষের জন্য আজকের দিনটা ব্যাপকভাবে কাম্য একটা দিন। কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান শুক্রবার বন্ধ থাকে। যাদের থাকেনা তেমনি এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আমার এই বন্ধুটি। বিকালে বাসায় ফিরে মনটা খারাপ ছিল। আমার আরেক অতি প্রিয় বন্ধু সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভব্য বিবাহযোগ্য পাত্রীর সন্ধান পেয়ে যাওয়ায় তাতে এতই মশগুল হয়ে পড়েছে যে ভেবে ভয় পাই বিয়ে হয়ে গেলে আমার অবস্থানটা ওর কাছে কোথায় যেয়ে দাঁড়াবে। যে বন্ধু দিনে দুবার আমাকে ফোন করত কারনে অকারনে সে কিনা দু’সপ্তাহতেও কোন খোঁজ নিলনা আমার?

ফোন দিলাম আমার শুক্রবার অফিসগামী বন্ধুটিকে। যাহ. . . . ভুলেই গেছিলাম! আজ না তার এম বি এ ক্লাস আছে? তা না হলে ফোন কেটে দিলো কেন? ধুর মন ভাল করার এই সুযোগটাও গেল। বাইরে চলছে আগামীকালের বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচের উৎসাহ ব্যাঞ্জকদের চিৎকার চেঁচামেচি। আমার সেদিকে মন নেই। যান্ত্রিক বন্ধু কম্পিউটার আর ইন্টারনেটও আমার মন ভরাতে পারল না। চুপ করে শুয়ে রইলাম বিছানাতে।

ন’টার দিকে হটাৎ শুক্রবার অফিসগামী বন্ধুটির ফোন। সে ‘স্কুল (এম বি এ) থেকে’ ফিরছে। আজ তার ক্লাস ডেট না তবে পরীক্ষা ছিল। এজন্য ফোন কেটে দিয়েছিল। আমাকে সম্মানিত করল সে এই বলে যে আমি ‘খ্যাত’ না, তাই একবার ফোন কল কেটে দেবার পরও বারে বারে কল দেই নি। আমিও সমানিত বোধ করলাম। সে নাকি ‘স্কুল’ থেকে হেঁটে ফিরছে। মনে মনে ভাবলাম আমার সংস্পর্শে ছেলেটা পাগল হয়ে গেল নাকি? নাহলে বনানী থেকে আজিমপুর হেঁটে আসার পরিকল্পনা মাথায় আসে কোথা থেকে? না বন্ধু আমায় আশ্বস্ত করলো পাগল সে এখনও পুরোপুরি হয় নি। রিক্সা না পেয়ে ‘স্কুল’ থেকে বাস স্টপ পর্যন্ত হেঁটে আসছে সে। ২ মিনিটের মতো স্থায়ী শিশুসুলভ বাৎচিত মনটাকে ভাল করে দিলো আমার। একদিকে একবন্ধু কিছুদিনের পরিচিত নারীসঙ্গে ভুলে গেল এতদিনের পরিচিত বন্ধুত্বকে, অন্যদিকে শত বাস্ততার পরেও আমাকে সামান্য মনে করে মন ভাল করে দিলো অন্যজন।

আমাদের চাওয়া পাওয়া গুলো আসলে খুব বেশি বড় না। আমরা অনেক ঘুরিয়ে সেই চাওয়া গুলোকে পেতে চাই। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। নিজের সামান্য সময় যদি আমরা অন্য কাউকে দিয়ে অন্যকে আঁধার থেকে আলোতে আনতে পারি তাহলে ক্ষতি কি? বিধাতাতো আমাদের ভাল কাজের জন্যই এ ধরায় পাঠিয়েছেন। আমরা বেশিরভাগ সময়েই আসলে বুঝি না যে আমরা কি চাই, কেন চাই, আদতে চাইকিনা? চাওয়া পাওয়ার দোলাচলেই কেটে যায় আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়।
বিদঘুটে শব্দের কলিং বেলটা হঠাৎ বেজে উঠল।

(কাহিনীটি আংশিক সত্য। ঘটনা প্রবাহের প্রয়োজনে কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। )