ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

ফেসবুক নামক সামাজিক যোগাযোগ সাইটে জীবনের মূল্যবান সময়গুলির আধেকটা ঘরে বসে পিসির সামনে একলা অসামাজিক ভাবে ব্যায় করিবার পর কেন জানি মনে হইতেছে, ইহা একটি মস্ত বড় রকমের ভুল ছিল। সব সময় এরকমটাই ঘটিয়া থাকে। যখন কিছুই করিবার থাকে না তখন বোধদয় নামের একটি শব্দ মাথার ভেতর ঘুরপাক খাইতে থাকে। নিজের কৃতকর্মের জন্য কষ্ট পাইবার এহেন ঘটনা মোটেও নতুন কোন ইতিহাস নয়। তবুও জানি না কেন বারবার ভুল হইয়া যায়। হয়তো এজন্যই প্রচলিত রহিয়াছে “মানুষ মাত্রই ভুল করে” নামক সান্ত্বনা মূলক প্রবাদটি। তাই নিজেকে এই যাত্রায় মানুষ ভাবিয়া এই চরম বোকামিকেও মহৎ ব্যাক্তিদের মত ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখিয়াছি।

আমার চরম বোকামির দুই একটা উদাহারন না দিলে বিষয়টি গুরুত্ব পাইবে বলিয়া আমার মনে হইতেছে না। উদাহারণ স্বরূপ, ছোটবেলায় বাবা শিখিয়েছিলেন টাকার অঙ্ক যত বেশী তাহার মূল্য তত বেশী। কিন্তু আমার মাথায় কেমন করিয়া জানি ঢুকিয়া গিয়াছিল “অঙ্ক যত বেশী মূল্য তত বেশী”। এরপর থাকিয়া প্রত্যক বছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বড় অঙ্কের রোল নম্বর হওয়া আর কেউই ঠেকাইতে পারেন নাই। আরও একটি ঘটনা বলি, একবার আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করিয়াছিলাম আমি এত বোকা কেন? আমার মনে আছে আমি আর বাবা অনেক মজা করিয়া খোশগল্প করিতেছিলাম। আমার এই অবাঞ্চিত প্রশ্ন শুনিয়া বাবা চুপ হইয়া গিয়াছিলেন। আমাদের সেদিন আর গল্প করা হয় নাই। আমি জানি না বাবা কি ভাবিয়াছিলেন, তবে আমি নিশ্চিত “এই ছেলেটা এত বোকা কেন” এর বাইরে কিছু ভাবিতে পারেন নাই। জীবনের এই মাঝপথে আসিয়া প্রতিটি ক্ষণে উপলব্ধি করিতেছি আজও আমি বোকাই রহিয়া গিয়াছি।

“তবু আমি বোকাই রব এটাই আমার অ্যাম্বিশান” নচিকেতার এই বিখ্যাত গানটির মত বোকা থাকাটা আমার অ্যাম্বিশান নয়। কিন্তু এই মহাকালের চক্র থাকিয়া আর বেরুতে পারিলাম কই? তারপরও ফেসবুকের ঐ নীল পাতার নীল নেশার হাতছানিকে উপেক্ষা করিয়া আজ আমি নীল নির্বাসনে এসে দাঁড়িয়েছি এই অর্জনটুকুও আমার কাছে একেবারেই ক্ষুদ্র নয়।

নীল
ঢাকা, বাংলাদেশ।