ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

ঊনবিংশ শতাব্দীতে হলুদ সাংবাদিকতার দুই পথিকৃত Joseph Pulitzer এবং William Randolph Hearst দের মত গণমাধ্যম কর্তাব্যক্তিদের সংখ্যা এই একবিংশ শতাব্দিতে কিন্তু আরো বেড়েছে বৈকি। আমেরিকার শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক, Ben Haig Bagdikian বলেছিলেন: “জনগন কতটা জানবে, কতটা শিখবে তা এক সময় নির্ধারণ করে দিতেন রাজা ও পুরোহিতবৃন্দ। আর এখন সেটি ঠিক করে দেয় গণমাধ্যম। গণমাধ্যম যা প্রচার বা প্রকাশ করে না, বাস্তবে তা ঘটে না।”

 

আর একটি বিষয় বলি, গণমাধ্যমের নীতি হল ওয়াচডগ রোল প্লে (Watchdog role play) করা। সমাজের যত অসঙ্গতি তা তুলে ধরা এবং তা দূর করার জন্য নীতি-নির্ধারকদের পরামর্শ দেয়া। কিংবা চাপ প্রয়োগ করা। কিন্তু গণমাধ্যমের স্বভাব ধীরে ধীরে লেপডগ (Lapdog) বা কোলের কুকুর হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য দায়ী হল পুজিঁ। অধিকাংশ গণমাধ্যমের মালিকানাই ব্যবসায়িদের হাতে। আর সে মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো কিছুই সেই মালিকদের নিয়ণ্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ পায় না। সরকারি মন্ত্রী, আমলাদের এমনকি বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও তাদের সখ্যতা থাকে। বলিউডে “Page 3″ নামে একটি সিনেমাও রয়েছে এ নিয়ে। গণমাধ্যম এখন পুজিঁর পাহারাদার।

 

আর রাষ্ট্রও এ থেকে কোনো অংশে কম নয়। তাই রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যম মিলে পুজিঁবাদকে টিকিয়ে রাখতে সাগর-রুনি হত্যার আসল ঘটনাকে বিকৃত করে হলুদ সাংবাদিকতার বিষবৃক্ষকে আরো বেড়ে দিতে চাইলে সাধারণ জনগণের কিছুই করার থাকবে না। আর গণমাধ্যম এই Hegemony যে ভালোভাবেই তৈরি করতে পারে তার উদাহরণ ঢের রয়েছে। কেন সাগর-রুনিকে প্রাণ দিতে হলো সেটি জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। যদিও বেন বাগডিকিয়ানের ভাষ্য মতে তা গণমাধ্যমই ঠিক করে দেবে। আদৌ সেটি সত্য হবে কিনা কে বা জানে। আরেকটি জজ মিয়া নাটক সাজানো হবে কিনা সেটিও বোধগম্য নয়।

তবুও একজন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে মনটা সব সময়ই ব্যাকুল থাকে। আমরা সত্য জানতে চাই। রাষ্ট্রের কাছ থেকে এবং গণমাধ্যমের কাছ থেকেও। গত কয়েক দিনে সাংবাদিক দম্পতি খুন নিয়ে যে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে সেটিও বন্ধ হওয়া উচিত। বরং প্রকৃত প্রমাণ সাপেক্ষেই সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হওয়া উচিত। সত্যকে কতদিন ঢেকে রাখা যাবে জানিনা। তবে তা একদিন প্রদীপ্ত সূর্যের ন্যায় সকল অন্ধকারকে পাশ কাটিয়ে উদ্ভাসিত হবে, এটাই প্রত্যাশা।