ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১।আবুল ভাইয়ের দেশপ্রেম!

আবুল হোসেনের ভাগ্যটা বেশ ভাল, কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দেশপ্রেমের সনদ পেয়েছেন বিতর্কিত ব্যক্তি!এমন ভাগ্য কয়জনের আছে? কেন প্রধানমন্ত্রী এমনটা করলেন তা শুধু তিনিই জানেন।সনদ পাওয়ার সাথে সাথে আবুল হোসেন এটা নিশ্চিত হয়েছেন যে,প্রধানমন্ত্রী তার সাথে আছেন। মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও সরকার এখনো তাঁর পদত্যাগ কার্যকর করছে না।তার মানে দপ্তর বিহীন মন্ত্রি হিসেবে থাকার একটা সুযোগ আছে।গত আওয়ামী লীগের আমলে আবুল হোসেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর,এবার তাকে অনেকটা পদোন্নতি দিয়ে বানানো হলো পূর্ণ মন্ত্রী।এখন আবুল হোসেন মনে মনে ভাবছেন আগামী বার যদি শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে,তাহলে আমার ২ হাতে দেওয়া হবে দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব!অবশ্য আবুল হোসেন উপাদি পাওয়ার আগে সংবাদপত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নিজেকে সাধু প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।

২।আবুল ভাইয়ের দেশপ্রেম কিভাবে সংরক্ষণ এবং প্রচার কারা যায়।

প্রথমে ২৪ জুলাই কে দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষনা দেওয়া যেতে পারে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া যেতে পারে।আবুল টিভি নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেল দেওয়া যেতে পারে যেখানে দেখানো হবে কিভাবে দেশপ্রেমিক এবং কিভাবে দেশকে ভালবাসা যায়।আমাদের স্বপ্নের পদ্ম সেতুর নামকরণ করা যেতে পারে আবুল সেতু নামে।

৩।আবুল হোসেন যদি আগে দেশপ্রেম দেখাতেন তাহলে?

আবুল হোসেন যদি আগে দেশপ্রেম দেখাতেন তাহলে হয়তো বিশ্ব ব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করতো না।কারন বিশ্ব ব্যাংকের একটি দাবি ছিল আবুল হোসেনের পদত্যাগ কিন্তু তখন করলেন না।কিন্তু করলেন পুরো জাতিকে লজ্জায় ডুবিয়ে।আবুল হোসেন এই পদত্যাগ দেখে আমার একটি বিশেষ প্রাণীর কথা মনে পরে গেল।প্রশ্ন কেন পানি এত ঘোলা করা হল? প্রতিটি ভাঙ্গা সড়কের নাম আবুল হোসেন সড়ক নামে নামকরণ করা যেতে পারে।

৪।নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার পক্ষে বা বিপক্ষে আপনি?

আমজনতা থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ যাকে এই প্রশ্ন করে হবে।সেখানে অবশ্যই দুটি পক্ষ পাওয়া যাবে।এক পক্ষ হ্যাঁ,আর অন্য পক্ষ অবশ্যই না। আপাতত আমি হ্যাঁ পক্ষের সাথে আছি।অনেকটা আবেগ নিয়ে বলা যায় হ্যাঁ অবশ্যই আমাদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা যাবে।বর্তমানে দেশের ব্যাংক গুলো তারল্য সঙ্কট বিপদমুক্ত নয়।তার সাথে সরকার প্রতি বছর হাজার হাজর কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে। আমার মতে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করলে দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিবে,মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে ও বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে। যা দেশকে গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাবে।পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী সহ সবার কাছ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করি।বিশ্ব ব্যাংকের সাথে নেতিবাচক সম্পর্ক সৃষ্টি করা আমাদের কাম্য নয়।