ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

শুভ জন্মদিন স্যার! শুনতে পারছেন স্যার! আজ শুধু আমি না, আপনার পরিবারের সদস্য,বন্ধু ও দেশে বিদেশের লক্ষ, কোটি ভক্ত বলছেন শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ স্যার।নজানি আপনি শুনতে পারছেন না। আপনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি,তাই চলে যেতে হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনার অসময়ে চলে যাওয়ার কষ্ট আজো তারা করে ফেরে আমাদের। মনে হয় হারিয়েছি নিজের পরিবারের এক প্রিয়জনকে।

কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি/পরিচিত কারো মৃত্যুর খবর শুনে, সাধারণত বলি উনার ব্যক্তির মৃত্যুতে দেশের অনেক ক্ষতি হলো। দেশ আজ এক সুন্দর,চমৎকার ব্যবহারের মানুষ/রাজনৈতিক নেতা হারালো।ইত্যাদি………ইত্যাদি! কিন্তু কয়জন মন থেকে বলেছেন, তা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি চলে গেছেন, সত্যিই আমরা কিছু একটা হারেয়েছি। যা কখনো ফিরে পাবো না। এবং কখনই পূরণ হবার নয়।

২০১২ সালের আগে দেশের মানুষ একসাথে শেষ কবে কেঁদেছিল তা সঠিক মনে নেই। কিন্তু ২০১২ সালের ২ বার দেশের মানুষ একসাথে কান্নার কথা কখনো ভুলতে পারবো না।

এক। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলায় পাকিস্তানের কাছে জিতেও হেরে গেছে। তখন সাকিব সাথে কেঁদেছিল পুরো দেশের মানুষ।
দুই। আপনি যখন আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, তখন একসাথে কেঁদেছিল পুরো দেশের মানুষ। ইন্ডিপেনডেন্ট টৈলিভিশনে “আজকের বাংলাদেশ” নামে একটি অনুষ্ঠান দেখার সময় আপনার মৃত্যুর খবর ব্রেকিং নিউজে। চোখের পানি সামলাতে পারলাম না। ঐ অনুষ্ঠানের দৈনিক সমকাল,আনন্দ আলোর সম্পাদক ও ডাঃ এজাজুল ইসলামের কান্না কখনো ভুলতে পারবো না। জানাজা নামাজ থেকে শুরু করে দাফন প্রর্যন্ত পুরো সময় আকাশ কেঁদেছে আপনার জন্য! যা ছিল শোকের বৃষ্টি আজ আপনি নেই, আপনার প্রতিবাদি কথা গুলো খুব মিস্ করি। কারণ আপনার নাটকে ও চলচ্চিত্র ছিল সমাজের নানা কুসংস্কার, অন্যায়-অত্যাচার, অনিয়মের বিরুদ্ধে। তোমার হাত ধরে আমাদের বই পড়া। এবং পাখির মুখে ফুটে ছিল তুই রাজাকার। স্যার আপনি আমাদের মাঝে লক্ষ,কোটি বছর বেঁচে থাকবেন হিমু, মিসির আলী, বাকের ভাই, শুভ্র, মামা, মাজেদা খালা, পরী, জরী, মুনা, টুনি…… ইত্যাদি,ইত্যাদি নামে!

৬৪তম জন্মদিন ও হিমু দিবসে আপনার পরিবারের সদস্য, বন্ধু, ভক্ত ও সবাইকে জানাই বর্ষার প্রথম কদম ফুলের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।