ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

“ভার্জিন বার্থ” শুনলেই যীশু’র কথা মনে পরে, তবে এই ধরণের জন্মের ক্ষেত্রে “ভার্জিন বার্থ” টার্মটি কিন্তু সর্বপ্রথম (ধর্মীয় মহাপুরুষদের ক্ষেত্রে) ব্যবহৃত হয়েছিলো আমাদের এই অঞ্চলে, যীশু’র জন্মের ৫৬২ বছর পূর্বে। অবশ্য এর আগেও আমাদের অসংখ্য পৌরাণিক উপাখ্যানে দ্যাখা গেছে শুধুমাত্র পিতা থেকে সন্তান জন্মের (কয়েকটিতে শুধুমাত্র মাতা থেকেও), কিন্তু তারা কেউই জলজ্যান্ত মানুষ ছিলেন না। এই অঞ্চলে একমাত্র “ভার্জিন বার্থ” দাবীদার গৌতম বুদ্ধ।

প্রায় ২৫৭৬ বছর আগে, ভারতীয় উপমহাদেশের এক রাজ্য কপিলাবস্তু’র রাজা ছিলেন শুদ্ধদন, একইসাথে তিনি শাক্য বংশীয় প্রধান। রাজা শুদ্ধ ও রানী মায়া, যিনি মহামায়া ও মায়াদেবী নামেও পরিচিত, ছিলেন চাচাতো ভাই-বোন। রানী মায়া’র পিতাও ছিলেন এক রাজ্য- দেবদহ’র রাজা। বিয়ের ২০ বছর পার হয়ে গ্যালেও তাদের কোন সন্তান হয়নি। এক পূর্ণিমা রাতে রানী ঘুমাচ্ছিলেন, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় অনুভব করলেন তাকে চারজন দেবতা ধরাধরি করে কোথায় য্যানো নিয়ে যাচ্ছেন, একসময় দেখলেন তাকে হিমালয়ের চূড়ায় এক জলাধারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে দেবতাগণ তাকে গোসল করিয়ে স্বর্গীয় পোষাক পড়িয়ে শরীরে সুগন্ধি মাখিয়ে ফুলশয্যায় শুইয়ে দ্যান। এরপর এক শাদা হাতি, যেটির শুঁড়ে একটি পদ্ম প্যাঁচানো ছিলো, তাকে ঘিরে তিন বার চক্রাকারে প্রদক্ষিণ করে গর্ভে প্রবেশ করে। এরপর রানী’র তন্দ্রাভাব কেটে যায়। তিনি বুঝতে পারেন কোন শুভক্ষণ অপেক্ষা করছে তার জন্য, ক্যানোনা ভারতীয় উপমহাদেশে তখন স্বপ্নে শ্বেতহস্তী দর্শন শুভলক্ষণ হিশেবে বিবেচিত হতো।

হয়েছেও তাই, তিনি গর্ভবতী হয়ে পরেন কোন মানুষের সাথে ইন্টারকোর্স ছাড়াই, দশ মাস পর পিতার রাজ্যে যাওয়ার সময় লুম্বিনি নামক স্থানে সন্তান প্রসব করেন। এ কথা প্রচলিত যে মায়া’র গর্ভের সন্তান ছিলেন প্রভু নিজেই, শেষবারের মতোন পৃথিবীতে পূনর্জন্ম নিয়ে বোধিস্বত্ত্ব লাভের আশায় হাতির রূপ ধারণ করে মায়া’র গর্ভে প্রবেশ করেন। সন্তানের নাম রাখা হয় সিদ্ধার্থ, যে কিনা সিদ্ধি লাভ করেছে। প্রসবের সাত দিন পরেই মায়া মারা যান, সিদ্ধার্থ পালিত হন মায়া’র বোন প্রজাপতি গৌতমা’র কাছে। পৃথিবীতে এসে মানুষরুপে বোধিস্বত্ত্ব লাভ করায় তার নাম হয় বুদ্ধ, পালক মা প্রজাপতি গৌতমা’র নামের শেষাংশ নিয়ে “গৌতম বুদ্ধ”। গৌতম বুদ্ধকে নিয়ে আমরা সবাই জানি, তিনি আমাদের, একদমই আমাদের একজন দার্শনিক-ধর্মপ্রচারক। যদিও তার প্রচারিত মতবাদ কোন ধর্ম ছিলো না, ছিলো প্রায়-নাস্তিক্যবাদ।

যীশু’র জন্মের ক্ষেত্রে তার পিতা বলা হয় ঈশ্বরকে, গৌতম বুদ্ধের ক্ষেত্রে বলা হয় স্বয়ং ঈশ্বরই মায়া’র গর্ভে এসেছেন। যদিও মেরি’র সাথে যোসেফের বিয়ে ঠিক হয়েছিলো, মেরি চার্চের সেবাদাসীও ছিলেন, আর মায়া তো বিবাহিতা অবস্থায়ই বুদ্ধকে জন্ম দিয়েছেন, আক্ষরিক অর্থে কেউই ভার্জিন না হলেও উভয়ে হাজার বছর আগে অ্যামন একটি টার্মের জন্ম দিয়েছেন আর কোটি কোটি মানুষ তা সত্য মেনে আসছেন। তাদের অসম্ভব রকমের কল্পনাশক্তিতে অবাক হতেই হয়, খানিকটা শ্রদ্ধাও চলে আসে।