ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

আজ একাত্তরে “মানবতাবিরোধী” কর্মকাণ্ডের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা’র বিষয়ে এক “মানবতাবাদী” রায় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, যেগুলোতে প্রমাণ হয়েছে কাদের মোল্লা ৩৬১ জনের বেশি হত্যা করেছে। তিনশত একষট্টি জনকে হত্যার শাস্তিস্বরুপ কাদের মোল্লাকে যেসব দন্ড দেয়া হয়েছে আসুন সেগুলো আরো একবার দেখে ট্রাইব্যুনাল ও সরকারের উপর আস্থাহীনতা প্রদর্শন করি মুখে থুথু নিক্ষেপ করি-

১। কবি মেহেরুন্নেছা, তার মা ও দুই ভাইকে হত্যা – ১৫ বছর কারাদণ্ড
২। আইনজীবী-সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে হত্যা – ১৫ বছর কারাদণ্ড
৩। বাংলা কলেজের ছাত্র পল্লবসহ সাত জনকে হত্যার নির্দেশ – ১৫ বছর কারাদণ্ড
৪। মিরপুরের আলোকদী গ্রামে হামলায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত – যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
৫। হযরত আলী লস্কর, তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই বছরের এক ছেলেকে হত্যা ও ধর্ষণের শিকার মেয়ে – যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১৩২ পৃষ্ঠা রায়ের কাগজের চুড়ান্ত ফল: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!

একটু পিছনে ফিরে দ্যাখা যাক, কিছুদিন আগে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনিত সাতটি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসি’র আদেশ দেন মাননীয় বিচারপতি। এই রায় শুনে আমরা ধরে নিয়েছিলাম সবকয়টি রাজাকারের ফাঁসি হতে যাচ্ছে, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমরা একটু বেশিই আশা করে ফেলেছিলাম আওয়ামী লীগ সরকার ও ট্রাইব্যুনালের কাছে, তাই বাচ্চু রাজাকার বিদেশে পলাতক হলেও আমরা রায়ে খুশি হয়েছিলাম। আজ বাচ্চু রাজাকারের রায় ও কাদের মোল্লার রায় মিলিয়ে বুঝতে দেরি হয়না যে পুরোটাই আওয়ামী লীগ সরকারের ভোটের রাজনীতির ট্রিক্স। আশঙ্কা ছিলো কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করেই আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ক্ষান্ত দিবে, রায় বাস্তবায়ন হয়তো সম্ভব হবে না। আমাদের আকাঙ্ক্ষার আংশিক বাস্তবায়ন হলো, আমরা আবারও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবো, আবার জামায়াত-শিবিরের সাথেও আওয়ামী লীগ সরকার সংঘর্ষে গ্যালো না। বাস্তবে হয়েছে আরও খারাপ অবস্থা। এমন একজনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে যে কিনা বিদেশে পলাতক, যার পক্ষে আইনজীবী ছিলো না, যেই রায়ের বিপক্ষে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে আপিল তো দূরে থাক, বাচ্চু রাজাকার বাংলাদেশে ফিরে আসবে এমন ভাবাটাও বোকামি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পেছনে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি কাজ না করলেও তরুণ প্রজন্মের ভোট পাওয়ার পেছনে এই একটামাত্র প্রতিশ্রুতিই যে কাজ করেছিলো তা আর বলে দিতে হয়না। শুধু তরুণ প্রজন্মই না, একাত্তরের চেতনাধারী সবারই চাওয়া ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বিরোধী দলগুলো যদিও দাবী করেছিলো এসব আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ভাঁওতাবাজি, তবুও আমরা আশা ছাড়িনি। আজ সত্যি সত্যি আওয়ামী লীগ সরকারের বেঈমানী বেরিয়ে পরলো। ভোটের লোভে আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে গোপন সমঝোতা করলো নাকি ভাব বজায় রাখতে এই নিমকহারামি করলো সেটা সময়ই বলে দিবে, কিন্তু ষোল কোটি জনগণ, তিরিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ ধর্ষিতার সাথে প্রতারণার ফল আজই পেয়ে যাবে। এ জাতির সাথে বেঈমানি। আওয়ামী লীগের উপর থেকে সব সমর্থন সরিয়ে নিয়ে ঘৃণা রেখে গ্যালাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমাদেরই করতে হবে। আওয়ামী লীগ নামক ভোটলোভী দলের উপর আর এই বিচারের ভার দিয়ে লাভ নেই।