ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ

গতরাতে শাহবাগ আন্দোলনের কর্মী, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আহমেদ রাজীব হায়দার-কে (ফেইসবুক ও ব্লগ নিক : থাবা বাবা) মিরপুরে তার বাসার সামনে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কারা হত্যা করেছে সেটা আমাদের কারো অজানা থাকার কথা না, আমরা দেখেছি কিছুদিন আগে হত্যাকারী গোষ্ঠী জামায়াত-শিবিরের ব্লগসাইট সোনারবাংলা ব্লগে যেই হিটলিস্ট ধরণের সিরিজ আকারের পোস্ট দেয়া হয়েছিলো সেখানে প্রথমেই আহমেদ রাজীব হায়দার সম্পর্কে তথ্য ছিলো। গতকাল তাকে হত্যার পর সেই পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হলেও গুগল ক্যাশে থেকে পোস্টটি চলে যায়নি, সেখানে দ্যাখা যায় www.sonarbangladesh.com/blog/tanimaust ব্লগ ঠিকানার একজন ব্লগার যার নিক “স্পর্শের বাইরে”, একটি পোস্ট করেছেন “শাহবাগের আন্দোলনের পিছনের মানুষগুলো : পর্ব-১” শিরোনামে। ব্লগে তার তথ্য থেকে দ্যাখা যায় সে আগে কোন পোস্ট করেনি, মন্তব্য করেনি, নিক খুলেই পোস্ট দেয়া হয়েছে, সেই পোস্টের কয়েকদিনে ৬,০০০ ছাড়িয়েছে, যদিও আমরা জানি সোনারবাংলা ব্লগে কমপক্ষে দুইটি পোস্ট দিয়ে মডারেটরের কাছে মেইল করে প্রথম পাতায় পোস্ট করার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। শিরোনাম থেকে বোঝা যাচ্ছে পোস্ট এখানেই শেষ নয়, আরো আসছে! কয়েকটি অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশ পেয়েছে জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী সতের জনের হিটলিস্ট তৈরী করেছে যাদের মধ্যে অমি রহমান পিয়াল, আসিফ মহিউদ্দীন, আরিফ জেবতিক, ইমরান এইচ সরকার আছেন। হয়তো এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট বাঁধন’র চাদরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছিলো।


সোনারবাংলা ব্লগের সেই পোস্টটি

বেঁছে বেঁছে রাজীব হায়দারকে হত্যার পিছনে কয়েকটি কারন দাড় করা যায়,

১। আহমেদ রাজীব হায়দার শাহবাগ আন্দোলনের প্রথমদিকের আন্দোলনকারী, এর আগে থেকে জামায়াত-শিবির বিরোধী,
২। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ধর্মে বিশ্বাসী নন, জামায়াত-শিবির প্রথম থেকেই সাধারণ মানুষদের বলে আসছে শাহবাগ আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে নাস্তিক ব্লগারদের দ্বারা, তারা যদি শাহবাগ আন্দোলনকে সমর্থন জানায় তাহলে পরোক্ষভাবে নাস্তিকদেরই সমর্থন জানানো হবে। রাজীবকে হত্যার পর ঠিক প্ল্যান মতোন রাজীবের ব্লগপোস্টগুলো সহ ধর্মীয় দিকটিই ফোকাস করা হচ্ছে জামায়াত-শিবির সমর্থক ফেইসবুক পেইজ ও ব্লগসাইটগুলোতে,
৩। আন্দোলনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া, ইতোমধ্যেই কয়েকজন ব্লগার যারা শাহবাগ আন্দোলনের সাথে জড়িত তাদের টেক্সট পাঠানো হয়েছে,
৪। শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো, দেশের মানুষ এমনিতেই ধর্মপরায়ণ, এই মুহুর্তে যদি রাজীব হায়দারের ধর্মীয় দিকটি টেনে আনা হয় তাহলে মানুষ শাহবাগ আন্দোলনের অংশগ্রহণের আগে একবার হলেও ভাববে।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতোন আমরাও বিশ্বাস করি জনগণের মতো বিশ্বস্ত আর কেউ নেই। জনগণ অ্যাখন আর জামায়াত-শিবিরের কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে না, আমরা বিশ্বাস করিনা ধর্মের কারনে রাজীবকে হত্যা করা হয়েছে, যদি তাই-ই হতো তাহলে তাকে আরো আগেই হত্যা করা হতো। আমরা দেখেছি শুধু রাজীব হায়দারই নন, অগ্রণী ব্যাঙ্কের কর্মচারী জাফর মুন্সীও নিহত হয়েছেন জামায়াত-শিবিরের হামলায়। কাজেই ধর্ম এখানে গৌণ।

আজ (১৬/০২/১৩) বিকাল সারে চারটায় রাজীব হায়দারের মৃতদেহ শাহবাগে আনা হবে। সেখানে তার জানাজা শেষে হত্যার প্রতিশোধের শপথ নেয়া হবে। গান্ধীবাদী হয়ে আর বসে থাকার সময় নেই, জাফর মুন্সী, রাজীব হায়দারের পর আপনিও হতে পারেন শাহবাগ আন্দোলনের তৃতীয় শহীদ। চারটার মধ্যেই চলে আসুন শাহবাগে।