ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

গত ১১ সেপ্টেম্বর আট বছরের অজ্ঞাত শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে চলে যায় অজ্ঞাত দুই যুবক। শিশুটির দুই পা ও একটি হাত ট্রেনে কাটা পড়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয় রামেক হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলেয়া নামে এক আয়া তাকে সেবা করে বাঁচিয়ে তোলে। তার পর থেকে আলেয়ার কাছেই থাকে শিশুটি।

পর পর দুই দফা অপারেশনে শিশুটির হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটা হয়েছে। বাম হাত কব্জির নিচ থেকে কাটা। আলেয়ার সেবায় শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে শিশুটি মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার কারণে এখনো তার নাম বা ঠিকানা বলতে পারে নি। এদিকে অভাবী আলেয়া শিশুটিকে নিয়ে পড়েছেন সমস্যায়। আলেয়া জানান, সকাল থেকে শুরু করে সারাদিন তার কাছে ছাড়া ওই শিশুটি থাকে না। যার কারণে হাসপাতালে আয়ার কাজ করা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। শুধু তাই না, তার ভরণপোষণের জন্য যে আলাদা খরচ হচ্ছে তা যোগাড় করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

আয়া আলেয়া জানান, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে দুইদিন শিশুটি রামেক হাসপাতালের কে নম্বর ওয়ার্ডে পড়ে ছিল। তার অপারেশনের জন্য দুই ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন ছিল। কেউ এগিয়ে না আসলে তিনি নিজে এক ব্যাগ রক্ত দেন। অন্য ব্যাগ রক্ত তিনি যোগাড় করেন। শুধু তাই না আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য তুলে ওই শিশুটির অপারেশনের প্রয়োজনীয় ওষুধ তিনি কিনে আনেন। পর পর দুই দফা অপারেশন করে চিকিৎসকরা ওই শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন।

অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে গেলে ওই শিশুটিকে আয়া আলেয়া তার বাড়িতে রাখেন। প্রতিদিন সকালে যখন হাসপাতালে কাজে যোগ দেয়ার জন্য আসেন তখন কোলে করে শিশুটিকে নিয়ে আসেন। আবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় কোলে করে নিয়ে যান। অভাবের কারণে তাকে রাত জেগে বই সেলাইয়ের কাজ করতে হয়। ওই শিশুর কারণে তিনি বই সেলাইয়ের কাজও করতে পারছেন না।
রামেক হাসপাতালের সমাজসেবা অফিসার রুবিনার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, তিনি শিশুটির পুনর্বাসনের জন্য অনেক স্থানে যোগাযোগ করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল সাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে রামেক হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের চিকিৎসকরা তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা যতগুলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিবন্ধী সংস্থা আছে তাদের কাছে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখান থেকে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা হতে পারে বলে তিনি জানান।

সুত্রঃ দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকা, রাজশাহী