ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

শাহবাগ আজ ইতিহাসের সোনালী খাতায় নাম লিখিয়েছে। নতুন এ খেরোখাতা শাহবাগ কে অমর করেছে তার আপন মহিমায়। কেউ কি ভাবতে পেরেছিলো এমনতর আন্দোলনের কথা? কেউ কি উপলব্ধি করতে পেরেছিলো এমন এক কালোত্তীর্ণ কবিতার ভিত্তিভূমি রচিত হবে এ শাহবাগে? ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে যে চিরচেনা শাহবাগ আমরা দেখি তা আজ বর্ণিল হয়েছে হাজারো মানুষের কলকাকলিতে। এ কলকাকলি বড় মধুর,বড় প্রশান্তির। চেতনায় যে দোলা, শাহবাগ তুমি দিয়ে গেলে তা যুগ যুগ ধরে অম্লান থাকুক বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের হৃদয়ে, মননে ও মগজে। হে সূর্য সন্তানেরা, তোমাদের জন্য রইলো আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা,অযুত শ্রদ্ধা,সম্মান আর সমর্থন।

ব্ড্ড বেশী কষ্ট লাগে, হতাশা দানা বাঁধে যখন দেখি আমার এ জন্মভূমি নিয়ে শকুন আর হায়েনার উন্নাসিক আস্ফালন আর নর্তন কুর্দন।অবাক হই বুদ্ধিজীবিবেশী কিছু বেশ্যার ভন্ডামি দেখে, যারা তার বুদ্ধিবৃত্তিকে নিশিকণ্যার মতো ফেরারি করে সমানে রাজাকারের ফপরদালালি, তোষন ও পৃষ্ঠপোষণ করে। কিন্তু ওদের ভাবখানা দেখে মনে হবে, ওরা সত্যের নির্মম পুজারি। বাস্তবে রাজাকারি চিন্তা আর ওদের দেশ বিরুদ্ধ আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার মিশণ নিয়ে এই ভন্ডরা এক নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় আজ লিপ্ত। আমরা অনেকেই তা বুঝতে ব্যর্থ হই। আর তাই, সে সুযোগে এ নপুংসকরা সক্রেটিস হয়ে উঠে। জাতিকে উপদেশ দেয় টকশো, বক্তৃতা আর বিবৃতিতে। আমরা তা শুনি, দেখি, অত:পর হাত তালি দিই আর নাকে আঙুল ঢুকিয়ে লোম ছিড়ে বলি বা: বেশ! বেশ! সাবাস! সাবাস! ধিক এ চিন্তার পুজারী আর তাদের জন্য এ সুযোগ সৃষ্টিকারীদের যারা তা তৈরি করে দিয়ে নিরপেক্ষতার ভেক ধারন করে। অপরিসীম ঘৃণা আর অভিশাপ বর্ষণ কর তাদের জন্য, হে বঙ্গজননী।

শাহবাগে যেন আজ এসে মিলেছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। যে ঠিকানা মুক্তিপাগল জনতাকে একত্রিত করেছিলো আর অস্ত্র হাতে তুলে দিয়ে বাংলা মায়ের দাসত্ব শৃঙ্খল কে ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার বল্গাহীন সাহস জুগিয়েছিল- সেই ঠিকানা-ই যেন আবারো ডাক দিয়েছে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার। সে নব অভ্যুদয়ের বাংলাদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত,আলোকিত ও উচ্চকিত। তাই আসুন, রাজাকার আর তাদের দোসরমুক্ত সে বাংলা গড়ার শপথ নিই। এখনকার শাহবাগ হোক সে শপথের সুতিকাগার।

জনতার এ জোয়ার যেন কাঁপুনি ধরিয়েছে দেশদ্রোহীদের অন্তরে। ধুকপুক করছে তাদের হৃদযন্ত্র। অজানা আশংকায় তারা কম্পমান। “ সারা বাংলা ডাক দিয়েছে ; রাজকারদের কবর দে “-এ শ্লোগান প্রকম্পিত হচ্ছে শাহবাগ প্রজন্ম চত্ত্বর। আচ্ছা বলুন তো, এ ঢেউ যখন জামাত-শিবিরের ডেরায় গিয়ে আছড়ে পড়ছে তখন কি তাদের নি:শ্বাস বুকে আটকে যাচ্ছে না? ভাবছেন এটা কেমনতর কথা? তাহলে, প্লিজ একবার যান এ চত্ত্বর সংলগ্ন বারডেম হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি আছে রাজাকার শিরোমনি গো. আজম। কুকুরের মতো হানাদার পদলেহনকারী এ জানোয়ারটার নাকি হার্টবিট আর প্রেশার বেড়ে গেছে। এখন এ নরাধমের জন্য কি করা যায় বলুন তো? হয়তো করণীয় টা ঠিকই ধরতে পেরেছেন। যা লাখো জনতা মজাদার করে পরিবেশন করেছে। যেখানে তার মৃত্যু-ই কামনা করার কথা; কিন্তু না, লাখো জনতা উল্টোটিই করেছে। তারা ডাক্তারদের কাছে আর্জি পেশ করেছে জানোয়ারটাকে পরিপূর্ণ সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার । না হলে ফাঁসিতে সে কিভাবে ঝুলবে?

এখন একটা প্রশ্ন করি আপনাদের? আচ্ছা বলুন তো গো. আজমের মৃত্যু কি স্বাভাবকিভাবে হওয়া উচিত? এতো এতো বীর বাঙ্গালীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর যে নীলনকশাকারী আমরা তার স্বাভাবকি মৃত্যু কিভাবে চাইব বলুন? দেশমার্তৃকার কষ্টের আর যন্ত্রনার নীলনকশাকারীকে যদি তারই অস্ত্রশেল ফিরিয়ে না দিতে পারি তাহলে এ নরঘাতক কিভাবে বুঝবে তার কৃতকর্মের জন্য যারা বেঘোরে প্রান দিলো সেই শহীদ ও তাঁদের পরিবারের যন্ত্রনা আর কষ্ট? মুদ্রার এপিঠে যে আনন্দ ও নিজে সৃজন করেছে লক্ষ বাঙালীকে হত্যা করে ওপিঠে তা যন্ত্রনা হয়ে সেঁটে যাক মৃত্যুদন্ডের মধ্য দিয়ে। সেটাই কি ওর প্রাপ্য না?

যাই হোক, শাহবাগের গনজাগরন দেখে ভড়কে গিয়ে এ দালাল চক্রের শিশ্নরুপী শিবির মরিয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের প্রতিপত্তি জাহির করতে আজ তাই এ চক্র টেস্টকেস হিসেবে ওদের কথিত শক্তির আঁধার চট্টগ্রামে হরতাল ডেকেছিলো।কিন্তু হরতাল ডেকে ঘরে ঘুমিয়েছে। রাস্তায় নামার সাহস পায়নি। জ্বালাও পোড়াও ভাঙচুর তো বহুদুর। সাবাস! চট্টলাবাসী। প্রীতিলতা, মাষ্টারদার জন্মভূমির বীর সেনানীরা। তোমরা আমার অভিবাদন গ্রহন কর। সারা বাংলা হয়ে উঠুক ওদের জন্য বিভীষিকাময়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া; রূপসা থেকে পাথুরিয়া- সবাই নিজ নিজ কর্তব্য মনে করে আপামর জনসাধারনের নিকট ওদের মুখোশ উন্মোচন করুন আর সমস্বরে দাবি তুলুন ওদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার।সেটাই শাহবাগ থেকে উচ্চারিত হয়েছে। এখন একই সুরে তা কি সারা বাঙলায় ছড়িয়ে দিতে হবে না?

“বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন; সারা বাংলায় ছড়িয়ে দাও “ –এ শ্লোগান কে সারা বাংলায় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে হবে।।জামাত-শিবির চক্রের বিরুদ্ধ এ জনমত ক্ষুরধার চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠুক, ছড়িয়ে পড়ুক আর সতত জাগরুক থাকুক- এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। চেতনার এ যুদ্ধে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। এ ছাড়া বিকল্প অন্য কিছু আছে কি?