ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

11038120_777636168997719_4573725255495083501_n

ব্যক্তিগতভাবে বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমার সাথে অভিজিৎ রায়ের কোন পরিচয় না থাকলেও তার প্রতি আমার অগাধ ভালবাসা যে ছিল তা আমি বুঝতে পেরেছি তখন যখন ফেসবুকে দেখলাম আমি তার ফলোয়ার। অভিজিৎ রায়ের খুনের ব্যাপারে আমার এক ভায়ের সাথে যখন আলাপচারিতা হচ্ছিল সে প্রসঙ্গত বিএনপির সাপোর্টার।কথা প্রসঙ্গে হঠাৎ বলে উঠলো “আরে মিয়া এসব কিছুই আওয়ামী লীগ করেছে এবং দোষ চাপাচ্ছে বিএনপির ঘাড়ে। তার কথার জবাব যা দিলাম তা না হয় নাই বললাম। কিন্তু আমি অবাক হলাম তার কথা শুনে যে আমরা কতটা প্রোডাক্টিভ হয়ে গেছি? একজন মানুষকে খুন করা হলো কেন হলো তার কথা বিশ্লেষণ করার চেয়ে তা মোড় নিল আওয়ামীলীগ অথবা বিএনপির দিকে।

আসলে আমরা সবার আগে মানুষ না রাজনীতিক?

একজন মানুষ খুন হলো তার দোষ সে লেখালেখি করতো, মুক্ত চিন্তার মানুষকে তারা খুন করলো এবং তার দায়ভার নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য? খুনিদের কি কোন রাজনৈতিক লাইসেন্স থাকে নাকি রাজনীতিবিদদেরই খুনের লাইসেন্স আছে? হতে পারে এটা যেহেতু শাহবাগ থানার 200 গজ অদূরের একটা খুনের ঘটনা এখানে থাকতে পারে কোন অদৃশ্য হাত। আমি সে প্রসঙ্গে বলবো না কিন্তু কেন আমরা খুনকে আওয়ামীলীগ বিএনপির মাঝে বিলুপ্ত করে দেব? আমরা অনেক মুক্তচিন্তার মানুষকে খুন হতে দেখলাম কিন্তু দেখলাম না তার সঠিক বিচার। তার জন্যই হয়তো অভিজিৎ রায়েরা আজ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এসেও রাস্তার পাশে খুন হয়ে পড়ে থাকে। আরো থাকবে, যতদিন আমরা আমাদের মাথা থেকে আওয়ামীলীগ, বিএনপির ভুত না নামিয়ে মানবতার ভুত চাপাতে পারবো। রাজনীতি আমাকে কি শিক্ষা দিচ্ছে? অমানবিকতার? অসৌজন্য থাকার? পশুসত্বাকে জাগ্রত করার? রাজনীতির প্রয়োজনে আমরা মানুষ হয়ে মানুষের গায়ে পেট্রোল বোমা মেরে যখন অন্য একজন মানুষকে গ্রীল সাদৃশ্য পুড়িয়ে দিচ্ছি তখন আমাদের রাজনীতির বিজয় হচ্ছে পরাজয় হচ্ছে মানবিকতার,নিরীহ মানুষকে ধরে এনে যখন ক্রস ফায়ারের নামে খুন করা হচ্ছে তখন বিজয় হচ্ছে রাজনীতির পরাজয় হচ্ছে বিচার ব্যবস্থার। বিচার ব্যবস্থা ও মনুষ্যত্বহীন সংস্কৃতি কোন জাতিকেই আলোর মুখ দেখাতে পারেনি আর পারবেও না। খুনিরা অভিজিৎ রায়কে খুন করলো, তারা কি চিন্তাকে – চেতনাকে খুন করতে পারলো? কলমকে কখনো কেউ খুন করতে পেরেছে কিনা কেউ কি বলতে পারে? তারা অভিজিৎকে খুন করলো না বরং তারা খুন করলো মনুষ্যত্বকে। কিছুদিন আগের অমর্ত্য সেনের একটা কথা আমার মনে পড়ছে তা হলো “আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে মানবিক প্রবৃদ্ধি জরুরী” আসলে আমরা অনেক বেশি রাজনৈতিক হয়ে গেছি, যা আমাদের মানবসত্তাকে খুন করে পশু-সত্ত্বাকে আবির্ভূত করছে। ফলশ্রুতিতে আমরা বনমানুষ বৈকি আদিম মানুষে পরিণত হচ্ছি। তাই সবার আগে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যতদিন না আমরা অনৈতিক অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন না ঘটিয়ে নৈতিক অভ্যাসে আসতে পারছি, সাধারণ জনগণ বিচার বহির্ভূত খুন হতে থাকবেই।