ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

ছোটবেলায় দেখতাম টেলিভিশনের সামনে বাড়ির সকলে ভির করে নাটক দেখছে। আমি কোন কথা বললে সকলে আমাকে থামিয়ে দিত। নাটক দেখতে দেখতে মাঝে মাঝে সবাই হেসে উঠত। আমিও হাসতাম (কিছু না বুঝে)।

পরে সবার মুখে শুনতাম হুমায়ূন আহমেদের নাম। আমি টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করতাম, হুমায়ূন আহমেদ কোনটা? আমাকে সবাই বলতেন হুমায়ূন আহমেদ অভিনয় করেন না, উনি নাটক লেখেন। তারপর তার নাটক মন দিয়ে দেখা শুরু করলাম। একদিন এক লাইব্রেরী তে একটা বই দেখলাম হিমুর দ্বিতীয় প্রহর। তখন থেকেই শুরু। হুমায়ূন আহমেদের কোন বই পেলেই বাদ দেই না। অনেক সময় নিজেকে হিমু ভেবে ভুলও করি। আজ মনে পরছে সেই নাটক গুলোর কথা। কোন এক নাটকে আবুল হায়াত সাহেব তার ছেলেকে বলছেন গাধার বাচ্চা , আসাদুজ্জামান নুর বাকের ভাই নামে আঙ্গুলে চেইন ঘোরাচ্ছেন, জাহিদ হাসান কফিনের মধ্যে আটকে গেছেন আরও কত কি। আজ পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের খবরে তাকালেই মনটা যেন হিমু হয়ে যাচ্ছে। আজকের দিনটা অন্য দিনের মত নয়, আজ হিমালয় আছে, হিমু আছে, মিছির আলি আছে, নুহাশ পল্লী আছে কিন্তু হুমায়ূন নাই………।

মনের মাঝে সারাদিন একটা গানের সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে ” জন্মিলে মরিতে হবে জানে তা সবাই তবু সব মরন নয় সমান। আজ আমরা যে সম্পদ হারালাম তার ক্ষতি বাংলা সাহিত্য, বাংলা চলচিত্র, বাংলা নাটকে কখনো পুরন হবে কি না তা জানিনা। তবে এতটুকু বলতে পারি, আজ যত পাঠকের চোখে অশ্রু ঝরেছে তা কখনই শুকিয়ে যাবে না। হুমায়ূন তুমি বেঁচে থাকবে কোটি পাঠকের হৃদয়ে।