ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

এখন জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ে একটা পরীক্ষা চলছে। মাস্টার্স শেষ পর্ব -২০০৯। বলা বাহুল্য বর্তমান দিনপঞ্জিতে বসর ২০১২ সাল। তফাতটা মাত্র ৩ বসর। আর কোর্সটার মেয়াদ ১ বসর। আর পরীক্ষাতে কত ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করছেন তার সংখ্যা একমাত্র জাতিয় বিশ্ব বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। যে সকল ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করলেন তারা তাদের ফলাফল পাবেন আরও এক বছর পর ২০১৩ সালের আগে নয় (বিগত বছরের ফলাফল ঘোষণা অনুযায়ী)। এখানে আমার প্রশ্ন, এই সুদীর্ঘ সেসন জটের কারনে ঝরে যাওয়া তিনটি বসরের মুল্য তাদের কে দেবেন? এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে সাধারণ কোঠাতে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বয়স ৩০ বসর। তার উপর সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা –কর্মচারীর চাকুরীর বয়স সীমা ২ বছর বারিয়ে করা হয়েছে ৫৯ বছর। এখানে একটা কথা নিশ্চিন্তে বলা যায় যে, একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি বয়সের ভারে নুয়েপরে কাপা-কাপা হাতে কলম ধরে(কম্পিউটার দুরের কথা) সহকর্মীর সাহায্যে কোন রকম দিন হাজিরায় স্বাক্ষর করা ছাড়া কিছুই করতে না পারেন , তিনিও আগামী দু’ বছর কর্মস্থল ত্যাগ করতে চাইবেন না। কেন না সরকার তাকে আরও দু’বছর চাকুরীর সুযোগ করে দিয়েছেন। ফলে সরকারি নিয়গের সংখ্যাও থাকবে অতি সিমিত। আর অন্যদিকে জাতীয় বিশবিদ্যালয়ের লাখ লাখ ছাত্র –ছাত্রী চার বছরের সন্মান কোর্স সাত বছরে শেষ করে ২০০৯ সালের এমএ পরীক্ষায় ২০১২ সালে অংশগ্রহণ ২০১৩ সালে সার্টিফিকেট হাতে ধরা দেখে শরৎচন্দ্রের বিলাসীর গল্পের মত আমারও বলতে ইচ্ছা করছে যে, “এত বছরের সাধনা এত কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত সর্বচ্চ সার্টিফিকেট দেখে বিদ্যাদেবী মা সরস্বতী বর দেবেন না লজ্জাতে মাথা লুকাবেন ভেবে পান না।” কারন এখানেই শেষ নয়। এর পর তারা হিসেব করবে আর ক’বছর হাতে আছে? বিসিএস পরীক্ষাতে ক’বার অংশ নিতে পারব? নিবন্ধন টা করে রাখি…..। কিন্তু নিবন্ধন করেই কি শান্তি আছে? এর পরে খোঁজ কর কোন কলেজে শুন্য পদ আছে। তার পরে ধর মামা। তারপর এত কিছুর পরে চাকরিটা হলে ভালো আর না হলে কি আর করা যাই শেয়ার বাজারে, সেখানেও পুজি বাজারে ধস, সব কিছু খুইয়ে বসে থাকা । সুযোগ নেবে প্রতারকরা , চাকরি দেবে মাল্টি লেবেল মার্কেটিং কোম্পানি, আসবে ইন্টারনেটে অর্থ ইনকাম (ডলেনচার, মাইক্রকিকার) ধানমণ্ডির মত জনবহুল স্থানে অফিস নেবে যা সবাই দেখবে (প্রসাশন বাদে)। একদিন রাতের অন্ধকারে সব পাখি সব সঞ্চয় নিয়ে উড়ে যাবে কেউ খুজে পাবে না। (যদিও ফেসবুকে একজন ছোট মানুষ বড় কথা বললে খুব সহজেই তাকে খুজে পাওয়া যায়)। তারপর শুরু হবে পাওনা দারের চাপ। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে আশ্রয় নেবে চুরি, ছিনতাই, অপহরন সহ বিভিন্ন অপরাধ মুলক কজ। আর এখন প্রসাশন করবে তার কর্তব্য। তাকে গ্রেপ্তার করবে, মিডিয়া প্রচার করবে শিশু অপহরন কারি অমুক গ্রেফতার। আর সমাজের সুধী সমাজ সেই সংবাদ পরে বলবে ছিঃ……।

প্রিয় পাঠক, ব্যাক্তিগত ভাবে কোন রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান বা প্রসাশনের সাথে আমার কোন দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ নাই, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে উপরিক্ত কথা গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করে লেখলাম। কথাও কোন ভুল লিখেছি মনে হলে বা ভালো লাগলে আমাকে কমেন্ট করে প্রতিক্রিয়া জানাতে অনুরোধ করছি।