ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

পৃথিবীতে প্রতিদিন কত মানুষই তো মারা যান । কে রাখে কার খবর। এজন্য একটা প্রবাদও গ্রাম বাংলায় প্রচলিত আছে, আজ মরে গেলে কাল দুই দিন। মানব জাতির ইতিহাসে এখন ও কোন মহাপুরুষ আসেন নাই যিনি মৃত্যুকে অতিক্রম করতে পেরেছেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটা একটা ধ্রুব সত্য নিয়ম। তারপরেও এই নিয়মের ব্যাতিক্রম হয়ে থাকে, যা তারা তাদের কর্মের মাধ্যমে অনন্ত কাল বেঁচে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হিটলার যিনি মরে যেয়েও বেঁচে আছেন তার জীবন কালের নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত রুপে একজন ঘৃণিত ব্যাক্তি হিসেবে। তিনি তার জীবিত অবস্থায় অনেক হত্যাযজ্ঞ করেছেন। এরপরে আসি সুয়েডীয় বিজ্ঞানী আলফ্রেদ নোবেলের কথায়। তিনি ডিনামাইট আবিস্কার করেছিলেন মানব কল্যানের উদ্দ্যেশে। কিন্তু তিনি তার আবিস্কারের বিপরিত প্রয়োগ দেখে মর্মাহত হয়ে মানব কল্যানে নোবেল প্রাইজ চালু করে অমর হয়ে গেলেন। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন মানব কল্যানে পুরো জীবনটাই উৎসর্গ করে অমর হয়ে রইলেন। তাছাড়া সেক্সপিয়ার, লর্ড বায়রন আরও আগে সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, থেলিশ, এনাক্সিমিন্দার সহ অনেক মনিষী মানব কল্যানে আত্মনিয়োগ করে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।

বাঙ্গালী বিজ্ঞানীদের মধ্যে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন বসন সাহিত্যিকদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, কায়কোবাদ, আব্দুল হালিম, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ দাস, শরৎ চন্দ্র, শামসুর রহমান সহ অনেক মনীষী আছেন যাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্মরণ করে যাবে। এমন অনেক ব্যাক্তি আছেন যারা এখনো জীবিত। আমি তাদের নাম এখন নাই বললাম। যারা প্রয়াত হয়েছেন তাদের দলে নতুন করে যুক্ত হল আরও একটি নাম। তিনি হলেন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদ নাই কথাটা ভাবলে যেমন মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে অপর দিকে হুমায়ুনের যুগে আমি ছিলাম তা ভেবে মনের মাঝে গর্ব বোধও হচ্ছে। আজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অগণিত মানুষের আগমন, যাদের হাতে ছিল ফুল, চোখে জল আর মনে ছিল অকৃত্রিম ভালবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা। আমার মনে হয়, হুমায়ূন জানতেন তাকে এত লোক ভালবাসেন এবং মৃত্যুর পরে তার কবরে অনেক দর্শনার্থীর আগমন হতে পারে । তাই হয়তো আবেগেই বলেছিলেন, “নুহাশ পল্লী যেন কবরস্থান না হয়”। এটা তার মনের কথা নাও হতে পাড়ে। কেননা আমি যতদূর জানি নুহাশ পল্লীই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় স্থান। যদিও কোথায় কবর হবে এটা লেখকের একান্তই পারিবারিক ব্যাপার । তবে হুমায়ুন আহমেদের সমাধি প্রতিটি পাঠকের হৃদয়েই হয়ে গেছে। কবর থেকে যেমন বেরিয়ে আসা যায় না পাঠক হৃদয় থেকেও তিনি কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবেন না।