ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আবারো হরতাল। জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর,সংঘর্ষ আর লাশ আর রক্তের গন্ধ। কীসের জন্য, দেশ নাকি গণতন্ত্র? পাঠকমাত্রই বলবেন..এসবের কোনটাই না। একজন ভিখেরি, কিংবা দিনমজুর অথবা রিকশাচালককে জিজ্ঞেস করলেও একই কথা বলবেন, তা হল এ হরতাল, ভাংচুর,অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা, হামলা সবই ক্ষমতার পালাবদলের জন্য।

কার দোষ? কার লাভ??
এ প্রশ্নের সরল সমীকরণে বেশ কয়েকটি উত্তর আসতেই পারে, ধরুন, বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছিলো ১০/১২ দিন আগে। তখন কে বা কারা সচিবালয়ের ভেতরে ককটেল ফাটিয়েছেন,অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন। এসব কীসের জন্য। এর উত্তর নাই খুঁজলাম। তাই বলে এভাবে অনেকগুলো দলের নেতাকর্মীদের কোন তথ্য প্রমান ব্যতিরেকেই অভিযুক্ত করে মামলা, তারপর গ্রেফতারের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে সত্যিই নজিরবিহীন। একইসঙ্গে সাংবাদিকরা এসবের ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপরও পুলিশী লাঠিচার্জের ঘটনাও বিরল!

গল্পটা ৫/৬ বছর আগের…
২০০৪/০৫ দিকের গল্প। একদিন সন্ধ্যায় খবর বের হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের উপাচার্যকে লক্ষ্য করে কে বা কারা ককটেল বোমা হামলা চালিয়েছেন। ভিসি সাহেব গুরুতর আহত। তখন সাংবাদিকরা ছুটে গেলেন, ভিসি সাহেবের কাছে। ভিসি সাহেব সাংবাদিকদের বললেন, তিনি সিড়ি দিয়ে নিচে নেমেছেন, এ সময় দু’তিনটি ছেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তিনি এ সময় একজন দুষ্কৃতিকারী ধরে ফেলেনও, পরে অবশ্য দুষ্কৃতিকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে অবশ্য অন্য উৎস থেকে জানা যায়, আসলে ঐ দিন ভিসি তার কার্যালয়ে মিটিং করছিলেন, কে বা কারা একটি ককটেল বিষ্ফোরন ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার অনেকক্ষণ পর ভিসি তার সহযোগীদের নিয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে দিব্যি বাসায় চলে যান। সে সময় শুধুমাত্র একটি ইংরেজী দৈনিক ডেইলি ইনডিপেন্ডেন্ট এ খবরটির সত্যতা ছাপা হয়েছিলো। অন্যসব পত্রিকাগুলো ভিসির বর্ণনা করা গল্পটিই কোন প্রকার বিচার বিশ্লেষন ছাড়াই ছেপে দেয়। পরে, আরো অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের দুই প্রভাবশালী ছাত্রনেতাই এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টের রিপোর্ট ধরেই পুলিশ ঐসব অছাত্রদের গ্রেফতার করে এবং সাজা দেয়। পাঠক, প্রশ্ন হল ভিসি তবে গল্পটা মিথ্যে বললেন, কেন??? তিনি কী লাইমলাইটে আসার জন‌্যই অথবা কারো করুণা পাওয়ার জন্য এ গল্প সাজিয়েছিলেন?? যাই হোক গল্পটা এজন্য বললাম, তখন অনেকাংশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থাকলেও এখন কমে গেছে। এখন বিভিন্ন দলের ছত্রছায়ায় আমাদের সাংবাদিকরা বিক্রি হয়ে গেছেন। তাই অনেকাংশেই ঐ ভিসির গল্পের মতই সাজানো গল্প শুনি আমরা। মূল গল্প জানি না।

হরতালে কী হবে…
এসব হরতালে কার লাভ? তা না খুঁজলেও এটা পরিষ্কার যে এসব হচ্ছে ক্ষমতার মারপ্যাঁচের জন্যই। পদ্মা সেতুর দূর্নীতি, সাগর রুনির হত্যাকাণ্ড, রেলমন্ত্রীর টাকা কেলেঙ্কারী,সর্বশেষ ইলিয়াসের অন্ত:ধান এসব নিয়ে দেশবাসী যেমন উদ্বিগ্ন ঠিক তেমনি বিরোধী দলও মাঠ গরম করে চলছে। তাই বলে এভাবে গণহারে বিএনপি ও ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের মামলা দিয়ে গণ গ্রেফতারের ঘটনায় দেশের পরিস্থিতি কী হচ্ছে….সংঘর্ষ দিয়ে সত্যি কোন সমাধান মিলবে। মিলবে না, বরং সহিংসতা এবং দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজবে। কমবে বিদেশী বিনিয়োগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই জানেন,এর মধ্য দিয়ে বিরোধীদলকে দমন করা ছাড়া অন্য কিছুই হবে না। আর বিরোধীদল যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসান তবে তারা যে বর্তমান ক্ষমতাসীন শাসকদলের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চালাবে না, তার নিশ্চয়তা কী?? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার সিঁড়িটা পাকাপোক্ত করতেই এভাবেই দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সরকার??