ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

কয়েকদিন ধরে আমাদের মহান চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের পিটিয়ে বেড়াচ্ছেন। একজন ফেইস বুকে তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন ভবিষ্যতের কসাইরা, শিক্ষানবিশ থাকাকালিন সময়ে তালিম নিয়ে নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের এই মারমুখি আচারণের কারন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান, তার শিষ্যদের নিয়ে এক রোগীকে মারধর করেছেন, কারণ রোগী তার অধিকারের বিষয়ে সচেতন ছিলেন। আর মারধরের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা রিপোর্ট করেছিল।

সাংবাদিকরা হাসপাতালে ঢুকতে না পারলে এই ধরনের রিপোর্ট করা সম্ভব ছিল না। তাই আমাদের মহান চিকিৎসকরা সাংবাদিক পেটানো উৎসবে নামলেন। কম বেশি ২০ সাংবাদিক তাদের আক্রমনে আহত হলেন। যাদের কয়েকজনের বুকে, মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে।
এরপর সাংবাদিক নেতারা হম্বিতম্বি দিয়ে থানায় মামলা করলেন………..

চিকিৎসকরা পাল্টা চুরির মামলা দিলেন। তাতে বলা হলো চিকিৎসকদের ছুরি কাচি চুরি করেছে সাংবাদিকরা। হায়রে কপাল শেষ পর্যন্ত এই জিনিস চুরি করার অপবাদ এলো সাংবাদিকদের ওপর। ওই দিন আমাদের তথাকথিত চিকিৎসকরা যা করছিলেন, এই ছুরি চাকু সামনে পেলে তা দিয়ে তাদের কয়েকজনের অপারেশন সাংবাদিকরা তাৎক্ষনিকভাবে করে দিলেও অবাক হবার থাকত না। এই মামলাটি যে একটি মিথ্যা মামলা তা ছোট বাচ্চারাও বুঝতে পারবে।

পরে সরকারি দলের একজন মধ্যস্থতা করে সমাধান দিলেন, মামলা তুলে নেয়া হল। সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো। কিন্তু সাংবাদিকরা যে মার খেল তার বিচার
কি হলো না ???

হাসপাতালে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেবেন না ভাল কথা। তার জন্য আলোচনা হতে পারত। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া যেত। কিন্তু হাসপাতাল গেটে গেলে সাংবাদিকদের মারধর করা হবে, তাদের ক্যামেরা কেড়ে নেবে, মাথা ফাটিয়ে দেবে, তারপর আবার চুরির মামলা করা হবে।

আমাদের মহান সাংবাদিক নেতরা চিকিৎসকদের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছেন। এতে আমি লজ্জিত।

যখন কলেজে পড়তাম তখন বন্ধুরা একজনে মারার জন্য যাচ্ছিল, আমি বললাম, পড়ে ঝামেলা হবে, যাস না। আমার বন্ধুর উত্তর, “আগে মাইরা লই পড়ে সালিশে হারলেও মাইর তো ফেরত দিতে পারব না। ”

চিকিৎসকরাও এটাই করেছে, মাথা ফাটানোর পর তার বিচার করা হল না। ঢাকা মেডিকেলে ঢুকতে দেয়াতেই যেন আমরা বেজায় খুশি। আবারো প্রতিষ্ঠিত হলে সাংবাদিক মারলে কিছু হয় না। আর আমাদের নেতারা সারাজীবনই মিউ মিউ চরিত্রের বহি:প্রকাশ ঘটালেন………………