ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গরু দিয়ে ভাল হালচাষ করা যায়,
ছাগল দিয়ে প্রায় অসম্ভব
কিন্তু যদি আপনার ছাগল একটু শক্ত পোক্ত হয়
কিংবা রাম ছাগলের মতো উন্নত প্রজাতির হয়
তাহলে হয়তবা আপনি অনেক কষ্টে কাজ চাইলে যেতে পারবেন
কিন্তু মুরগি দিয়ে ???!!! অসম্ভব……….. আমাদের এক মন্ত্রী আছেন যিনি শেষ দলের সদস্য বলুন তো তিনি কে?????
ফেইস বুকে এই স্ট্যাটাসটা দেয়ার পর একজন মন্তব্য করেছেন —– যার বাংলা এরকম, তিনি তার মেধার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দরি।

এবার মুল প্রসঙ্গে আসা যাক। সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তারের খবর নেই। কি উদ্দেশ্যে এই নৃশংস খুন তা এখনও রহস্য, যা দিন দিন বাড়ছেই । আকাশে বাতাসে নানা রকমের গুজব, কেউ কেউ আবার এর মধ্যে চেষ্টা করছেন রসালো কোন কিছু খোঁজার কিন্তু কোন প্রশ্নেরই উত্তর এখন পর্যন্ত দেশবাসি পায়নি।

আমাদের অতি সম্মানিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘন্টার হুংকার দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই হুংকার এখন বিড়ালের মিউ মিউতে পরিনত হয়েছে। ৪৮ ঘন্টা শেষে সম্মানিত পুলিশ প্রধান বলেছেন, প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় অপ্রচলিত এই শব্দটি বর্তমান আইজিপি’র কল্যাণে বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে। দুদিন আগে এক চায়ের দোকানদার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল ভাই প্রণিধান যোগ্যের মানে কি? বুঝতেই পারছেন এই শব্দটির মানে খোজার জন্য সবার কত আগ্রহ!!!!!

প্রণিধানযোগ্য শব্দটির অর্থ উল্লেখযোগ্য বা কোন কিছুর অনেক দুর পর্যন্ত অগ্রগতি হওয়া, বলার মতো অগ্রগতি হওয়া ইত্যাদি। কিন্তু তারপর কেটে গেছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় কিন্তু সেই “প্রণিধান যোগ্যতার” কোন প্রণিধানযোগ্য ফল আমরা পাইনি।

ছোট শিশুদের যেমন বলা হয়, কেদ না, তোমাকে এটা দেব, ওটা দেব, আজ দেব তো কাল দেব। তারাও কি আমাদের এমনটা বুঝ দেবার চেষ্টা করছেন। কয়েকদিন আগে জানলাম খুনের মোটিভ অর্থাৎ উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পেরেছে গোয়েন্দারা। তারপরও কিন্তু কোন ফল নেই। এতে আমরা কি সিদ্ধান্তে আসতে পারি।

১। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দিয়েছিলেন হয় পুলিশের সাথে কথা বলে, না হয় এমনি এমনি। তিনি তার কথা রাখতে পারেননি। তাই তিনি ব্যর্থ। আর যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তার কথা রাখতে পারেন না তার কি করা উচিত????
২। পুলিশ মহাপরিদর্শক তার প্রণিধান যোগ্যতার প্রমান দিতে পারেননি, তাই তিনি ব্যর্থ।
৩। খুনের উদ্দেশ্য জানার পরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না তাই তারা ব্যর্থ।
৪। হয় পুলিশ এই ঘটনার কোন কুলকিনারাই করতে পারেনি অথবা তারা অনেক কিছু জানার পরও লুকানোর চেষ্টা করছেন।

এতো বড় একটি ঘটনার এই যদি হয় তদন্তের অবস্থা, তাহলে সাধারণ মানুষের হায় হায় করা ছাড়া আর কি কোন উপায় আছে। এখন আবার নতুন করে জুজুর ভয় ‘হাইকোর্ট’ দেখানো হচ্ছে। পুলিশকে কিছু জিজ্ঞেস করলেই তারা এখন আমাদের দাঁড়িপাল্লার সাদা ভবনটিকে দেখিয়ে দিচ্ছে। হাইকোর্টের এক আদেশে এখন তথ্য পাবার অধিকার থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাহলে কোথায় গিয়ে আমরা দাঁড়াব।
বাতাসে জোড় গুঞ্জন আরো এক বা একাধিক জজ মিয়াকে হাজির করা হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে এটুকু বলতে পারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমান প্রশাসনের অনেকের জন্যই অগ্রীম সেল বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। কারন জজ মিয়া নাটকের লেখকরা এখন সবাই কারাগারেই আছেন।

আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা এই দম বন্ধ করা “হায় হায়” পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই। কেউ কি আছেন আমাদের মুক্তির পথ দেখাবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী…………… দু:হ ছাই!!!! তিনি তো আবার তার বেড রুম ছাড়া, অন্য কারো বেড রুমে পাহাড়া দিতে চান না। তাহলে কোথায় যাব, কার কাছে যাব, হায় ………………………………….