ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সাগর-রুনির লাশ তুলতে র‌্যাবের আবেদন করার পর, অনুমতি দিয়েছে আদালত। লাশ তোলার সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকবেন। প্রশ্ন হল আড়াই মাস পরে এই লাশ তোলার দরকার কি কারনে। র‌্যাবের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে জেনেছি, লাশ দু’টির ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়নি। অর্থ্যাৎ মৃত্যুর জন্য বিষক্রিয়া দায়ি কিনা তার পরীক্ষা করেনি ফরেনসিক বিভাগ। আর ফরেনসিক বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আসল কারন যে ছুরিকাঘাত তা তার প্রমান তারা পেয়েছেন, তাই এই ঘটনার জন্য ভিসেরা রাখা হয়নি।

এতোদিন গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার তদন্ত করেছে। থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিককে বলাও হয়নি। যদিও সাধারনত প্রত্যেকটি খুনের ঘটনায় এটা করা হয়। কিন্তু সাগর-রুনির ক্ষেত্রে কেন হয়নি তার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।

জোড়া এই খুন যে ছুরিকাঘাতেই হয়েছে তা বোঝার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হবার দরকার হয়না। প্রায় তিন মাস পর এই লাশ তুলে এখন কি পাওয়া যাবে??? এখন ডিএনএ ছাড়া যে পরীক্ষাই করা হোক না কেন, প্রতিবেদন আসবে ” Highly Decomposed” এর বাইরে অন্য কিছু আসার সম্ভাবনা একেবারেই নগন্য।

তাহলে কেন আবার পচে যাওয়া লাশ নিয়ে এই টানা টানি। কারন একটাই, র‌্যাব কিছু একটা করছে তা প্রমান করা। আমরা জানি, নিজেদের ছবি, কথা গণমাধ্যমে প্রচার করার জন্য র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তা সব সময়ই ছটফট করতে থাকেন। তাই কোন কিছু ঘটার পর তাদের সাফল্য যাতে প্রচার হয় এজন্য প্রয়োজনে পাঁচবার ফোন করতেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না। মিডিয়া খেকো এই বাহিনী সফলতা প্রচার করা জন্য ঢাকা থেকে সাংবাদিকদের সুন্দরবন নিয়ে গিয়ে, ডাকাত মারার নাটক বানায়। সেই নাটকের নতুন সংযোজন ঘন সবুজ বনের উ্পর দিয়ে হেলিকপ্টার উড়ে যায়, সাংবাদিকরা তার ছবি নেয়। পরে বলা হয়, এই হেলিকপ্টার দিয়ে ডাকাতদের অবস্থায় নির্ণয় করা হয়েছে। বিষয়টি কতটা হাস্যকর, যারা সুন্দরবন সম্পর্কে জানেন তারা ভাল করেই বোঝেন, ঘন সবুজ এই ম্যানগ্রোভ বনের উপর থেকে ভেতর কিছু দেখা যায় কিনা। তারপর সিনেমা স্টাইলে পোজ দিয়ে র‌্যাবের সদস্যরা গুলি করতে থাকেন আর ক্যামেরাম্যানরা খুব কাছ থেকে শৈল্পিক সব ফ্রেমে ছবি নিতে থাকেন। বাস্তব গোলাগুলির সময় ক্যামেরাম্যানরা কিভাবে ছবি নেন ঢাকার রাস্তায় হরতালের মারামারির সময়ের ছবি দেখলেই তা সবাই বুঝতে পারবেন। র‌্যাব কি রকম করে নাটক বানাতে পারে সেই কথা বলার জন্যই “ধান ভানতে শিবের এই গীত” বলছি।

র‌্যাবের এই নাটক প্রিয়তার নতুন অধ্যায় বলেই মনে হচ্ছে, সাগর-রুনির লাশ উত্তোলন। কয়েকদিনের মধ্যে এই লাশ উঠবে। গণমাধ্যম সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। র‌্যাবের চৌকস কর্মকর্তা তার বক্তব্যে বলবেন তারা অনেক কিছু করছেন। তারপর সময় অতিবাহিত হতে থাকবে। আমাদের সাংবাদিক নেতাদের আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডেকে বলবেন, আমরা চেষ্টা করছি। তাই আবার আন্দোলন বন্ধ হবে।

সময় অতিবাহিত হতে থাকবে, হতে থাকবে, হতে থাকবে। কিন্তু আমরা একবারের জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইব না। র‌্যাব বলবে করছি, করব, হচ্ছে, হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ত বা নতুন কোন নাটক হবে। অবাক হবার কিছুই থাকবে না। যদি ছয়মাস পর আবার বলা হয় ” তদন্তের স্বার্থে লাশ দুটি আরো একবার তোলা দরকার।”