ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মুসলিম দেশ গুলুর নাম নিলেই সর্ব প্রথম যেই দেশ টির নাম উঠে আসে যা কিনা শিক্ষা -দীক্ষা এবং সাহিত্যে এবং ইতিহাসে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে এগিয়ে তা হলো ইরান। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল সম্মৃদ্ধ রাষ্ট্র গুলুর মধ্যে একটি এছাড়াও আছে বেপক পরিমানে প্রাকৃতিক গ্যাস । এই দেশটি গত শতাব্দীর প্রায় প্রথম থেকে সত্তর দশক পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্ব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবার পর থেকে এই পর্যন্ত অসাধারণ উন্নয়ন সাধন করেছে , জ্ঞান -বিজ্ঞান এর উন্নয়ন সাধন হয়েছে বেপক হারে । কিন্তু ওই পশ্চিমা কালোছায়া নেমে আসছে ইরান এর উপর আরো একবার ।

তেজস্ক্রিয় শক্তির উত্পাদন এর মাধ্যমে ইরান বিত্দুত উত্পাদন এর যেই প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসরাইল মিলিত ভাবে বন্ধ করার জন্য হুমকি দিচ্ছে । তাদের অভিযোগ হলো ইরান এই প্রকল্পের আড়ালে তেজস্ক্রিয় অস্ত্র বানাচ্ছে । কিন্তু এখনো এই মন্তব্যের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তারা উপনীত হতে তো পারেই নাই বরং এরই মধ্যে আবার ইসরাইল এর দেয়া যুদ্ধের হুমকি যোগ করেছে এক নতুন অশনি সংকেত ।

সম্প্রতি ইরানের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকা অর্থনৈতিক নিশেদাজ্ঞা জারি করেছে . তারা ঘোষণা দিয়েছে তারা ইরান এর কাছ থেকে জালানি তেল কিনবে না । তবে এতে ইরান এর অর্থনীতিতে প্রভাব এর চেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে পশ্চিমার উপর কেননা রাশিয়া,চীন ও ভারত ঘোসনা দিয়েছে তারা তেল কিনা অব্যেহত রাখবে । বরং এতে করে ইউরোপ এর বাজারে প্রভাব পড়বে বেপক হারে কেননা নিশ্চিত ভাবে তাদের বাজারে তেল এর দাম বৃদ্ধি পাবে । তবে এতেও তারা বসে নেই তারা আন্তর্জাতিক কোনো লেনদেন যাতে ইরান না করতে পারে তার জন্য সব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলুর উপর নিশেদাজ্ঞা আরোপ করেছে । কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন ?

আগেই বলেছি ইরান তেল সম্মৃদ্ধ একটি দেশ । তার উপর গ্যাসও কিছু পরিমানে রয়েছে. এই দেশ এর এই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এর উপর অনেক দিন যাবত পশ্চিমা বিশ্বের নজর রয়েছে । তার উপর একটি উন্মক্ত গোপন কারণও আছে সেটা হলো রাশিয়া,চীন এবং ইরান এর সুদ্রৃঢ় সম্পর্ক যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগীদের জন্য কিছটা হুমকি সরূপ । রাশিয়ার ইরান এর প্রতি যে সম্পর্ক তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছুটা ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে. আর চীন এর সাথে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই দৃঢ় ।

এবার আসা যাক ইসরাইল প্রসঙ্গে , কেন ইসরাইল এত বেশি আগ্রহী ইরান আক্রমনে ? ইরান মুসলিম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রথম থেকেই সাহায্য দিয়ে আসছে কেননা এটি যোক্ক্তিক দাবি । এবং ইরান ও ফিলিস্তিনির মধ্যে সম্পর্ক বেশ উষ্ণ এবং এটিকে ইসরাইল দেখছে হুমকি সরূপ । তাই ইরানকে শায়েস্তা করার জন্য পশ্চিমা বিশ্বের সাহায্যে ফাকা মাঠে গুলি ছুড়ছে । এরই মধ্যে আমেরিকা ও ইসরাইল গালফ সমুদ্রে বেশ কয়েকটি মিলিত মহড়া চালিয়েছে ।

এই ঘটনার অনুসন্ধানে দুই দুই বার পর্যবেক্ষক দল ইরান সফর করেছেন কিন্তু সেইরকম কোনো আলামত পাননি । কিছু যে সামান্য যন্ত্রাংশ পাওয়া গিয়েছে তা মূলত বিত্দুত উত্পাদনের কাজে লাগানো হয়. এই পর্যবেক্ষণ এর আগে ও পরে সবসময় ইরান বলে আসছে যে তারা কোনো প্রকারেই অস্ত্র বানাচ্ছে না । কিন্তু অতি উত্সাহী ইসরাইল এবং পশ্চিমা বিশ্ব তা মানতে কোনো ভাবেই প্রস্তুত ছিল না ।বরং তারাই নানাভাবে অন্যান্য দেশ গুলুকে কৌশলে বুঝতে লাগলো যে ইরানের সরল কার্যক্রমের ভয়ঙ্কর রূপ যেভাবে তারা সব যুদ্ধের পূর্বেই করে ।

এমতবস্থায় ইসরাইল যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে ইরান কে বার বার । কিন্তু আসার কথা হলো ইউনাইটেড নেশন,যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কেওই এখন যুদ্ধের মত কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে না , বারাক ওবামা তার সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাত্কার এ তা পরিস্কার উল্লেখ করেন ।কারণ এই মুহুর্তে গোটা আমেরিকা জুড়ে চলছে প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া বারাক ওবামার বিরুদ্ধে আগামী সেপ্টেম্বর এর নির্বাচনের জন্য । এই মুহুর্তে তিনি নিজেও কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তে যেতে চাচ্ছেন না ।

হিলারি ক্লিন্টন বলেন , ইরানকে এই পরমানু বিষয়ে তার অবস্থান পরিস্কার করতে হবে এবং তাদের ক্রমাগত নিসেদাগ্জ্ঞা ইরানকে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে ।
এখন সম্ভবত আমাদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে পশ্চিমা দের ইরান এর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ এর জন্য । কিন্তু পদক্ষেপ যাই হোক না কেন অবসস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেকোনো সিদ্ধান্তই তারা নিক না কেন তার জন্য তাদের কে চরম মুল্য দিতে হতে পারে ।কারণ যেকোনো দুর্যোগ পূর্ণ অবস্থার জন্য ইরান প্রস্তত ।