ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রাকৃতিক নিয়মেই একদিন আমাদেরকে আমাদের স্থান থেকে সরে আসতে হয় ,কেননা আমাদেরকে জায়গা করে দিতে হয় নতুনকে । এটি যেমন সত্য গ্রহ নক্ষত্রের জন্য তেমনি সত্য পৃথিবীর সমস্ত প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে । এটি একটি বিদায়ী প্রক্রিয়া এবং পাশাপাশি একটি স্বাগত প্রক্রিয়া নতুনদের জন্য ।

কিন্তু সমস্ত নভোমণ্ডল এর বিপরীত চিত্র দেখা যায় শুধুমাত্র একটি জায়গায় সেটা হলো বাংলাদেশের রাজনীতি , যেখানে একবার কেও আসলে আর তার কোনো বিদায় নেই কিংবা না আছে অবসর বা পদত্যাগ ,যদি না মৃত্যু বা বার্ধক্যজনিত কোনো জটিল কোনো রোগ না হয় । এটি এখানকার নিত্য চিত্র । এটি আপনার এলাকার যেকোনো দলের পাতি নেতা হতে ওই দলের প্রধান পর্যন্ত প্রযোজ্য ।

আমাদের নেতাদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমলোচনার ঝড় আসলেও তারা তাদের আসন কখনো ছাড়েননি এবং নিকট ভবিষতে ছাড়ার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছেনা । সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার টানার ইচ্ছা থাকলেও প্রয়োজন মনে করছি না কারণ তা সম্পর্কে আমরা সচেতন নাগরিক সমাজ ভালই ওয়াকিবহাল আছি । এমপি ,মন্ত্রীদের মহাসাগর সম দুর্নীতি ধরা খেলেও তারা দিব্বি ক্ষমতায় অধিষ্টিত রয়েছেন গতকাল অবশ্য এর একটি ব্যতিক্রম নজির স্থাপন করলেন প্রবীণ নেতা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তবে সেটিকে সার্বিক অবস্থার চিত্রের সাথে এক করা যাবে না । এই অবস্থা আমাদের দেশের কেননা এটি বাংলাদেশ ।

অথচ কিছু দিন আগেও ইতালিতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রমান করে কি চরম ভাবে পশ্চিমারা গণতন্ত্র অনুশীলন করেন । পদত্যাগ সেখানে খুবই স্বাভাবিক । নিয়মটা একেবারে সাধারণ সেখানে, আপনি আমার চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না তার মানে আপনি ব্যর্থ , সুতরাং ফলাফল পদত্যাগ । আমার কথা হল সব দেশেই কোনো না কোনো মন্ত্রনালয়ে সমস্যা হয় ,কিংবা অর্পিত দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ব্যর্থ হন , সেটা হওয়াই স্বাভাবিক কিন্তু সেখানে আমাদের মত তারা ওই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরও আসনটি আকড়ে ঘরে থাকেন না ওই দায়িত্ব থেকে সাথে সাথে পদত্যাগ করেন ।

একমাত্র মধ্য এশিয়ার কিছু সংখ্যক মুসলিম দেশ ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের কোনো দেশে দুই টার্ম এর বেশি কোনো নেতা ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করার নজির বর্তমান সময়ে আসলে খুঁজে পাওয়া কঠিন । কিন্তু এখানেও আমরা ক্লিন্টন ,বুশদের পিছনে ফেলে বছর কে বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার নজির স্থাপন করেছি । না আমাদের রাজনৈতিক দল এর নেতৃত্বে পরিবর্তন আছে , আর না আছে রাষ্ট্রে . এই দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতায় থাকাটাকে আমি খারাপ বলছি না , খারাপ হল সেটাই যে আপনি ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থেকেও যখন দেশের কোনো অগ্রগতি হয় না তখন. আপনি বিশ বছর থাকেন মাহাতির মোহাম্মদ এর মত আমার কোনো সমস্যা নেই ,শুধু বাংলাদেশ কে মালয়শিয়া বানিয়ে দিয়ে যান ।

রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে শুরু করেন অশালীন এবং অশুভ রাজনৈতিক অনুশীলন । তারা ক্রমে ক্রমে বাধা দান করেন নতুন নের্তৃত্ব বিকাশে । তাই আমরা কখনো উদীয়মান নেতা পাই ।

দেশে আজ মেধাবী নেতার বড় অভাব . কেনইবা হবে না ? এখানে এটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় । এখানে নেই কোনো নের্তৃত্ব বিকাশের পরিকল্পনা । আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলুতে নেত্তৃত্ত বিকাশে কোনো গুরুত্বই দেয়া হয় না । এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও সুস্থ ধারার রাজনৈতিক অনুশীলন হয় না, ফলে আমরা ভালো নেতা পাওয়ার সব সুযোগই হারাই যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব , তাজউদ্দিন আহমেদ ,নজরুল ইসলাম , জিয়াউর রাহমান এর মত নেতা । এই সুযোগে কিছু অসুস্থ মেধার মানুষ রাজনীতিতে প্রবেশ করে এবং রাজনীতিকে কলুষিত করে ফেলে ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা যখন উঠলো তখন বলতেই হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ডাকসু নির্বাচনের কথা । সেই যেই বছর গণতন্ত্র আনলো আমাদের দল গুলু সেই বছর থেকেই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । এখন আমরা যাদের দেখতে পাই তারা কাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি করেন না পেশী রাজনীতি করে থাকেন । এবং এই দলে সাধারণ ছাত্রের উপস্থিতি খুবই নগন্য ।

আরেকটি খুবই নোংরা সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতির আমরা দেখতে পাই সেটা হল রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র , যেই সংস্কৃতি চলে আসছে ক্ষমতার শীর্ষ থেকে একেবারে নিচে পর্যন্ত । আপনি চাইলেই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন না বরং বলা উচিত আপনাকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না ।

শুধু তাই নয় আজ আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাও হুমকির সামনে । এটি কোনো গণতান্ত্রিক দেশের চিত্র হতে পারে না । আজকে যেখানে আমরা নেতৃত্বের দিকে এক শূন্যতার দেখা পাচ্ছি সেখানেই দেখা যাচ্ছে নতুন নেতৃত্বের আগমনের কোনো আলামত নেই, কোনো এই অবস্থা এমনটা হওয়ার তো কথা ছিল না ? আমাদের ছাত্র রাজনীতি কেন আজ উপেক্ষিত এবং কিছু অদক্ষ লোকেদের হাতে জিম্মি ?

এটি যেকোনো পেশার জন্যই প্রযোজ্য যে , ওই পেশার মানুষগুলোই ওই পেশাকে জনপ্রিয় করে তোলেন । তাই বিশ্বের অন্য সব উন্নত দেশের মত আমাদের রাজনৈতিক নেতাদেরই দায়িত্ব যে আমাদের রাজনীতিকে কলুষতা মুক্ত করে জনপ্রিয় করা , এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এগিয়ে আসা ।

কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কি দেখছি আমরা ? আমাদের রাজনীতিবিদরা এখন আর পেশাগত ভাবে রাজনীতি করেন না হয় তারা রাজনীতি করেন বেবসা করতে আর নাহলে তারা বেবসা করেন রাজনীতি করতে । তো এই যখন অবস্থা তখন আন্তরিক রাজনীতিবিদ না পাওয়াই স্বাভাবিক ।

বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার পূর্বে এই বাংলার কর্তৃত্ব ছিল সতের টি পরিবারের হাতে , হয়ত তার চেয়ে কিছু বেশী হবে আজকে আবার গণনা করলে । তো কোথায় হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ? এখনো কিছু মানুষের হাতেই সব ক্ষমতা, তাহলে কেনই বা করবে নতুন প্রজন্ম রাজনীতি ?

হয়ত আমার কথাগুলো শুনতেই ভালো লাগে কিন্তু বাস্তব নয়, একবার ভেবে দেখুন সময় এসেছে এটিকে বাস্তব করার। আমরা নেতা চাই যে হবে মুজিবের মত উদ্যোমী,সংগ্রামী ও সাহসী যে হবে জিয়ার মত সুদূরপ্রসারী ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক সবার উপর যে হবে উনাদের মতন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ।