ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

গত তিন বছর যাবত আমাদের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান গুলু পরিণত হয়েছে একরকম রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলুটে ক্ষমতার রাজনীতির কারণে সাধারণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপক ভাবে । সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা একেবারে জিম্মি হয়ে গেছে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে ।

ধারাবাহিক ভাবে শিক্ষাঙ্গনগুলো উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে । ছাত্র ও শিক্ষকরা জড়িয়ে পড়ছেন সংঘর্ষে নানা কারণে । এটি তো কাম্য হতে পারে না কোনও শিক্ষিত ,সভ্য জাতির কাছে ।

এর ধারাবাহিকতায় যোগ হয়েছে বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা । সেখানে যে অচলাবস্থা চলছে, তা নিরসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিয়েছে। সেখানে সরকারপন্থী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একাংশ স্পষ্টই উপাচার্যের ঠ্যাঙারে বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর শনিবার তারা সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।

বুয়েটের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় কার্যত অচল। শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। গত সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতির নেতাদের আলোচনা হয়েছে, কিন্তু তাতে অচলাবস্থার অবসান ঘটেনি। বুয়েটের একাধিক সাবেক উপাচার্য ও অ্যালামনাই নেতারা অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছেন। উপাচার্যের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু সংকট কাটেনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল হকের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, সন্ত্রাসী ছাত্রদের মদদ জোগানোসহ অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা উপাচার্যের মতো মর্যাদাবান পদে তাঁর থাকার নৈতিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বুয়েটের বর্তমান উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও শিক্ষকদের অভিযোগগুলো গুরুতর। শিক্ষক নিয়োগে ও পরীক্ষাপদ্ধতিতে অনিয়মের অভিযোগ থেকে যে বুয়েট মুক্ত ছিল, বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ উঠেছে। বুয়েটে সহ-উপাচার্যের পদ আগে ছিল না, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে এই পদ সৃষ্টি করা হয়, কিন্তু তখন এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারও এ পদে নিয়োগ দেয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন একজন শিক্ষককে, যাঁকে নিয়োগ দিতে গিয়ে অর্ধশতাধিক জ্যৈষ্ঠ শিক্ষককে ডিঙাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ বলেন সরকারের আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার জন্যই ছাত্রদের এই অসাধু রাজনীতি দেখেও না দেখার ভান করছেন । অবস্থা কতটা শোচনীয় যে এখন তাদের ভিতরকার ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত কারণ মাঠে এখন তারা প্রতিদ্বন্দীহীন বিএনপির ছাত্রদের কে ক্ষমতার প্রথম মাসেই উত্খাত করা হয়েছে । সংবিধান প্রণেতা ডক্টর কামাল কামাল হোসেন এটিকে জাতীয় রাজনীতিরই একটি রূপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এই সংস্কৃতির জন্মদাতা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোই ।

কারণটা বেশ পরিষ্কার এই ঘটনাগুলোর এবং নিকট অতীতে ঘটে যাওয়া অন্যসব ঘটনাগুলোও । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষা-গবেষণা, পঠন-পাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকারের আগ্রহ যদি হয় ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে সরকারি দলের অনুগ্রহভাজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধিপত্য কায়েম করা, তাহলে এমন সংকট সৃষ্টি হওয়ারই কথা।

শুধু পরিশেষে এতটুকুই বলব , এই অবস্থা কোনও শিক্ষক,ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের কাম্য হতে পারেনা । দেশের মেধা ধ্বংসের এই অপপ্রচেষ্ঠা বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ।