ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আলোচনার প্রারম্ভে শিরোনামকে সাপোর্ট করে কিছু উদাহরণ :

উদাহরণ নং এক বিএনপির আন্দোলনে কখনোই জনগণের সমর্থন ছিল না। তাইতো একটা মামলা খাওয়ার পর বিএনপি নেতারা থেমে গেছে।“বিএনপির ডাকা হরতাল মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। রাস্তাঘাটে মানুষ চলাফেরা করছে। দোকানপাট খুলেছে। তাদের হরতাল ব্যর্থ।”“ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পেতে সরকার কাজ করছে। বিএনপি যদি তাদের নেতাকে ফিরে চায় তাহলে আন্দোলন করে হরতাল না দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করুক অন্যথায় সরকার আর কঠোর হবে । কথাগুলু বলছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

উদাহরণ নং দুই ‘হুকুমের আসামি হিসাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণ না হলে তাদের অব্যাহতি পাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।’ বলছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। তিনি আরও বলেন ‘হামলার দায় হরতালকারীদেরই নিতে হবে। চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ না করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালাতে বাধ্য হবে।’ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা নাজুক কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সরকারের একটি কৌশল।

উদাহরণ নং তিন প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এসএম মেহেদি হাসান বলেন, ‘দুইদিন আগে বিএনপি রাজধানীতে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ ও জানমালের খতি করেছিল।সেই ঘটনা থেকে আশঙ্কা ছিল আজও গণমছিলের নামে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এ কারণেই তাদের মিছিল করতে দেওয়া হয়নি।’

উদাহরণ নং চার বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও মির্জা ফখরুলসহ ১৮ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রোববার হরতাল চলাকালে সচিবালয়ের মধ্যে ও বাইরে বোমা বিস্ফোরণ ও তেজগাঁওয়ে গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে মামলা দেয় হয়েছে ।

উদাহরণ নং পাঁচ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সমমনা দলগুলোর নেতাদের জামিন আবেদন শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি ম্পেশাল বেঞ্চ বসানোর আবেদন নাকচ করেছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন

উদাহরণের বাস্তব প্রয়োগ
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব নূরুল কবির রিজভী সন্ধায় বলেন ইলিয়াস আলীর বিষয় আড়াল করতেই সরকার বিএনপির মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে ,‘‘সরকার প্রধান গণতন্ত্রের নেত্রী হিসেবে দাবি করলেও বাস্তবে তিনি ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান।’’ । এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাত নয়টায় বাড়ি ফেরার পথে রুহুল কবীর রিজভীকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এবং নাটকের বাকি অংশ দেখতে আজ সারাদিন অপেক্ষা করতে হবে ।

ঘটনার মন্তব্য :
সত্যিকার অর্থেই দেশে কোন সরকার আছে কি? সরকার বলে কিছু আছে বলে তো আমার মনে হয় না এবং আন্দোলন দুর্বল করতেই সরকার বিরোধী দলের সক্রিয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। সুস্থ পরিস্থিতি সম্পর্কে বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
সরকার মানবিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

বুঝতে নিশ্চয় কারো বাকি নেই যে ফ্যাসিবাদ কাকে বলে । তারপরও যারা উদাহরণ থেকে লেখকের মন্তব্য বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন তাদের জন্য বলছি :

ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষে যেকোনো অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক আচরণ (ইলিয়াস গুম) ঢাকার জন্য এলপাতারি মন্তব্য (গত বারো দিন যাবত কৃত মন্তব্য) এবং সময় গ্রহণ (যা নেয়া হয়েছে এই পর্যন্ত) । কৃত কাজের জবাবে গণআন্দোলন থামানোর জন্য প্রশাসন , আইন-শৃংখলা বাহিনী এবং দলের কর্মীদের ব্যাবহার (যা প্রতিটি হরতালের দিন দেখা গিয়েছে)। যদি তাতেও কাজ না হয় তাহলে আইন ও মামলার ব্যাবহার (যা আজকে বি এন পি, জামাত ও জাতীয় পার্টির আঠারো কর্মীর বিরুদ্ধে করা হয়েছে) এবং পুনরায় মামলা এবং হামলার হুমকি (যা উপরে হানিফ সাহেব ও টুকু সাহেবের কথায় পরিস্কার)। শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আদালতও যাতে ব্যাবহার না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করা (যেভাবে স্পেশাল বেঞ্চ বসানোর আবেদন নাকচ করা হল) ।

তো এই অবস্থা নিশ্চয় কারো কাম্য হতে পারে না । তবে ওই নৈরাজ্যের ভিড়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি আচরণকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক , মানবিক এবং সময় উপযোগী বলতে হবে তা হল তিনি ইলিয়াসের স্ত্রী কে দেরিতে হলে তার বাসভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন আগামী 2মে । ধন্যবাদ আপনাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , এটিই হওয়া উচিত । একেই বলে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক সৌহার্দ যা আমরা দেশবাসী দেখতে চাই ।

চাওয়া থাকবে শিরোনাম বদলানোর । অবশ্যই আশা করব প্রধানমন্ত্রীর নের্তৃত্বে এই অবস্থার কোনও সুন্দর এবং সুস্থ পরিসমাপ্তি যদি তিনি তা করতে পারেন তবে উনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রজ্ঞা প্রমাণ পাবে আবার