ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

তিনি ছিলেন সকল সংগ্রামে ,তিনি ছিলেন সকল সংগ্রামীর অন্তরে তিনি প্রতিনিধি অত্যাচারিতের এবং দুর্বলের , তিনি গেয়েছেন মানুষের জয়গান তার প্রাণে ছিল তারুণ্যের উল্লাস ।
বলছিলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা । আগামী ২৫ শে মে এই দিগ্বিজয়ীর ১১৩ তম জন্মদিন ।

শুধুমাত্র সাহিত্য নয় বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান অনস্বীকার্য । ওই সংগ্রাম গুলিতে তার গান ও কবিতা প্রেরণা যুগিয়েছে সংগ্রামীদের ।

শুধুমাত্র উপমহাদেশ নয় বরং পৃথিবীর সাহিত্যের ইতিহাসের সবচেয়ে বিরল কবি তিনি , যিনি একাধারে গেয়েছেন সুন্দরের গান পাশাপাশি নিয়েছেন অত্যাচারীর প্রাণ । অর্থাত একাধারে প্রেমের কবি এবং সাথে সাথে বিদ্রোহী কবিও বটে ।

আরেকটি কারণ আছে তার সাহিত্যে যেকারণে তিনি হয়েছেন আরো অসাধারণ তা হলো সংস্কৃত এবং ফার্সির ব্যবহার । তিনি একাধারে রবীন্দ্র ,শরৎচন্দ্র আরেকদিকে হাফিজ, রুমির সাহিত্য দ্বারা দারুনভাবে প্রভাবিত ছিলেন । তিনি সাহিত্য গ্রহণ করেছেন নানাজন থেকে অনেককিছু এবং প্রতিদানে দিয়েছেনও অনেক । তাই তাকে কখনো শুনতে হয় সে হিন্দু কবি কিংবা কখনো শুনতে হয় সে মুসলমানের কবি আসলে তিনি ছিলেন সাম্যের কবি, মানবতার কবি ।

কোথাও না কোথাও এই কারণে তিনি তার সম্পূর্ণ প্রাপ্তি আজ পাননি এই ভারতবর্ষে । গোটা ভরত বাদ দেই তাকে কতটুকু গ্রহণ করেছি আমরা । তার চিন্তা তার চেতনা কতটুকু ঘরে রেখেছি আমরা ? যেই বিশাল পরিমণ্ডলে রবি ঠাকুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভারতের সাহিত্য এবং মননের চর্চা সে অর্থে কি আমরা নজরুলকে ব্যবহার করছি ? না আমরা তা পারিনি করতে ব্যর্থ হয়েছি ।

সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের ভিতর কয়জন আছেন যারা জানেন ২৫ শে মে তার জন্মদিন এমনকি এখনকার নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেনা যে তিনি আমাদের জাতীয় কবি। এই লজ্জা কোথায় রাখি বলেন?
আমি অবস্য এই জন্য তাদেরকে দোষ দিব না ,ব্যর্থতা নিতে হবে অপেক্ষাকৃত প্রবীনদের যারা তাকে বানিয়েছেন একদিনের ব্যবসা পণ্য । এই দিনটি ঘিরে তারা শুধু কিছু ভাষণ ও সেমিনার এবং চেনেল ভর্তি কিছু আলোচনা সভা এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই সমাপ্তি টানবেন ।ভএর পর নজরুলও নেই এবং তার সৃস্থিও নেই হারিয়ে যাবে একটি বছরের জন্য ।

সময় এসেছে নজরুলকে সামনে আনার তার সাহিত্যকে ঘিরে জাতীয় সত্তা তৈরী করার … মূলত এতে করে আমাদেরই লাভ কেননা যেখান কাউকে না কাউকে কেন্দ্র করে বিশ্বের সব দেশের সাহিত্য বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে এই অসাধারণ সাহিত্যিকের সৃস্থিকে ঘিরে আমরা এগিয়ে যেতে পারব বহু দূর । কেননা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা বোধয় নেই যেখানে এই মানুষটির পদচারণা ঘটেনি ।

আরেকটি কারণে আজ নজরুলকে খুবই দরকার আমাদের । তারুণ্যের কবি নজরুল তার লিখায় সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখেছেন ,জাগ্রত করেছেন ঘুমন্ত সমাজকে । আজ এক কঠিন সময়ের মধ্যে পার হচ্ছে দেশ আজকে হয়ত আমি স্বাধীন জাতি হয়েছি কিন্তু আমার স্বাধীনতা এখনো আসেনি ,এখনো আমাকে না খেয়ে দিন কাটাতে হয় এখনো বস্ত্রহীন ,ছাদহীন অবস্থায় রোদ , বৃষ্টি, ঠান্ডা সইতে হয় । এখনো শোষকরা শোষণ করছে , এখনো আমি অসহায় আমার দেশে , শুধু কষ্ট হলো এখন আমাদের শাসকরাই আমাদেরকে শোষণ করছে ।

আমাদেরকে এই তিমির রাত ভেদ করতেই হবে ,বীরের মত আমাদের শির উচু করে বাঁচার সময় এসেছে আর নজরুল হতে পারেন আমার পথের প্রদর্শক । যদি সুবাসচন্দ্র বসু চল চল চল এর এর মূর্ছনায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জয়ী হতে পারেন তবে আমরা কেন পারব না আমাদের জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে ।

তবে আসুন সবাই মিলে কবির ১১৩ তম জন্মদিন সফল করি শুধুমাত্র কিছু ভাষণ এবং অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নয় বরং তাকে আমদের বুকে লালন করার মাধ্যমে ।