ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যে মুহূর্তে দেশে রাজনীতির অসুস্থতা দূর করে লেখক, ব্লগার, সাংবাদিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের উচিত নতুন মেধাবী প্রজন্মকে নোংরামী নয় গঠনমূলক রাজনীতির পথে আনা তখন এ ধরনের নোংরামী শুধু রাজনীতির জন্যই না মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতি বিমুখ হবে বাধ্য করবে। কারন কারো ব্যাক্তিগত বিষয় কখনোই রাজনীতির কথায় আসতে পারেনা। এটা আইনের দৃষ্টিতেও গর্হিত কাজ।

টপিক টা খালেদা জিয়া কে নিয়ে। কিন্তু প্রথমে লিখতে হলো একজন সাংবাদিক কে নিয়ে, যিনি আমাদের তরুণ সমাজ না শুধু বিভিন্ন বয়সের বাংলাদেশী কোটি পাঠকের মন জয় করেছেন। কিন্তু উনি কয়েকদিন আগে একটা পোষ্ট দিলেন মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কে নিয়ে। উনি একটা ফটো পোষ্ট করেছেন। বিষয় টা আমার না শুধু তার অনেক ভক্তের ই ভালো লাগেনি। ওনার এই পোষ্ট দেখে মনে হলো যে, উনি হয়তো আঃলীগে নাম লিখিয়েছে। না, আঃলীগ এ নাম লিখালে ও মানুষ এতো টা নোংরামী করতে পারেনা। উনি হয়তো সেই পোষ্ট টি করে তেমন কিছু লিখেন নি। কিন্তু ওনার এই পোষ্ট অনেক অনেক বিকৃতরুচির মানুষ এর কার্যকলাপ কে আরো বিকৃত করেছে। উনি হয়তো বলতে পারেন যে, এই পোষ্টে তিনি তেমন কিছু লিখেননি। কিন্তু উনি কি প্রকাশ করতে চেয়েছেন সেটা মানুষ ঠিক ই বুঝে। ওনার ফটো টি অনেক শেয়ার হয়েছে বিভিন্ন রকম করে। কেউ উনার এই ফটো টি সেভ করে আরো বাজে বাজে কথা লিখে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

আমি তাদের কে দোষ দিবনা। কারণ, এই বিষয়ে কিছু কথা হচ্ছিল। কোন বিষয়ে? ম্যাডাম জিয়ার হজ্জ্ব পালনে বিষয় এবং মোসাদ্দেক সাহেবকে নিয়ে। সেটা ইণ্টারনেটে বিভিন্নজন বিভিন্ন আজে বাজে কথা রটাচ্ছে। ঠিক এই সময় ওনার এমন একটা পোষ্ট এবং সেখানে লিখা “হে আল্লাহ তুমি তাহাদের কবুল করে নাও আল্লাহ–”। উকালতি যুক্তি দিয়ে এটা প্রমাণ করা সম্ভব যে, উনি বলতে চেয়েছেন, বি,এন,পি নেত্রীর দোয়া কবুলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমি যতটুকু বুঝি উনি এটা প্রকাশ করতে চান নি। কারণ, ওনার কথার মাঝে থাকে অনেক বিস্তৃত লক্ষ্য। উনি আঃলীগ পন্থী। আমি ও কিছু টা আওয়ামীপন্থী, এটা অনেকের মন্তব্য। কিন্তু আমি নিজেকে তা মনে করিনা। নিরপেক্ষ ভাবি। কিন্তু আমি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরোধী। এতে আমাকে কেউ আওয়ামী ভাবলে আমি কিছু বলতে পারিনা। বলার দরকার মনে করিনা। কারণ, হয়তো আমি নিজেকে বুঝতে পারিনা। কিন্তু, মানুষের মতামতের উপর ডিপেন্ড করে আমি নিজেকে আঃলীগ পন্থী ই মনে করছি এখন। তাই বলে আমি খালেদা জিয়াকে নিয়ে এই ধরণের বিকৃত কোন কথা বলার মতো উন্নত প্রজাতির হতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রিয় সাংবাদিক সাহেব সেটা পেরেছেন।

এখন যদি আমি প্রশ্ন করি যে, উনি যে বিষয়ে কথা টি বলতে চেয়েছেন, সেই বিষয়ে ওনার কাছে কি প্রমাণ আছে? নাকি উনি ও নিম্ন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন? আর নিরপেক্ষ লেবাস ধরে কেউ যখন দলীয় তাবেদারী করে তখন তারা এলাকার মোড়ে মোড়ে চামচা নেতাদের চেয়েও কয়েক ডিগ্রী নিচে নেমে যায়।

আমি জানি এই লেখাটি পড়ে ওনার ভক্ত রা আমার মুণ্ডু চিবাবে, তবু ও লিখলাম। কিছুই করার নেই। বিষয় টা আমাদের ভালো লাগেনি। খুব লজ্জা পেয়েছি ওনার এই ধরণের একটা পোষ্ট দেখে। কিন্তু, ওনার সেই লজ্জা টা হচ্ছে না। আমাদের হচ্ছে। একটা কথা বলি, বিদেশে থেকে অনেক অনেক অনেক অনেক কথা বলা যায়। আর এখানকার মানুষ মনে করে, ইশ কি সাহসী সাংবাদিক। ভাই, দেশে আসুন। আমরা যেটুকু সত্য কথা বলি, তার সিকি ভাগ সত্য কথা আপনার মুখ থেকে বের হবে না। হয়তো হবে, যতোদিন আঃলীগ ক্ষমতায় আছে। কিন্তু, ৫ সরকারভিত্তিক সাংবাদিক কে আমি কোন সাংবাদিকের শ্রেণীতে ফেলতে পারছিনা। আপনার সাথে আরো কিছু বিষয়ে মতান্তর আছে। যেমন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে। কিন্তু সেটা নিয়ে অনেক তর্ক হতে পারে। কিন্তু, ওনার এই লেখাটি পড়ে সেই তর্ক করার রুচি ও নেই।

বারী ভাই, সৎ সাহস থাকলে বলেন অমুক দল করেন, আর না থাকলে এই ধরনের লুকিয়ে চামচামি বাদ দেন। আমি নিরপেক্ষ আর সুস্থ্য ধারার রাজনীতি চর্চাকে শ্রদ্ধা করি। আর চামচামিকে ঠিক তার উল্টো।

অনুরোধ করছি যে, আমরা কোন রকম প্রমাণ ছাড়া দেশের শীর্ষ নেত্রীদের বিরুদ্ধে কোন কথা না বলি। আর অন্ততঃ কারোর ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করি।