ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ওদের পরিচয় কি? শুধুই কি বি,এন,পি? নাকি বাঙ্গালী? নাকি বাংলাদেশী? আমি আমার বি,এন,পি মনা কোন বন্ধুর স্ট্যাটাসে দেখতে পেলাম না বাচ্চু রাজাকারের রায় এর পক্ষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কোন স্ট্যাটাস। তারা আজো মানবতার কথা বলে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। কেউ বা আছেন এখনো বিশ্বজিৎ কে নিয়ে। তাদের চোখে আজকের দিন টা শোকের। তাদের কাছে আজকের দিন টা ১৬ই ডিসেম্বরের মতোই। তাদের কাছে আজকের দিন টা ৭ই মার্চের মতোই। তারা তো চায় আরেক টা ১৫ই আগষ্ট। আমরা হতে দিব না। কখনোই না।

এক পলাতক আসামী বাচ্চু রাজাকার। তার অনুপস্থিতিতে বিচার হলো, আজ হলো ফাঁসির রায়। আমাদের অনেকের মাঝে তবু ও আনন্দ। কারণ, একজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে ৪১ বছর পর প্রথম রায় হলো। বঙ্গবন্ধু বিচার করে যাওয়ার আগেই হত্যা করা হলো সপরিবারে। এরপর জিয়া সাহেব এলেন। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যেসকল রাজাকার বন্দী ছিলেন, তারা মুক্তি পেলেন। তাহলে জিয়া সাহেবের ক্ষমতায় আসার উদ্দেশ্য টা সহজেই অনুমেয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেয়ে তাদের মুক্তি দেয়া এবং শীর্ষযুদ্ধাপরাধীদের প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য বানালেন উনি। এই ক্ষেত্রে ময়মনসিংহের সাবেক সংসদ সদস্য এ,কে,এম ফজলুল হক এর নাম বলা যায়। বেশী দূরে আর গেলাম না। হান্নান রাজাকারের নাম ও চলে আসে। এমন আরো অনেক রাজাকার আছেন। তারা মুক্তি হলেন কবে? বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর। কেন? জেল খানায় কি জায়গা ছিল না, খাবার ছিল না?

দেশ তো শুনেছি অনেক এগিয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর। তাহলে কেন ওদের কে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হলো? কারণ একটাই দেশ কে পাকিস্তান বানানো আবার সম্ভব না, তাই পাকিস্তানের পদলেহনের মাধ্যমে দেশ কে বাংলাদেশ রূপেই রেখে দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এক মিথ্যা মায়া দেখানো হলো। যাই হোক, জিয়া সাহেব জীবদ্দশায় তাকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী ও করেন নি, এবং জীবত থাকা অবস্থায় তাকে এই উপাধি ও কেউ দেন নি। ওনার মৃত্যু হলো, সেনাবাহিনীর কোন্দলে, সেটা কে পুঁজি করে উনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার তো আর ওনার করা সম্ভব হয় নি, কারণ উনি তো তাদের কে মুক্তি দিয়েছিলেন। এরপর এলেন এরশাদ চাচা। চাচা কি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন? উনি তো যুদ্ধচলাকালীন এক পাকিস্তানী আর্মি দ্বারা পরিচালিত ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন। আর চাচা’র বাড়ী ও কিন্তু বাংলাদেশে নয়। অনেকে বলবেন যে তার বাড়ী ভারতে। হুম। ঠিক। ভারতে। এই দেশের ৯০ ভাগ বিহারীদের বাড়ী ও কিন্তু ভারতে। তারা কিন্তু ভারত যেতে চায় না। ভারত কে কোন সময় সমর্থন করেনা। তাদের মনের মাঝে শুধুই পাকিস্তান। তাই এরশাদ চাচা ও এই বিচারের উদ্যোগ নেন নি।

খালেদা জিয়া এলেন ক্ষমতায়। যিনি স্বামী হত্যার বিচার ই করলেন না, তিনি করবেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার? অসম্ভব! শেখ হাসিনা এলেন। জাতির পিতা হত্যার বিচারের জন্য চেষ্টা চালালেন। হলো কি? বিচারক বিব্রত। আবারো খালেদা জিয়া ক্ষমতায়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা কে ডিপ ফ্রিজে ঢুকানো হলো। বিচারক নেই মামলার জন্য। বিচারক নিয়োগ বন্ধ করা হলো। অসাধারন সিদ্ধান্ত (এই খালেদা জিয়া আবার বঙ্গবন্ধু কে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় বলেন স্বাধীনতার স্থপতি)। খালেদা জিয়া বিদায় নিলেন। এলেন শেষ হাসিনা। ফাঁসিতে ঝুলানোর রায় দিলেন আদালত। হলো ফাঁসি। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা অনেক বাঁড়লো। এখন শেখ হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা কমতির দিকে। ঠিক এমন সময় রায় শুরু হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। আঠারো দলীয় জোট এর বিরুদ্ধে। তারা চায় প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী কারা? হয়তো আমরা।

যাই হোক, এখন সময় টা খুব খারাপ। যদি ওদের বিচার সম্পন্ন না হয়, তবে শেখ হাসিনা কে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে ওদের। আর আমাদের মতো রাম ছাগল গুলো কে তো পথে-ঘাটে মরে পড়ে থাকতে দেখা যাবে। চুপসে যাব? নাকি যুদ্ধ চালিয়ে যাব? আমরা যুদ্ধ চালাবো। আর যারা চুপ থাকবে? তাদের সাথে রাজাকারদের কোন পার্থক্য নেই। যারা এই বিচারের বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের ভূমিকা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই। কার ফাঁসি হবে? আমাদের? নাকি ওদের? শেখ হাসিনার পতন হলে এবং ঐক্যজোট ক্ষমতায় এলে আমাদের ই হবে। আমরা বাঁচতে চাই। শুধু শুধু জীবন দিতে চাই না। তাই আসুন, সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আমাদের কী-বোর্ড এবং মাউস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি তাদের উপর, যারা আমাদের মৃতদেহ কে পথে-ঘাটে কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর পাঁয়তারা করছে।